রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

অসম একটি নদী মাতৃক রাজ্য। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং বরাক নদী। এ ছাড়া রয়েছে অনেক ছোট বড় নদী। ভরা বর্ষায় এই সব ছোট ছোট নদীও অনেক সময় বড় আকার ধারণ করে। ব্রহ্মপুত্র স্বমহিমায় অসমের বুকে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। তেমনি হাজার হাজার মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-ভরসার কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে বরাক নদীর সঙ্গে। কত কত মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন নির্ভর করে এই নদীগুলির উপর।
বরাক ব্রহ্মপুত্র অসমের বিপুল জলসম্পদের আধার। এই নদী প্রতি সেকেন্ডে গড় হিসেবে প্রায় ২০ হাজার ঘন মিটার জল পরিবহণ করে। বন্যার সময় এই হার সেকেন্ডে ৭৫ হাজার ঘন মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। প্রায় প্রতি বছর হওয়া বন্যার জন্য অসমের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়ে থাকে। চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় পৃথবীর সর্ববৃহৎ নদী-দ্বীপ মাজুলি। ব্রহ্মপুত্রের বুকে অবস্থিত এই মাজুলি দ্বীপ বর্তমানে একটি জেলায় উন্নীত হয়েছে। শ্রীমন্ত শংকরদেবের বৈষ্ণব ধর্ম-সংস্কৃতির প্রাণ কেন্দ্র এই মাজুলি। কিন্তু বর্ষায় ব্রহ্মপুত্র যখন তার রুদ্ররূপ ধারণ করে তখন এই মজুলির সাধারণ মানুষদের দুর্দশার সীমা থাকে না। মাজুলির প্রায় সর্বত্র জলমগ্ন হয়ে।
আরও পড়ুন:

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫০: শিলচর শহরের অতীতের গল্প

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৭: রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিলেন

বন্যা অসমের একটি প্রধান সমস্যা। গুয়াহাটি থেকে শিলচর শহরের দিকে যাওয়া বা বরাক উপত্যকা থেকে বেরিয়ে আসাও নিরাপদ নয়। পথে মাঝেমধ্যেই পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর নেমে আসে। শিলচর-গুয়াহাটির রাস্তায় সোনাই নামক জায়গায় তো প্রায়ই ধস নামে। এই রাস্তায় দুর্যোগের জন্য কত মানুষ যে প্রাণ হারিয়েছেন তার হিসেব নেই। অসমের ভৌগোলিক অবস্থান লক্ষ্য করলে আমরা দেখা যাবে, রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু ছোট বড় পাহাড় এবং টিলা। তাই অত্যধিক বৃষ্টি হলে পাহাড়ের জল যে নেমে আসবে এটাই তো স্বাভাবিক। পাশাপাশি অসমে খাল বিল সমূহের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাই প্রবল বর্ষায় অতিরক্ত জল সমতলে বয়ে আসে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-১৯: আকাশ এখনও মেঘলা

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০০: অসুস্থ শরীরেও ভক্তদের দীক্ষাদান শ্রীমার

বরাক প্রায় ৩৫০ মাইল লম্বা। এই নদীতে যখন বন্যা হয়, তখন শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বরাক বা ব্রহ্মপুত্র দুই-ই ঘন জনবসতি প্রবণ অঞ্চল দিয়ে বয়ে চলেছে। তার উপনদীগুলিও তাই। সুতরাং বৃষ্টির জল যখন এই সব নদ নদীর বুক চিরে বেরিয়ে আসে তখন রাজ্য জুড়ে শুরু হয় হা হা কার। আর প্রায় প্রতি বছরই অসমের জনসাধারণকে এই বন্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮০: রাজনীতিতে সবাই চায় সবলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে, দুর্বলরা সব সময়ই একা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৬: রাম যৌথ পরিবারের আদর্শনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠ, তাঁর যেন এক ঘরোয়া ভাবমূর্তি

বন্যায় অনেক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না। আবার অনেকে হয়তো সুস্থ হয়েও বাড়ি ফিরতে পারছে না। জলমগ্ন রাজ্যে একটু খাবার জলের জন্য মানুষ অস্থির হয়ে উঠছেন। তবে এটাও ঠিক, এমন পরিস্থিতিতে সরকার দ্রুত হাসায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এগিয়ে আসে। নৌকায় করে তারা পানীয়জল, খাবার, ওষুধ-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়ে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা

অসমের বন্যায় যে শুধু মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন তা নয়, অভয়ারণ্যগুলি প্লাবিত হওয়ায় অনেক সময় গণ্ডার, বাঘ-সহ অনেক বন্য প্রাণীও প্রাণ হারায়। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার অসমের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও এখনও সেগুলি চালু হয়নি। সবুজ অসমের প্রকৃতি যতটা সুন্দর। অতিরিক্ত বর্ষায় ঠিক ততটাই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। অসমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আলোর দিকটা যেমন উঠে আসে, তেমনি আসে অন্ধকার দিকটাও। আর এ কথা মেনে নিতেই হয় যে, প্রতি বছর হয়ে চলা বন্যা অসমের এক বড় অন্ধকার দিক।—চলবে।
* ড. শ্রাবণী দেবরায় গঙ্গোপাধ্যায় লেখক ও গবেষক, অসম।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content