
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
এমন বর্ষার দিনে তাঁরা আসেন। আসেন রথে চড়ে। দুপাশে জগন্নাথ আর বলরাম, মাঝে সুভদ্রা বোনটি। এসবের দার্শনিক ব্যাখ্যা শাস্ত্রের পাতায় পাতায়। পণ্ডিতরা রথ আর দেহকে অভিন্ন মানেন, রথের ঘোড়াগুলো নাকি পাঁচটি ইন্দ্রিয়, এছাড়াও রথী-সারথির তত্ত্ব পৌঁছবে জীবাত্মা পরমাত্মায়, পৌঁছবে কুরুক্ষেত্রের মহারণাঙ্গনে। মেলায় যাওয়ার আনন্দ কিংবা সুখের মাঝেও তাঁকে দেখি। অণু হয়েও বিরাট, স্থানু হয়েও সর্বত্রগামী দারুব্রহ্ম তিনি। মেলা ভাঙার, খেলা ভাঙার, ভাঙা দিনের ঢেলার দুঃখেও তিনি প্রাণের মাঝে বেজে ওঠেন।
আজ রথযাত্রা। সূর্যের আপাতঃ বার্ষিক গতি, জগতের সচল মহাযাত্রার প্রতীক রথ, জগন্নাথ কিংবা নারায়ণ, বিষ্ণু কিংবা কৃষ্ণের সংশ্লেষ-সংযুক্তির তত্ত্বভারে “পথের ধারের রথের মেলা”র খুব একটা এসে যায় না।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা পর্ব-১৬৮: রামায়ণে পরস্ত্রীহরণের সিদ্ধান্তে বীরত্বের প্রকাশ নেই, আছে অনেক মৃত্যুর আবাহনবার্তা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৬ : উত্তরায়ণ

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৫ : শেষের খুব কাছে
দেব জগন্নাথ তাঁর অগ্রজ এবং ভগিনীকে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন গন্তব্যে। ভক্তদল টান দিয়েছে রশিতে। রথে তু বামনং দৃষ্ট্বা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে। রথের রশিতে টান পড়লে দুঃখ সুখের চক্রবত্ ঘূর্ণিপাকের এই চরাচর জগতের যা কিছু সুখের কিংবা শোকের, ত্যাগের কিংবা মোহের, সকল কিছু থেকে দূরে, আরও দূরে চলে যাওয়ার একটা প্রশস্ত পথ খুলে যায় সামনে। সে পথ অনন্তে মেশে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৪ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৩

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৩
আজ পথ জনাকীর্ণ। গাড়ি-ঘোড়ার ভিড়, আগত পুণ্যার্থীর ঠেলাঠেলি, চিনি-কলার হাঁকডাকের মাঝে রথ এগিয়ে চলেছে। দুপাশে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে দুদিনের জন্য সাজিয়ে বসা কতশত পশরা। জিলিপিতে রং ধরছে, জেগে উঠছে খাস্তা খাজা, গজার পাহাড়। ছোট ছোট খোকা খুকুর দল, দিদিমা দাদু, মা বাবাদের ভিড়, রোল চাউ মোমোর দোকান পার হয়ে ঢোল আর টুপির দোকান। পাশেই জলের গামলায় ঘুরে চলেছে স্পিডবোট। ওপাশে রথের দোকান। ছোট বড় নানা মাপের রথের সম্ভার। জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরাম।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৩ : অস্থান-জাতক—অসম্ভবের ছন্দ

সরস্বতীর লীলাকমল, পর্ব-৩৮: নন্দিতা কৃপালনি— বিশ শতকের বিদুষী
লাল নীল নকশাকাটা কাগজে মোড়া একতলা, দোতলা, তিনতলা রথ। কোনটা ঝকঝকে, কোনওটা আবার যেন শান্ত সমাহিত তপস্বিনী পার্বতীর মতো। নিষ্প্রভ কিন্তু জ্যোতির্ময়। রথের মাথার উড়ছে কাগজের পতাকা। এইমাত্র কার হাত ছেড়ে একটা গ্যাস বেলুন পাড়ি জমালো নভোলোকে। রথ, পথ, মূর্তি একাকার হয়। অন্তর্যামী অলক্ষ্যে হাসেন। জগন্নাথস্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা
মাটির বীণায় কী একটা মন কেমনের সুর, তাতে সঙ্গত দিচ্ছে কোথা থেকে ভেসে আসা খঞ্জনীর বোল। সারি সারি গাছের দোকানে ফুটে ওঠা সাদা-রঙিন ফুলের রাশি, পাশেই রঙিন হাওয়াকল, মুখোশ বৃষ্টিভেজা হাওয়ায় দুলছে। এমন সময় বৃষ্টি আসে। বেলি-জুঁই নেচে ওঠে আমের পাতার তালে তালে। ভিড় পাতলা হয়। গজার স্তুপের পাশে সাদা বাল্বটা দুলতে থাকে ভেজা হাওয়ায়। সদ্য নামানো জিলিপির ধোঁয়া চাউমিনের গন্ধে মিশে সেই মন-কেমনকরা সুরটা খুঁজতে পাড়ি জমাচ্ছে দূরে, আরও অনেক দূরে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।









