
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
শুনেছি বায়োকেমিক ওষুধ ঠিক মতো ডায়াগনেসিস হলে রোগীর ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। ধৃতিমানের মেসেজটাতেও ঠিক সেরকম কাজ হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে না হলেও ঘণ্টা চারেক পরে একটা মেসেজ এসেছিল ইংরেজিতে। ‘Out of Town will call back soon’. তারপর কল আর আসে না… দিন ছয়েক বাদে হঠাৎ ভরসন্ধে বেলায় একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন। আজকাল সববয়েসের মহিলারা আর মাঝবয়েসী বা বয়স্ক পুরুষমানুষেরা অচেনা নম্বরের ফোন ধরেন না। কমবয়সী ছেলেপুলে ফোন ধরে বেকার ব্যাঙ্কের ফোন বা ফ্রড কল হলে তাদের খানিকক্ষণ ধরে বিরক্ত করে তারপর ফোনটা ছেড়ে দেয়। ফোন ক্লোন করা ডিজিটাল ফ্রডের ব্যাপারে তারা একটু বেশি ওয়াকিবহাল। অন্যেরা ভয় পান তাই ফোন ধরতে চান না।
বাবুর অবশ্য এসব করার উপায় নেই। গোয়েন্দাগিরির জন্য নানারকম টিপস পেতে অনেক ফোন আসে। অচেনা ফোন। এছাড়াও আজকাল নাটকের শো নেই, কিন্তু সে কারণে অনেক অচেনা ফোন থেকে যোগাযোগ হয়। তবে ছবির ক্ষেত্রটা খুবই ছোট্ট তাই অচেনা ফোন থেকে ছবির যোগাযোগ ঠিক হয় না।
তখনবুবুকে বাইরে খেলাধুলা করিয়ে সবে খাঁচায় শোয়াচ্ছে, সাইলেন্টে রাখা ফোনটা কাঁপতে শুরু করল। আধুনিক জীবনযাপন করতে করতে মানুষ না হলেও বাবুর সাধের কাকাতুয়া বুবু এসবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। বাবু এসময়ে কোন ফোন ধরে না এবং এটাও বুবু লক্ষ্য করেছে যে ফোন এসে গেলে সেটা সাইলেন্টে কাঁপতে শুরু করে। অন্যসময় যেরকম ঘাড় ঘুরিয়ে বলে ঠিক সেভাবেই বুবু বলতে শুরু করল—
—হ্যালো! বাবু ফোন ধর, হ্যালো! বাবু ফোন ধর!
—হ্যাঁ ।
তখনবুবুকে বাইরে খেলাধুলা করিয়ে সবে খাঁচায় শোয়াচ্ছে, সাইলেন্টে রাখা ফোনটা কাঁপতে শুরু করল। আধুনিক জীবনযাপন করতে করতে মানুষ না হলেও বাবুর সাধের কাকাতুয়া বুবু এসবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। বাবু এসময়ে কোন ফোন ধরে না এবং এটাও বুবু লক্ষ্য করেছে যে ফোন এসে গেলে সেটা সাইলেন্টে কাঁপতে শুরু করে। অন্যসময় যেরকম ঘাড় ঘুরিয়ে বলে ঠিক সেভাবেই বুবু বলতে শুরু করল—
—হ্যালো! বাবু ফোন ধর, হ্যালো! বাবু ফোন ধর!
—হ্যাঁ ।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৫: গুগলি/১০

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯২: শ্রীমার সঙ্গে এক মেমসাহেবের কথোপকথন
সমস্যা হচ্ছে এই হ্যাঁ টুকু না বললে, বুবু এখনকার টেলি-বিজনেস এজেন্টদের মতো ক্রমাগত চেষ্টা করে যাবে। এটা বোঝাতে যে ফোনটা এসেছে সেটা ধরতে হবে।
বুবুকে খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে গুডনাইট বলে খাঁচার ওপরে হালকা কাপড় চাপা দিতে দিতে ফোনটা কেটে গেল। অচেনা ফোন নম্বর থেকে প্রয়োজনীয় ফোন কিনা সেটা নিরীক্ষা করার এটাও একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি। অকাজের হলে ফোনটা আর আসবে না কাজের ফোন হলে একবার বা দু’বার আসবেই। ফোনটা আবার এলো এবং ফোনটা ধরার সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে এক মহিলা জানালেন যদি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় তাহলে আজ রাত নটার সময় একটি অভিজাত ক্লাবের সামনে পৌঁছে তাকে টেক্সট মেসেজ করতে হবে। আজ রাতে তিনি কলকাতায় রয়েছেন, কাল তিনি ব্যাংককে চলে যাবেন।
বুবুকে খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে গুডনাইট বলে খাঁচার ওপরে হালকা কাপড় চাপা দিতে দিতে ফোনটা কেটে গেল। অচেনা ফোন নম্বর থেকে প্রয়োজনীয় ফোন কিনা সেটা নিরীক্ষা করার এটাও একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি। অকাজের হলে ফোনটা আর আসবে না কাজের ফোন হলে একবার বা দু’বার আসবেই। ফোনটা আবার এলো এবং ফোনটা ধরার সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে এক মহিলা জানালেন যদি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় তাহলে আজ রাত নটার সময় একটি অভিজাত ক্লাবের সামনে পৌঁছে তাকে টেক্সট মেসেজ করতে হবে। আজ রাতে তিনি কলকাতায় রয়েছেন, কাল তিনি ব্যাংককে চলে যাবেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১০৮: গার্হস্থ্যজীবনে জ্যেষ্ঠ রামচন্দ্রের ভাবমূর্তি, তাঁর দেববিগ্রহে উত্তরণের একটি অন্যতম কারণ?

