শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কলকাতায় রাত প্রায় সাড়ে ১১টা। ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ চাঁদ ঢেকে গিয়েছে। চাঁদের রং একটু একটু করে লাল হতে শুরু করেছে। রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলবে।

ভারতীয় সময় ৮টা ৫৮ মিনিটে শুরু হয় চন্দ্রগ্রহণের প্রাথমিক বা পেনাম্ব্রাল পর্যায়। ৯টা ৫৭ মিনিটে চাঁদের আংশিক গ্রহণ শুরু হইয়ে জায়। ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে উঠে চাঁদের রং। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত ১১টায়। ১১টা ৪২ মিনিটের পর থেকে তা সব থেকে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

আকাশে জ্বলজ্বল করবে রক্তবর্ণ চাঁদ। আবার কখনও সখনও ফ্যাকাশে হবে। ভারত-সহ পৃথিবীর একাধিক দেশ থেকে এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। আগামী রবিবার রাত ৯টা থেকে গভীর রাত (ভারতীয় সময়) পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। এর মধ্যে এক ঘণ্টা ২২ মিনিট (৮২ মিনিট) ধরে হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহু বছর পরে এত দীর্ঘ সময় ধরে চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। এ রকম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে খুব শীঘ্র আর দেখা যাবে না। এর জন্য আমাদের অন্তত তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে।

আকাশের দিকে চোখ রাখলেই চাঁদের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চাক্ষুষ করা যাবে। আর এই সেপ্টেম্বরেই সেই সুযোগ পাওয়া যাবে। আবাক করা ওই লাল রঙের চাঁদ ৮২ মিনিট ধরে দেখা যাবে। যদিও চন্দ্র গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকবে। এর ফলে আকাশে লাল রঙের চাঁদ দেখা যাবে। যা ‘ব্লাড মুন’ নামেও পরিচিত। এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ৭-৮ সেপ্টেম্বর রাতে।
আমরা সবাই জানি যে, চাঁদের নিজস্ব কোনও আলো নেই। চাঁদের উপর সূর্যের আলো পড়ে। তাই আমরা তাকে দেখতে পাই। আবার পৃথিবী যদি চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে কখনও চলে আসে তাহলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। পরিবর্তে পৃথিবীর ছায়া এসে পড়ে চাঁদের উপরে। আর তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। আগামী ৭ এবং ৮ সেপ্টেম্বর যে চন্দ্রগ্রহণ হবে, তা দীর্ঘ ক্ষণ ধরেই চলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এত ক্ষণ ধরে আগে কখনও চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, বিশেষ বিশেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণকে কখনও কখনও ‘ব্লাড মুন’-ও বলা হয়ে থাকে। এর কারণ হল, চন্দ্র গ্রহণের ফলে চাঁদের রং তখন লাল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৪: ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্থ অতীতের ত্রিপুরা নিয়ে গবেষণার দিশারী

চন্দ্রগ্রহণ কোথা থেকে দেখা যাবে?

এই চন্দ্রগ্রহণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা থেকে দেখা যাবে। আবার ভারতের প্রায় সব শহর থেকেই সে দিনের গ্রহণ দেখা যাবে। এই গ্রহণ স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, পুণে, লখনউ, হায়দরাবাদ, চণ্ডীগড় থেকে। তবে আবহাওয়া অবশ্যই অনুকূল থাকলে তবেই দেখা হবে।
 

কী ভাবে দেখতে হবে?

চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কোনও বিশেষ চশমার প্রয়োজন দরকার হয় না। খালি চোখেই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। গ্রহণের সময়ে চাঁদ সাধারণত ফ্যাকাশে থাকে। সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের সমস্যা হলেও চাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা। সূর্যের আলো চাঁদের গায়ে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়েই। আবার চাঁদের গা থেকে সেই আলো প্রতিফলিত হয়। তার পরে আমাদের চোখে পড়ে, তাই আমরা চাঁদকে দেখতে পাই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের কোনও রকম সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। রবিবার রাতে অন্ধকার জায়গায় থেকে আকাশে খালি চোখে তাকালেই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।

আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

কখন থেকে গ্রহণ দেখা যাবে?

