প্রিয় রামের কাছে দেবী কৌশল্যা তাঁর সমস্ত দুঃখ, ক্ষোভ উজার করে দিলেন। তিনি সেই মুখরা, নিত্য কলহরতা, তিক্তবচনে অভ্যস্তা কৈকেয়ীর মুখোমুখি হবেন কী করে? তিনি রামের সপ্তদশ বছর বয়স অবধি এই দুঃখমুক্তির অপেক্ষায় দিন গুণেছেন এতকাল।
প্রিয় রামের কাছে দেবী কৌশল্যা তাঁর সমস্ত দুঃখ, ক্ষোভ উজার করে দিলেন। তিনি সেই মুখরা, নিত্য কলহরতা, তিক্তবচনে অভ্যস্তা কৈকেয়ীর মুখোমুখি হবেন কী করে? তিনি রামের সপ্তদশ বছর বয়স অবধি এই দুঃখমুক্তির অপেক্ষায় দিন গুণেছেন এতকাল।
পাণ্ডবমাতা কুন্তীর প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ছিল ধৃতরাষ্ট্রের উক্তিতে। পরে সেই একই ধৃতরাষ্ট্রের রাতের ঘুম কেড়ে নিল, পঞ্চপাণ্ডবের সাফল্য। সর্বোত্তম বলশালী ভীম এবং সর্বাস্ত্রনিপুণ অর্জুন, দুর্যোধনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠলেন।
প্রাসাদের অন্তঃপুরে কী দেখলেন রাম? শুকনো মুখে দীন হীনের মতো পিতা দশরথকে, বিষন্নতা যেন ঘিরে রেখেছে তাঁকে। রানি কৈকেয়ীও আছেন সেখানে। সবিনয়ে পিতা ও মাতার পাদবন্দনা করলেন রাম।
নৈমিষারণ্যে, মহর্ষি শৌনক আয়োজিত, দ্বাদশবর্ষব্যাপী যজ্ঞে, আগত সৌতি উগ্রশ্রবা, কথকঠাকুর। মুনিঋষিদের অনুরোধে, মহাভারতের বিচিত্র আখ্যান উপাখ্যান বর্ণনা করে চলেছেন তিনি।
ভাবি রাজা রামচন্দ্রকে,তাঁর ভয়।সংজ্ঞাহীন, ভূমিশয্যায় শায়িত, রাজার দীনদশা রানীর মনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করল না। এ মানসিক দ্বন্দ্ব দু’জনেরই। রাজা ও রানির, সন্তানস্নেহের টানাপোড়েনের সংঘাত।
রাজা সৈন্যবল দ্বারা দমননীতি অর্থাৎ দণ্ডনীতির প্রয়োগে শত্রুর মোকাবিলায় তৎপর থাকবেন। তিনি হস্তী,অশ্ব,রথ ও পদাতিক সৈন্যবলরূপ বাহিনীকে প্রচ্ছন্ন রাখবেন। নিজের বিবর অর্থাৎ ত্রুটি গোপন রাখবেন।
পুত্রবৎসল, পত্নীর অনুগত,প্রজাসহায়, পরাক্রমী, বিশাল সাম্রাজ্যের অধীশ্বর, রাজা দশরথ আজ দ্বন্দ্বদীর্ণ। তিনি এক নারীর কৃপাপ্রার্থী হয়েছেন,যে নারী তার অতি প্রিয়পত্নী। তাঁর দুটি পা ধরে কাতর প্রার্থনা তাঁর, অন্যায় আবদারটি যেন রানি ফিরিয়ে নেন।
ক্ষত্রিয়রাজাদের বংশবৃদ্ধির ইতিহাসে কুরুবংশবৃদ্ধির কাহিনিটি এক অনবদ্য সংযোজন। কুরুবংশরক্ষায় মহাভারতস্রষ্টা মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাসের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাজা, রানির ক্রোধোদ্রেকের কারণ এমন কোন কাজতো করেননি।কেন রানির এই অকারণ ক্রোধ? কেউ কী অপবাদ দিয়েছেন তাঁকে? তাহলে কেউ নিশ্চয়ই তাঁর অপমানের কারণ।
ভরতবংশীয় কুরুপাণ্ডবদের অস্ত্রশিক্ষা সম্পন্ন হল। বৎসরকাল পরে, ধৃতরাষ্ট্র, যুধিষ্ঠিরকে, যুবরাজপদে অভিষিক্ত করলেন। ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন জন্মান্ধ। তাঁর মায়ের কারণে এই দৃষ্টিহীনতা।
রামের রাজ্যাভিষেকের আনন্দমুখর অযোধ্যা নগরী। নানা দিক থেকে জনসমাগমে পরিপূর্ণ নগরীর রাজপথ। সুসজ্জিতা অযোধ্যা নগরী আনন্দোচ্ছ্বাসে মুখর।
কুরুপাণ্ডবকুমাররা এখন অস্ত্রবিদ্যায় সুশিক্ষিত। অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন যথোপযুক্ত নিষ্ঠায়। এবার গুরুদক্ষিণাদানের সময় আসন্ন। দক্ষিণাপ্রাপ্তির বিষয়ে কী কোন পরিকল্পনা কার্যকর করবার ইচ্ছা ছিল গুরুর মনে?
পুরবাসীরা সানন্দে দশরথপুত্র রামচন্দ্রের যৌবরাজ্যে অভিষেকের প্রস্তাবে অকুন্ঠিতচিত্তে সম্মতি জানালেন। অযোধ্যারাজ দশরথ, তাঁর মনোগত অভিপ্রায়ের সমর্থনে, প্রজারা সহমত জেনে, মন্ত্রীদের পরামর্শক্রমে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবে রূপায়ণে মনোযোগী হলেন।
আচার্য দ্রোণের প্রশিক্ষণে কুরুপাণ্ডবরা অস্ত্রবিদ্যায় কুশলী হয়ে উঠলেন। আচার্যের শিক্ষা সার্থক কিনা, এবার পরীক্ষা আবশ্যক। মহারাজা ধৃতরাষ্ট্রের কাছে আবেদন দ্রোণাচার্যের।
রামচন্দ্র একাধারে রাজগণের দুর্লভ গুণাবলীর আধার আবার লৌকিক প্রসিদ্ধ গুণেও অতুলনীয়। পিতা রাজা দশরথ মন্ত্রীগণের কাছে রামচন্দ্রকে যৌবরাজ্যে অধিষ্ঠিত করবার অভিলাষ ব্যক্ত করলেন।