
সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় প্রয়াত।
সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় প্রয়াত। বর্ষীয়ান এই সাহিত্যিক দীর্ঘ দিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে গত কয়েক মাস ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ওই হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে প্রফুল্ল রায়ের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
সাহিত্যিকের ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে প্রফুল্ল রায়ের বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা বেড়েছিল। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। যদিও ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠছিল। সাহিত্যিকের বড় সমস্যা ছিল শ্বাসকষ্ট। শেষমেশ ওই হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৮: সত্যনিষ্ঠতার মাপকাঠি কী নাস্তিকতার নিরিখে বিচার্য?

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০২: শ্রীমার অন্তিম সময়কালীন ভবিষ্যবাণী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা
বাংলা সাহিত্যে প্রফুল্ল রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। লেখকের কয়েকটি জনপ্রিয় উপন্যাস হল, ‘কেয়া পাতার নৌকো’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’, ‘নোনা জল মিঠে মাটি’। পরে ‘কেয়া পাতার নৌকো’র কাহিনি অবলম্বনে বাংলা ধারাবাহিক তৈরি হয়েছিল। এই ধারাবাহিক বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। প্রফুল্ল রায়ের লেখা গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল ‘বাঘ বন্দী খেলা’ ছবি। এতে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার।
লেখক ‘আকাশের নেই মানুষ’ উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘ক্রান্তিকাল’ উপন্যাসের জন্য ২০০৩ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি।। সাহিত্যিক তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে অনেক ছোটগল্প লিখেছেন। তাঁর লেখা গল্প ও উপন্যাস বিভিন্ন সময়ে পাঠকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।
লেখক ‘আকাশের নেই মানুষ’ উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘ক্রান্তিকাল’ উপন্যাসের জন্য ২০০৩ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি।। সাহিত্যিক তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে অনেক ছোটগল্প লিখেছেন। তাঁর লেখা গল্প ও উপন্যাস বিভিন্ন সময়ে পাঠকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর
প্রফুল্ল রায়ের জন্ম ১৯৩৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে। ১৯৫০ সালে তিনি সপরিবারে ভারতে চলে আসেন। বেশ কিছু দিন তিনি নাগাল্যান্ডেও ছিলেন। লেখকের প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ‘পূর্ব পার্বতী’। নাগাল্যান্ডে থেকেই ১৯৫৬ সালে ‘পূর্ব পার্বতী’ প্রকাশিত হয়েছিল। গল্প এবং উপন্যাস মিলিয়ে দেড়শোর বেশি সৃষ্টি রয়েছে লেখকের। দেশভাগের যন্ত্রণা, উদ্বাস্তুদের কথা তাঁর বিভিন্ন লেখায় ফুটে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলার সাহিত্যমহল।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২০: রবীন্দ্রনাথ আশ্রমের একমাত্র তাঁকেই প্রণাম করতেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা
‘কেয়া পাতার নৌকো’ (২০০৩), ‘শতধারায় বয়ে যায়’ (২০০৮), ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ (২০১৪), ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ (বাং ১৩৬৬) ইত্যাদি উপন্যাস লেখকের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। বিভিন্ন সময়ে প্রফুল্ল রায়ের লেখা গল্প ও উপন্যাস অবলম্বনে বেশ কিছু টেলিফিল্ম, টেলি-ধারাবাহিক, সিনেমা তৈরি হয়েছে। সেগুলির মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য: ‘এখানে পিঞ্জর’ (১৯৭১), ‘বাঘবন্দি খেলা’ (১৯৭৫), ‘মোহনার দিকে’ (১৯৮৪), ‘আদমি আউর আউরত’ (১৯৮৪), ‘একান্ত আপন’ (১৯৮৭), ‘চরাচর’ (১৯৯৪), ‘টার্গেট’ (১৯৯৭), ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ (২০০৩), ‘ক্রান্তিকাল’ (২০০৫) ইত্যাদি।


