গ্রিনিচ সময় বা ইউনিভার্সাল টাইম কোঅর্ডিনেট (ইউটিসি) অনুযায়ী আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেল ৩টে ২৫ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে। ভারতে তখন রবিবার রাত ৮টা ৫৮ মিনিট। ইউনিভার্সাল টাইম কোঅর্ডিনেট (ইউটিসি) অনুসারে ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে শেষ হবে সেই গ্রহণ। ভারতে তখন ৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাত ২টো ২৫ মিনিট। এর মাঝে চাঁদের রং লাল হয়ে উঠবে। ভারতে লাল রঙের চাঁদ দেখা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ১১টা থেকে ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত। প্রায় ৮২ মিনিট সময় ধরে দেখা যাবে। ওই সময়ে চাঁদের রং থাকবে একেবারে টকটকে লাল। এই চন্দ্রগ্রহণ দীর্ঘ ক্ষণ ধরে চলবে।
 

কী ভাবে দেখতে হবে?

চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। খালি চোখেই দেখা যায় গ্রহণ। গ্রহণের সময়ে চাঁদ থাকে ফ্যাকাশে। সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের সমস্যা হয়। কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে চাঁদে পড়ে। সেখান থেকে সেই আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে বলেই আমরা চাঁদকে দেখতে পাই। তাই চন্দ্রগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে চোখের কোনও সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। রবিবার রাতে কোনও অন্ধকার জায়গায় দাঁড়িয়ে খালি চোখে আকাশে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ।

আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৯: শকুন্তলারা আজও আছেন

রাহুর গ্রাসে চন্দ্রগ্রহণ?

অতীতে ধারণা ছিল, ‘রাহু’ নামে এক রাক্ষস আছে। সে চাঁদ বা সূর্যকে গিলে ফেলে। তাই কখনও সখনও সূর্য এবং চাঁদ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। তবে ওই রাক্ষসের গলা কাটা, তাই তারা গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসে। এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিরামহীন ভাবে সত্য তুলে ধরলেও মানুষের মনে সংশয় থেকে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় লিখেছিলেন, গ্রহণ কেন হয়, এ নিয়ে তিনি ছাত্রদের ক্লাসে পড়িয়েছেন। ছাত্রেরা পরীক্ষায় পাশ করেছে। তার পরও তারা চন্দ্রগ্রহণ হলে ঢাকঢোল বাজিয়েছে!
 

গ্রহণ কি সবার দেখতে নেই?

চন্দ্রগ্রহণ দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। চন্দ্রগ্রহণ দেখে কারও ক্ষতি হয়েছে এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওা যায়নি। বরাবরই মনগড়া বিশ্বাস মানুষকে ভুল পথে চালিত করে। তাই নিশ্চিন্তে সবারই আজ রবিবারের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা উচিত।
 

সন্তানসম্ভবাদের চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বারণ?

এ ক্ষেত্রেও এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সন্তানসম্ভবারা গ্রহণ দেখলে খারাপ কিছু হয়।
 

চন্দ্রগ্রহণের সময় খেতে নেই?

চন্দ্রগ্রহণ এবং সূর্যগ্রহণ প্রাকৃতিক বিষয়। বিশ্বজুড়ে কারও কারও মনে চন্দ্রগ্রহণ এবং সূর্যগ্রহণকে নিয়ে নানা চিন্তাভাবনা রয়েছে। কিন্তু সে সবের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। গ্রহণের সময়ে খাওয়াদাওয়া উচিত নয়, এও বিজ্ঞানসম্মত নয়। আবার সূর্যগ্রহণের সময় নাকি সূর্য ঢাকা পড়লে খেতে নেই। সবাই রাতেই খাওয়াদাওয়া করেন। কারণ তখন আকাশে সূর্য থাকে না। চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে অনেকে খাওয়া-দাওয়া করেন। যদিও চন্দ্রগ্রহণ এবং সূর্যগ্রহণের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করার কোনও সম্পর্কই নেই। কেবলই কুসংস্কার ছাড়া অন্য কিছু নয়।

আরও পড়ুন:

টিচার্স ডে

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

কেন চাঁদ লাল হয়ে উঠবে?

চাঁদ এবং সূর্যের ঠিক মাঝখানে যখন পৃথিবী চলে আসে, তখন তার ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। আর সে সময়ই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়। তখন কিন্তু চাঁদ সম্পূর্ণ ভাবে কালো হয় না। পরিবর্তে অদ্ভুত ভাবে লাল হয়ে ওঠে। সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী চলে আসায় সূর্যের রশ্মি ধাক্কা খায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। মজার বিষয় হল, এই বায়ুমণ্ডল আবার ছোট তরঙ্গ (নীল এবং বেগুনি)-কে ছেঁকে নেয়। আর কেবল দীর্ঘ (লাল ও কমলা) তরঙ্গই গিয়ে চাঁদে পৌঁছোয়। আর সেই সময়ই চাঁদকে লাল দেখায়।
 

আবার কবে ভারত থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে?

এর পরে ভারত থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেই চন্দ্র গ্রহণের জন্য অনেক দিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content