কলকাতায় বৃষ্টি

প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। যাঁর অভিনয় একসময় বাংলা ছবির পর্দায় তৈরি করেছিল নিজস্ব এক ঘরানা। মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনের শেষ অধ্যায় কাটল লোকচক্ষুর আড়ালে। শেষমেশ ক্যান্সারে সঙ্গে লড়াই থামল অভিনেত্রীর জীবন। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ‘কলকাতার রেখা’। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১।
‘বেশ করেছি, প্রেম করেছি, করবোই তো… রাধার মতো মরতে হল.. মরবোই তো’। অভিনয়ের পাশাপাশি, ৯০-এর দশকের যে সব নায়িকাদের আবেদনে মুগ্ধ ছিল দর্শক, মিঠু মুখোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। অভিনেত্রীকে বলা হত, ‘কলকাতার রেখা’। ১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির হাত ধরে মিঠু মুখোপাধ্যায় অভিনয়ে পা রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

মিঠু প্রথম ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন সমিত ভঞ্জের সঙ্গে। তবে অভিনেত্রীর কেরিয়ারের সেরা ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল, ‘মৌচাক’। রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে একাধিক ছবিতে সফল জুটি বেঁধেছিলেন মিঠু। ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ থেকে শুরু করে ‘নিশিকন্যা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় বারে বারে দর্শককে মুগ্ধ করেছে। অবশেষে থেমে গেল অভিনয়ের সফর। প্রয়াত হলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন রুপোলি পর্দা থেকে দূরে সরে এসেছিলেন। সুচিত্রা সেনের পরে, তিনিই সেই নায়িকা যিনি নিজেকে রুপোলি পর্দা থেকে কার্যত আড়ালে রেখেছিলেন নিজেকে। মিঠু কলকাতার বাসিন্দা। তিনি তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাড়িও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। জীবনের শেষের দিকে মিঠু মুখোপাধ্যায় মুম্বইতেই থাকতেন।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

অভিনেত্রী মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। জানা গিয়েছে, অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। জীবনের শেষদিকে তিনি আর প্রচারের আলোয় আসতে চাইতেন না। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তেমন যোগাযোগ ছিল না। জীবনের শেষ প্রান্তে, মুম্বইতে থাকতেই প্রয়াত অভিনেত্রী। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে জীবনাবসান ঘটে কিংবদন্তি অভিনেত্রীর।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১৯ জুন। তাঁর অভিনয়ের যাত্রা শুরু চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে। ১৯৭১-৭২ সালের এই ছবিতে সামিত ভঞ্জর বিপরীতে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। এরপর দীনেন গুপ্তর ‘মর্জিনা আবদুল্লাহ’ তাঁকে রাতারাতি পরিচিত মুখ করে তোলে। আলি বাবার বুদ্ধিমতী সহচরী মর্জিনার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে। বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও সমানভাবে কাজ করেছেন তিনি। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ত। দুই দশকের অভিনয় জীবনে তিনি কাজ করেছেন উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কাপুর, বিনোদ মেহরার মতো তাবড় তাবড় অভিনেতাদের সঙ্গে। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি দর্শকমনে রয়ে যাবে আজীবন।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content