মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

প্রয়াত জ়ুবিন গার্গ। ছবি: সংগৃহীত।

সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গ প্রয়াত। সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গায়ককে সমুদ্র থেকে সিঙ্গাপুর পুলিশ। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সঙ্গীতশিল্পীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
সিঙ্গাপুরে ‘নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এ যোগ দিতে গিয়েছিলেন বিখ্যাত গায়ক। শুক্রবারই পারফর্ম করার কথা ছিল তাঁর। সূত্রের খবর, তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গায়কের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। দুঃখপ্রকাশ করেছেন সঙ্গীতপরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সিঙ্গাপুরের ‘নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এ পারফর্ম করার কথা ছিল গায়কের। কিন্তু পারফরম্যান্সের আগেই ঘটল দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ

গত মে মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল গায়ককে। সেই সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু বরুয়া বলেন, “জুবিন বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর ও সর্দিতে ভুগছিলেন। অসুস্থতা নিয়েই বুধবার রাতে তিনি নতুন অসমীয়া ছবি ‘ভাইমন দা’-এর প্রিমিয়ারে ছিলেন। প্রিমিয়ার শোতে থাকাকালীন তিনি আচমকাই পেটে ব্যথা অনুভব করেন ৷ তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি আগের থেকে ভালো আছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি গায়ককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে ৷”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

‘ইয়া আলি’, ‘দিল তু হি বতা’, ‘পিয়া রে পিয়া রে’, ‘মন মানে না’-র মতো অসংখ্য সফল গান রয়েছে জুবিনের তালিকায়। শুধু অসমই নয়, বাংলা ও বলিউডও তাই শোকাচ্ছন্ন শিল্পীর মৃত্যুতে।

বিনোদনদুনিয়ায় শোকের ছায়া। শুক্রবার দুপুরে দুঃসংবাদ। সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের। ২০০৬ সালের ‘ইয়া আলি’ গান তাঁকে খ্যাতি এনে দিয়েছিল। প্রায় দুই দশক পরে, আজও সেই গান সমান জনপ্রিয়। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে জুবিনের এই মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছে না অনুরাগীরা।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল

১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর মেঘালয়ের তুরা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। অসমিয়া আর বাংলা ছাড়া বলিউডের জন্যও অনেক গান গেয়েছেন জ়ুবিন। শিল্পীর বাবা মোহিনী বরঠাকুর পেশায় ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। সেই সঙ্গে ‘কপিল ঠাকুর’ ছদ্মনামে গান ও কবিতা লিখতেন তিনি। জুবিনের মা ইলি বরঠাকুর ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। তিন বছর বয়স থেকে গান গাইতে শুরু করেন জুবিন। মায়ের কাছেই প্রথম গান শিখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর তবলার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি।

তবলার পাশাপাশি গিটার, ড্রাম, হারমোনিয়াম-সহ মোট ১২টি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শিখেছিলেন জুবিন। অহমিয়া-সহ ৪০টি ভাষায় গান গাইতে পারদর্শী ছিলেন জুবিন। ২০০৬ সালে বড় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। অনুরাগ বসুর পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘গ্যাংস্টার’। এই ছবিতে ‘ইয়া আলি’ গানটি গেয়ে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন জুবিন।

তামুলপুর হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পাস করেন জুবিন। এর পর বি. বরুয়া কলেজে বিএসসি নিয়ে ভর্তি হন। তবে গানে মন দিতে পড়াশোনা ছাড়েন। ২০২৪ সালে মেঘালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সাম্মানিক ডক্টর অফ লিটারেচার (ডি. লিট) ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

২০০২ সালেই অসমের এক পোশাকশিল্পী গরিমা শইকীয়াকে বিয়ে করেন জুবিন। সূত্রের খবর, বহু বছর ধরে অসমের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত গায়ক ছিলেন জুবিন। ১৯৯৫ সালে মুম্বই পাড়ি দেন। বলিউডে কর্মজীবন তৈরি করাই ছিল লক্ষ্য। সেখানেই প্রথম নিজের ইন্ডিপপ অ্যালবাম বার করেন জুবিন, নাম ‘চাঁদনি রাত’। একের পর এক কাজ করতে থাকেন তিনি, আসতে থাকে সাফল্য।

অসমের ডিগবয় শহরে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরি হয়। ২০২২ সালে নিজেই সেই মূর্তি উন্মোচন করেন গায়ক। ওই বছরই ডিব্রুগড়ের এক রিসর্টে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছিলেন জুবিন। স্থানীয় নার্সিংহোমে ভর্তি করানোর পর সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে গুয়াহাটির হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেই বিপদ কাটিয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু, তিন বছরের মাথায় মিলল দুঃসংবাদ।

গায়কের বোন জংকী বরঠাকুরেরও মৃত্যু হয়েছিল দুর্ঘটনায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অভিনেত্রী-গায়িকা জংকীর। তিনিও অনুষ্ঠান করতেই যাচ্ছিলেন তখন। দাদা জ়ুবিনও অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content