
ছবি: প্রতীকী।
আগেই নিম্নচাপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। আপাতত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর সেই নিম্নচাপ সুস্পষ্ট আকার নিয়ে অবস্থান করছে। এই নিম্নচাপ ধীরে ধীরে আরও ঘনীভূত হয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে এই নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে আরও সুস্পষ্ট আকার নিয়েছে নিম্নচাপ। হাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সাগর দ্বীপ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে নিম্নচাপ অবস্থান করছে। দিঘা থেকে নিম্নচাপ এখনও ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, পারাদ্বীপ থেকে ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর পূর্বে অবস্থান করছে। আবার বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে নিম্নচাপের দূরত্ব ২১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিম।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৯: সারদা মায়ের রোগ নিরাময়ের প্রচেষ্টা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৬: বিপদে মোরে রক্ষা করো
আগামী কয়েক ঘণ্টায় নিম্নচাপ ক্রমশ উত্তর দিকে এগিয়ে পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাগর দ্বীপ এবং খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে নিম্নচাপের স্থলভাগে প্রবেশ করার কথা। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সে সব জায়গায় ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। আবার কলকাতায় কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টি হলে ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এই একই আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার জন্যও। বাকি জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হবে। শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পর থেকে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হবে বলে হাওয়া দফতর জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৭: রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিলেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ চলবে। শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে প্রবল বর্ষণ হতে পারে। তাই আলিপুরদুয়ারে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং কোচবিহারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহেও ভারী বৃষ্টি চলবে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় বইতে পারে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৯: সময় বুঝে প্রত্যাঘাতের জন্য রাজনীতিতে অনেক সময় পিছিয়েও দাঁড়াতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৫: অগ্নির কি শুধুই দহনজ্বলা? মহর্ষি মন্দপালের অগ্নিস্তুতিতে অগ্নির কোন সদর্থকতার ইঙ্গিত?
হাওয়া দফতর উপকূলবর্তী এলাকায়গুলিতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তর এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গে এবং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্রও উত্তাল থাকবে। হাওয়া দফতর মৎস্যজীবীদের ২৮ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে।
আরও পড়ুন:

গীতা: সম্ভবামি যুগে যুগে, পর্ব-২৩: বন্ধু হে আমার…

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু
বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি, অর্থাৎ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসকম। বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ছিল ৩১.৪ ডিগ্রি, অর্থাৎ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসকম। ইতিমধ্যে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা ঢোকেনি। হাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে
বাংলায় বর্ষার আগমন কবে নাগাদ হবে।
বাংলায় বর্ষার আগমন কবে নাগাদ হবে।

















