বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন।

চট্রগ্রামের বিদ্রোহী সিপাহিদের অভিযান সম্পর্কে ইতিপূর্বে যে সব আলোচনা হয়েছে তাতে জানা যায় যে, বিদ্রোহীরা প্রথমে ত্রিপুরার দিকে অগ্ৰসর হয়েছিল। তারপর রাজার বিরোধিতায় তারা শ্রীহট্ট হয়ে কাছাড়ের প্রবেশ করে। বিদ্রোহীরা স্বাধীন পার্বত্য ত্রিপুরার ভিতর দিয়েই শ্রীহট্টে গিয়েছিল।

স্যার এডওয়ার্ড গেইট (Sir Edward Gait) তাঁর ‘A History of Assam’ গ্ৰন্হে এ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন—In November 1857, there companies of the 34th Native Infantry stationed at Chittagong mutinied and after burning their lines, breaking open the jail and plundering the treasury, marched in the direction of comilla, they then turned off into the jungles of Hill Tippera, whence they subsequently emerged in the south-east of the Sylhet district.Their intention was to push on, through the South of Cachar into Manipur.
অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি তাঁর সুবিখ্যাত গ্ৰন্হ ‘শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত’-তে লিখেছেন, “চট্টগ্রামে গভর্নমেন্ট তিনশত সীমান্ত রক্ষক সৈন্য ছিল। ইহারা উত্তর পশ্চিম সীমান্তের বিদ্রোহের সংবাদে বিদ্রোহী হইয়া তথাকার কালেক্টরি লুণ্ঠন করতট— ২৭৮২৬৭ টাকা ও তিনটি হস্তী লইয়া এবং কারারুদ্ধ অপরাধীদিগকে মুক্ত করিয়া, ত্রিপুরার মধ্যভেদ পূর্ব্বক শ্রীহট্ট জেলায় প্রবেশ করে।…”
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৬: ঠাকুরবাড়ির কন্যা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বন্দুক উঁচিয়ে জমিদারি-কাজে বের হতেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

বিদ্রোহী সিপাহিদের প্রতি সাহায্য সহানুভূতি প্রকাশ কিংবা রাজ্যে তাদের আগমন প্রতিরোধ করা কোনওটাই তখন ত্রিপুরার রাজার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তখন রাজার সৈন্যবলও খুবই কম ছিল। তাই হয়তো রাজা তাঁর প্রতি ইংরেজদের অবিশ্বাসবোধ ও সন্দেহ দূর করতে বিদ্রোহী সিপাহিদের বহিষ্কারের আদেশ প্রচার করেছিলেন। ক’জন বিদ্রোহী সিপাহিকে গ্ৰেপ্তার করে ইংরেজদের হাতেও তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও রাজা ইংরেজদের কোপানলে পড়েছিলেন। তিনি ইংরেজদের সন্দেহে থেকে মুক্ত হতে পারেননি। তারা ত্রিপুরা অধিকার-সহ রাজাকে কারারুদ্ধ করার জন্যও উদ্যোগী হয়েছিল। অবশ্য শেষপর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ

এ সম্পর্কে কৈলাসচন্দ্র সিংহ তাঁর সুবিখ্যাত ‘রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস’ গ্ৰন্হে লিখেছেন, “গভর্নমেন্ট সন্দেহ দ্বারা পরিচালিত ত্রিপুরেশ্বরকে বিদ্রোহী গণের সাহায্যকারী বলিয়া ত্রিপুরা রাজ্য দখল ও ত্রিপুরাধিপতিকে কারারুদ্ধ করিবার জন্য অনুমতি প্রচার করেন। জজ মেটাকাফ্ সাহেব গবর্ণমেন্টের অমূলক সন্দেহ ও ভ্রম প্রদর্শন করিয়া ত্রিপুরা রাজ্য রক্ষা করেন।”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

যাইহোক, ত্রিপুরার রাজা বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল, না তাদের তীব্র বিরোধী ছিলেন এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকলেও ত্রিপুরার সাধারণ পার্বত্য প্রজাগণ যে বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন সে বিষয়ে সম্ভবত কোনও দ্বিমত নেই। বিদ্রোহীরা ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে উত্তর দিকে অগ্ৰসর হয়েছিল। পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা তখন তাদের সাময়িক আশ্রয় ও সাহায্য করেছিল। এমনকি রাজধানী আগরতলার কাছে কয়েকজন বিদ্রোহী রাজাদেশ অগ্ৰাহ্য করে আশ্রয় নিয়েছিল। স্হানীয় মানুষের সাহায্য না পেলে সেখানে বিদ্রোহীদের অবস্হান সম্ভব হতো না।অবশ্য শেষপর্যন্ত রাজার বাহিনী তাদেরকে গ্ৰেপ্তার করেছিল। এদিকে পার্বত্য ত্রিপুরার অভ্যন্তরে অমরপুর অঞ্চলের এক প্রভাবশালী উপজাতি সর্দার বিদ্রোহী সিপাহিদের সাহায্য করার অভিযোগে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

এই ভাবে বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়া যখন ত্রিপুরায় লেগেছিল তখন আদিবাসীরা যে ভাবে বিপ্লবীদের সাহায্য করেছিলেন, কেউ কেউ বিপ্লবী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, তেমনই ঊনবিংশ শতাব্দীতে সিপাহি বিদ্রোহের সময়ও বিদ্রোহী সিপাহিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন পার্বত্য ত্রিপুরার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। দুই শতাব্দীর এই সব ঘটনাবলী বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।—চলবে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content