
(বাঁদিকে) বাসায় বাচ্চাসহ বাংলার শকুন। (ডানদিকে) ভাগাড়ে এক দল বাংলার শকুন। ছবি: সংগৃহীত।
কোনও ব্যক্তিকে শকুন বললে নিশ্চয়ই এটা গালাগালি বলে রেগে যাবেন। যদিও শকুনের মতো উপকারী পাখি খুব কমই আছে। কাকের মতো এরা হল ঝাড়ুদার পাখি। মৃত জীবজন্তুর মাংস হাড় সবই এদের অন্ত্রে হজম হয়ে যায়। তাই মরা জীবজন্তুর মাংস, হাড় খেয়ে এরা পরিবেশ কলুষমুক্ত রাখে। প্রকৃতই এরা পরিবেশ বন্ধু। শকুন হল চিল, বাজ, ঈগল ইত্যাদির মতো শিকারি পাখি। যদিও শকুন মূলত মৃতদেহ ভক্ষণকারী পাখি তবে কখনও কখনও অর্ধমৃত বা ছোট জীবিত প্রাণীও ভক্ষণ করে থাকে।
ভারতীয় উপমহাদেশে যেসব শকুন দেখা যায় তাদের বলে প্রাচ্যের শকুন বা ‘Old world vultures’। অবশ্য এশিয়ার অন্যান্য এলাকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকাতেও যেসব শকুন দেখা যায় তারা এই ‘Old world vultures’-দের মধ্যেই পড়ে। ভারতে এদের মধ্যে আটটি প্রজাতির শকুন পাওয়া যায়। তবে সুন্দরবনসহ প্রায় গোটা ভারতবর্ষে যে শকুন পাওয়া যায় তা হল সাদা পিঠওয়ালা শকুন বা বেঙ্গল ভালচার (Bengal vulture)। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Gyps bengalensis’। যদিও বললাম যে ভারতবর্ষের প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায় কিন্তু বর্তমানে এই প্রজাতিটি ভারতে অবলুপ্তির মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে।
যেখানে মনুষ্যবসতি রয়েছে তার আশেপাশেই শকুনরা বাসা বাঁধে। আর সাধারণত অনেক শকুনকে এক জায়গায় বাসা বাঁধতে দেখা যায়। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট পক্ষীপ্রেমী অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম লিখেছেন যে তিনি একটা জায়গাতেই শতাধিক বাংলার শকুনের বাসা দেখেছিলেন। যদিও আমি তালগাছে ওদের বাসা দেখেছি তবে বড় বড় বট, অশ্বত্থ, অর্জুন, নিম, শিরিশ ইত্যাদি গাছে ওরা এই দলবদ্ধ বাসা বানায়। আর সেই গাছের শাখায় ও নিচে প্রচুর মল পড়ে জায়গাটা সাদা হয়ে যায়। এরা শুকনো কাঠিকুটি দিয়ে বাসা বানালেও বাসার উপরে থাকে সবুজ পাতার আস্তরণ।
বাসাগুলো দেখতে ঠিক যেন বড় সাইজের লম্বাটে একটা ঝুড়ি। বাসা লম্বায় হয় প্রায় ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি, চওড়ায় ১ ফুট ৪ ইঞ্চি আর গভীরতা হয় ৫.৯ ইঞ্চি। এরা মাটি থেকে গড়ে ৮৭.৭ ফুট উঁচুতে বাসা বাঁধে। বাসা বাঁধার মূল উদ্যোগী পুরুষ শকুন। স্ত্রী শকুন সাধারণত একবারে একটাই ডিম পাড়ে। সাদা রঙের ডিমের ওপর নীলচে সবুজ রঙের ছিট দেখা যায়। এরা সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বাসা বানালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানুয়ারি হল এদের প্রজনন মাস। স্ত্রী শকুন ৩০ থেকে ৩৫ দিন ডিমে তা দেওয়ার পর ধূসর রঙের নরম পালকযুক্ত বাচ্চা বেরিয়ে আসে। যদি কোনও কারণে ডিম নষ্ট হয়ে যায় তাহলে স্ত্রী শকুন পুরো বাসাটাকেই নষ্ট করে দেয়। যাইহোক বাচ্চা জন্মানোর পর বাবা ও মা শকুন ছোট ছোট মাংসের টুকরো এনে বাচ্চাকে খাওয়ায়। প্রায় তিন মাস এইভাবে বাচ্চারা বাবা-মায়ের কাছে পালিত হয়। বাংলার শকুন প্রায় ১০-১২ বছর বাঁচে।

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১২: দাঁড়কাক

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৬: বরুণজাতক: অলস মস্তিষ্কের গল্প

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৭: রবীন্দ্রনাথের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ, ‘চোখের বালি’ নাকি চুরি করে লেখা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৭: আঁধারে ছিল আগন্তুক?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

(বাঁদিকে) বাংলার শকুনের বাসা। (ডানদিকে) মৃত পশুর মাংস ভক্ষণরত বাংলার শকুন। ছবি: সংগৃহীত।

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৫: আজও আধুনিক সমাজ রাজা দুষ্মন্তের তঞ্চকতা এবং দ্বিচারিতার দূষণমুক্ত নয়

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে
অবশ্য আর এক দল বিজ্ঞানীর মতে, সাদা পিঠওয়ালা শকুনদের স্বাভাবিক বিশ্রামের ভঙ্গি হল মাথা নোয়ানো। সুতরাং ভাইরাসঘটিত রোগ নয় বরং খাদ্যে বিষক্রিয়া শকুনের গণবিলুপ্তির অন্যতম কারণ। কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার দূষিত পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি শকুনের প্রজননক্ষমতাকে বিঘ্নিত করেছে। আবার মৃত শকুনের অটোপসি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ওইসব শকুন পক্ষি-বাত কিংবা বৃক্কের সমস্যায় ভুগছিল। পাখিদের ক্ষেত্রে সাধারণত জলাভাবে বৃক্কের সমস্যা হয়। কিন্তু শকুনদের জলাভাব হয়েছে এমনটা প্রমাণিত হয়নি। আর তাই শকুনের ব্যাপক বিলুপ্তির প্রকৃত কারণ এখনও রহস্যাবৃত।

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
“মাঠ থেকে মাঠে-মাঠে—সমস্ত দুপুর ভ’রে এশিয়ার আকাশে-আকাশে
শকুনেরা চরিতেছে; মানুষ দেখেছে হাট ঘাঁটি বস্তি; নিস্তব্ধ প্রান্তর
শকুনের; যেখানে মাঠের দৃঢ় নীরবতা দাঁড়ায়েছে আকাশের পাশে।
আরেক আকাশ যেন—সেইখানে শকুনেরা একবার নামে পরস্পর
কঠিন মেঘের থেকে;”



