এপ্রিল ফুল
ফোনটা কেটে বাবু ভাবল এ জীবনে যদি কোনদিন ভগবানের সঙ্গে দেখা হয়, তাহলে বাবু তার কাছে একটাই আবদার করবে। এর পরের বার পৃথিবীতে আসার আগে যদি কোন বোনাস অপশন থাকে তাহলে সে এইসব নামতার মতো ফরফরে ইংরেজি বলা ঝলমলে তরুণী হতে চায়। কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত দার্শনিক গানের লাইন মেনে এরা জীবনটাকে ১০০ তে ৯৯ পর্যন্ত ‘ফুল-টু এঞ্জয়’ করছেন। কারণ জীবনদর্শনের আপ্তবাক্যটি এঁরা বোঝেন ‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়’! কিন্তু অনেক ঘেঁটেঘুটেও বাবু ‘ফুল-টু এঞ্জয়’ কেন চেটেপুটে উপভোগ-এর সমার্থক সেটার কারণ খুঁজে পায়নি! অবশ্য এটা শব্দের নয়, বাবুর অক্ষমতা!
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১০৯: যে-আঁধার আলোর অধিক

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৪: মৌটুসি
বাবু রাত ৮:৫৫ তেই মেসেজ পাঠিয়েছিল ‘আমি এসেছি’। ধৃতিমান চৌধুরী নিশ্চিত যে শবনম কলকাতার বাঙালি হলেও, মডেলিং করলেও মান্নাদে’র ‘এসেছি’ বলে লম্বা টান দিয়ে উত্তম-সুচিত্রার হার মানা হার ছবির গান ‘কি আনন্দ এই বসন্ত’ বা ১৯৬৭ সালের টিনেজ রোমান্সের হৈহৈ করা মুভি তরুণ মজুমদারের বালিকা বধূ’র বরযাত্রীর গান ‘আজি এসেছি আজি এসেছি’ কোনওটাই শোনেননি। বরযাত্রী বিয়ে এসব বলতে এই জেনারেশন তাদের জন্মের কিছু আগের ‘দিদি তেরা দেওর দিবানা’ বা ‘জুতে লে লো’ বোঝেন!
ন’টা পাঁচ ঝলমলে পোশাক পরে একজন বাউন্সার সঙ্গে নিয়ে শবনম এলেন পত্রপত্রিকার যেমন দেখায় তেমনই আকর্ষনীয় চেহারা।
—প্লিজ দিস ওয়ে!
ন’টা পাঁচ ঝলমলে পোশাক পরে একজন বাউন্সার সঙ্গে নিয়ে শবনম এলেন পত্রপত্রিকার যেমন দেখায় তেমনই আকর্ষনীয় চেহারা।
—প্লিজ দিস ওয়ে!
আরও পড়ুন:

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫২: আলাস্কায় গ্রীষ্মকালে সাজো সাজো রব, সক্কলে ব্যস্ত

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭০: বিচারক
ড্রাইভিং লটে গিয়ে পৌঁছতেই মাঝবয়সী ড্রাইভার ছুটে এলো, হাতের বোতাম টিপে গাড়ির দরজা খুলল শবনম ছোট্ট করে হাত তুলে বুঝিয়ে দিল সে এখন যাচ্ছে না। ড্রাইভার দূরে চলে গেল। বাউন্সার গাড়ির দরজা খুলে চোখের ইশারা করল ধৃতিমানকে সে গাড়িতে উঠতে গাড়ির দরজা বন্ধ হল অন্যদিকে দরজা খুলে সামনের সিটে গিয়ে বসলো শবনম। ধৃতিমান মেয়েটির বুদ্ধির তারিফ করল। সেইসঙ্গে নিজের ভাগ্যেরও। সুন্দরী অচেনা মেয়ে একসঙ্গে গাড়িতে ঢুকলে পরে যদি কোন রকম উল্টোপাল্টা বদনাম দেয়। হ্যাঁ, সঙ্গে তার বাউন্সর আছে এবং গাড়ির দরজা লকড নয়। আবার শবনম বহু অচেনা পুরুষের সঙ্গে মেশামেশি করে তাই সে পিছনের সিটে না উঠে সামনের সিটে গিয়ে বসল। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।