
গ্লেন হাইওয়েটাও খুব সুন্দর। এই হাইওয়ে ধরে কিছু দূর যাওয়ার পর থেকেই বাঁ দিকে এবং সামনে দূরে দেখা যায় বরফ সাদা পাহাড়। এগুলো সবই দূরে শিপ পর্বতমালার উঁচু শৃঙ্গগুলো। মাথার ওপরে নীল আকাশ, পাহাড়ি আঁকা বাঁকা রাস্তা, সামনে তুষার শুভ্র পর্বতশৃঙ্গ। শুধু অভাব বোধ হচ্ছিল সমুদ্রের।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা প্রকৃতির থেকে যত বেশি পাচ্ছি, তত আমাদের দাবি বেড়ে যাচ্ছে। প্রথমে ঝকঝকে নীল আকাশ চাই। সেটা হলে পরে একটা উজ্জ্বল দিন চাই, মেঘলা হলে চলবে না। সেটা পাওয়ার পরে পাহাড় চাই। আবার শুধু পাহাড় হলে হবে না, তাতে বরফ চাই, সেখান থেকে একটা ঝর্ণা চাই, ঝর্ণার তলায় একটা নদী চাই। সেগুলো সব হয়ে গেলে আবার হিমবাহ চাই। সেটাও যখন হয়ে গিয়েছে তখন আবার একটা সমুদ্র চাইছি।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা প্রকৃতির থেকে যত বেশি পাচ্ছি, তত আমাদের দাবি বেড়ে যাচ্ছে। প্রথমে ঝকঝকে নীল আকাশ চাই। সেটা হলে পরে একটা উজ্জ্বল দিন চাই, মেঘলা হলে চলবে না। সেটা পাওয়ার পরে পাহাড় চাই। আবার শুধু পাহাড় হলে হবে না, তাতে বরফ চাই, সেখান থেকে একটা ঝর্ণা চাই, ঝর্ণার তলায় একটা নদী চাই। সেগুলো সব হয়ে গেলে আবার হিমবাহ চাই। সেটাও যখন হয়ে গিয়েছে তখন আবার একটা সমুদ্র চাইছি।
ধরিত্রী মা আমার ওপরে এখনও তিতিবিরক্ত না হয়ে সব দাবি একটা একটা করে মিটিয়ে চলেছে সেটাই একটা বড় পাওনা। যাই হোক, এই রাস্তায় আমরা আজ যতদূর যাবো তাতে সমুদ্র নেই। তবে এমন রাস্তা আলাস্কায় আছে যেখানে পাহাড় সমুদ্র হিমবাহ সবকিছু রয়েছে একসঙ্গে। সে রাস্তার কথা বলছি খানিক পরে।
আরও পড়ুন:

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৬: একদিকে শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যপট, অন্যদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অনন্য নজির

বিখ্যাতদের বিবাহ-বিচিত্রা, পর্ব-১৭: একাকিত্বের অন্ধকূপ/২: অন্ধকারের উৎস হতে
গ্লেন অ্যালেন থেকে ঘণ্টা দেড় দুই গাড়ি চালিয়ে এসে পৌঁছলাম শিপ পর্বতমালার পাদদেশে। সেখানেই রয়েছে শিপ মাউন্টেন লজ নামের একটা বিলাসবহুল পান্থনিবাস। যাকে আমরা সাধারণ ভাবে বলি রিসর্ট। এখানে এদের শুধু পান্থনিবাসই নেই, বিবিধ রকম প্রমোদ-ভ্রমণের বন্দোবস্তও রয়েছে। এদের হেলিকপ্টারে করেই আমরা যাবো হিমবাহের মধ্যে তৈরি হওয়া হ্রদ দেখতে। পান্থনিবাসটা বিশাল একটা বড় জায়গা নিয়ে বানানো। তার একদিকে ছোট ছোট বিলাসবহুল ঘর। আর তার সামনেই তাদের রেস্তরাঁটা। ওই রেস্তরাঁর মধ্যেই অতিথি অভ্যর্থনার জায়গা বা রিসেপশন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৮: রক্তে ভেজা মাটিতে গড়ে ওঠে সত্যিকার প্রাপ্তি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৩: একটি হিংসা অনেক প্রতিহিংসা, জিঘাংসা, হত্যা এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে সর্বত্র
ওই রেস্তরাঁর পরেই একটা বিরাট বড় মাঠ। সেই মাঠের পাশেই শুরু হয়ে যাচ্ছে শিপ পর্বতমালার অন্তর্গত ছোট ছোট পাহাড়। ওই মাঠের মধ্যেই রয়েছে বেশ বড় আর খুব সুন্দর একটা কাচঘেরা বাগান, অর্থাৎ গ্রিন হাউস। আলাস্কায় যেহেতু প্রচণ্ড ঠান্ডা এখানে শখের গাছপালা বা বাগান সাধারণ ভাবে পরিচর্যা করা যায় না। গ্রীষ্মকালে অনেকে বাড়ির দালানে ছোট ছোট বাগান করে তাতে ফুল ফোটায় বা শখে ফলমূল শাকসব্জি চাষ করে বটে, কিন্তু ঠান্ডা পড়লেই সে বাগান আর থাকে না। সব গাছই মরে যায়। তাই যাঁরা সারা বছর বাগান করতে চান তাঁরা ওই কাচের ঘরে গ্রিন হাউসের মধ্যে বাগান করেন।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৭: শ্রীমার কথায় ‘ঠাকুরের দয়া পেয়েচ বলেই এখানে এসেচ’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৫: সর্বত্র বরফ, কোত্থাও কেউ নেই, একেবারে গা ছমছম করা পরিবেশ
কাচের ঘরে করার কারণ মূলত তিনটে। প্রথমত, এতে হাওয়া ঢোকে না। আলাস্কার ওই হিমশীতল মেরুবায়ু প্রবাহে কোনও গাছই বাঁচতে পারে না। এই ঘর সেই হিমশীতল মেরুবায়ুপ্রবাহ থেকে গাছকে রক্ষা করে। আর দ্বিতীয়ত, সূর্যের আলো যেটুকু সময় থাকে কাচের মধ্যে দিয়ে ঢুকে যেতে পারে। তাতে গাছগুলোর সালোকসংশ্লেষ চলতে পারে ঠিক ভাবে। আর তৃতীয়ত, সূর্যের তাপপ্রবাহ কাঁচের মধ্যে ছোটছোট তরঙ্গাকারে ঢুকে পড়ে গাছের সংস্পর্শে এসে ঠান্ডা হয়ে যায়। আর ঠান্ডা হয়ে গেলেই সেই তাপ-তরঙ্গগুলো বড় হয়ে যায়। তখন আর তারা কাঁচের মধ্যে দিয়ে আর বেরিয়ে যেতে পারে না। তাই তাপমাত্রাও বেশি থাকে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৭: পাতি সরালি

পঁচিশে বৈশাখ
আমার এ সব দেখলেই ছোটবেলার বিজ্ঞান বইয়ের কথা মনে পড়ে যায়। একসময় যেগুলো বইতে পড়েছি, এখন সেগুলো চাক্ষুষ দেখি। তবে সত্যি কথা বলতে মেরুপ্রদেশের শীতকালের চরম ঠান্ডায় শুধু গ্রিন হাউসে ঠান্ডা আটকানো যায় না। আলাদা করে গরম করার যন্ত্র রাখতেই হয়। কিন্তু কাচের ঘরে মধ্যে সূর্যের তাপ আটকে যাওয়ার জন্য যন্ত্র অনেকটাই কম ব্যবহার করতে হয় অন্যান্য ঘরবাড়ির তুলনায়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রিন হাউসগুলোতে দুটো কি তিনটে করে কাচের স্তরও থাকে, তাকে তাপ ধরে রাখার ব্যাপারে আরো কার্যকর বানানোর জন্য। তাছাড়া আরও একটা সমস্যা হল যে এখানে শীতকালে সবসময়েই অন্ধকার। কাজেই একটা বিশেষ আলোর বন্দোবস্তও থাকে যাতে গাছের সালোকসংশ্লেষ চলতে পারে ঠিক ভাবে। —চলবে।
* রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা (Mysterious Alaska) : ড. অর্ঘ্যকুসুম দাস (Arghya Kusum Das) অধ্যাপক ও গবেষক, কম্পিউটার সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কস।


















