রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৮: অনুসরণ/৯

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৮: অনুসরণ/৯

মানব মনের বিচিত্র গতি-প্রকৃতি কোনও বাঁধাধরা নিয়ম মানে না। তাই কখন মানুষ কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে তার পূর্বাভাষ পাওয়া শক্ত। কোন কথায় কার মনে কোন প্রতিক্রিয়া তীব্রতা পাবে, তার কোন ঠিক ঠিকানা থাকে না। এমন হতেই পারে শত অনুযোগ-অভিযোগ গায়ে-না-মাখা সর্বংসহা মানুষটি আচমকা একদিন কোন একটি সাধারণ কথার অন্য কোনও গূঢ় অভিপ্রায় ভেবে বসলেন। আর মূহুর্তের মধ্যে এমনই এক মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন যাতে ভবিষ্যতের ব্যক্তিসম্পর্ক টুকরো টুকরো হয়ে গেল!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৭: অনুসরণ/৮

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৭: অনুসরণ/৮

একটা অদ্ভুত অস্থিরতাকে যেন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে অমলেন্দু। বাসে মিনিবাসে বা ডালহৌসির রাস্তায় আচমকা কেউ তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে সে বিরক্ত হয়ে চোয়াল শক্ত করে মুখ ঘুরিয়ে নিত। কেউ হয়তো মুখ ফসকে জিজ্ঞেসই করে ফেলল——আচ্ছা আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুন তো?

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৬: অনুসরণ/৭

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৬: অনুসরণ/৭

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে ভিজিল্যান্স-এর এক পরিচিত সহৃদয় অফিসারের কাছে ধমক খেয়েছে অমলেন্দু! —দেখুন মিঃ পাল, এর আগে টিকিট কাউন্টারের কেসে রুলস অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়া হয়েছিল, ইনক্রিমেন্ট প্রমোশন বন্ধ হয়েছিল, ডিপার্টর্মেন্ট বদলে দেওয়া হয়েছিল! কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি, আপনি নিজে এই টাকা তছরুপ করেননি। দোষের মধ্যে কাজে ফাঁকি দিয়ে আগে পালাতেন পরের দিন এসে ব্যাকডেটে সই করে ফেঁসে গিয়েছিলেন! যে জন্য ইউনিয়ন আপনাকে সাপোর্ট করেছিল এবং আপনার পানিশমেন্ট কিছুটা কমানো হয়েছিল। এবারেও কিন্তু আপনি সেই একই ভুল করতে...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৫: অনুসরণ/৬

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৫: অনুসরণ/৬

বিয়ের পর প্রথম বেশ কয়েকটা মাস স্বপ্নের মতো কেটে গেল। দুটো অচেনা নারী-পুরুষ যে রোমাঞ্চ নিয়ে একে অপরকে ধীরে ধীরে চেনে জানে, একটু একটু করে বিশ্বাস, দাবি পছন্দ-অপছন্দ মিলিয়ে মিশিয়ে ভালবাসতে শুরু করে ঠিক সেই চেনাপথেই জীবন এগোলো। পূর্ব পরিচিত প্রেমঘটিত বিয়ে হলে ঠিক এভাবেই সব এগোয় কিনা অমলেন্দুর জানা নেই! তার বন্ধুর সংখ্যা কম!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮8: অনুসরণ/৫

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮8: অনুসরণ/৫

ঠিক এখন চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে ছিপছিপে তন্বী মেয়েটিকে দেখে আচমকা কেমন যেন একটা অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করলো অমলেন্দু! লেভেল ক্রসিংটা এসে যাচ্ছে! লেভেল ক্রসিং টপকালেই প্রতিমা হারিয়ে যাবে! অমলেন্দু কি প্রতিমাকে হারিয়ে ফেলবে চিরকালের মতো! নাকি মিথ্যে দিয়ে অতীতের অস্বস্তিকর অধ্যায়কে চাপা না দিয়ে যে মেয়ে সহজভাবে স্বীকার করতে পারে— ‘সেটা দূর্ঘটনা! একসময়ের ভুল ছিল’। তাকে বিশ্বাস করা যায়? সে স্বীকার করেছে যে সেই অন্যায় সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চেষ্টা করছে সে। তাই অমলেন্দুর সঙ্গে বিয়েতে মত দিয়েছে! অমলেন্দু তো জিজ্ঞেস...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৩: অনুসরণ/৪

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৩: অনুসরণ/৪

প্রতিমা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। আশেপাশে অফিসফেরতা অনেক চেনা মুখ। প্রতিমাকে এ ভাবে ওভারব্রিজে কথা বলতে দেখলে অনেক মুখচেনা তথাকথিত ভদ্রলোক ভদ্রমহিলারা কৌতুহলী হয়ে পড়বেন। প্রতিমা উলটোপথে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের দিকটায় হাঁটা দিল। অমলেন্দু একটু অবাক হয়ে প্রতিমার পিছনে পিছনে গেল। অমলেন্দু কিন্তু ভাবার চেষ্টা করছে, চিঠিটা প্রতিমাকে দেবে নাকি মুখে বলবে সবটুকু।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮২: অনুসরণ/৩

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮২: অনুসরণ/৩

চিঠিটা ৩-৪ বার পড়ার পর অমলেন্দু ঠিক কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। এদিকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা একটা ভাঙচির চিঠি। হতে পারে সত্যি সত্যি কোনও ছেলের সঙ্গে প্রতিমার কোনও সম্পর্ক রয়েছে। আবার নাও হতে পারে। পারিবারিক আপত্তির জেরে অনেক সময় এই ধরনের চিঠিচাপাটি দিয়ে ক্ষতি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অমলেন্দু এই চিঠিটাকে খুব হালকা ভাবে নিতে পারল না। তার সেজমামার বিয়ের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন সময় আরও কম ছিল। শেষ মুহূর্তে এরকম একটা ভাঙচির চিঠি এসেছিল সেজমামার...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮১: অনুসরণ/২

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮১: অনুসরণ/২

খুব স্বাভাবিকভাবে বৈদ্যবাটির সম্বন্ধটা ভেঙ্গে গেল! আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে যে সামান্য কয়েকজনের কথার গুরুত্ব অমলেন্দু দিত তাঁরাই বোঝালেন খোঁজখবর নেওয়াতে কোনও অন্যায় নেই। সম্বন্ধ করে বিয়ে দিতে গেলে মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলের খোঁজ তো নেবেই! তাতে এতটা অসন্তুষ্ট হবার কোনও কারণ নেই।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮০: অনুসরণ/১

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮০: অনুসরণ/১

অমলেন্দু’র মধ্যে একটা তুলনামূলক হিংসে কাজ করতো, শুদ্ধ আভিধানিক বাংলায় যাকে মাৎসর্য্য বলে এটা অন্যের ভালো দেখতে না পারা, অন্যের প্রাচুর্য সহ্য করতে না পারা। পাশের বাড়ির এক বন্ধু মাধ্যমিকের ফার্স্টডিভিশনে পাশ করেছিল অমলেন্দু সেকেন্ডডিভিশন। সেকেন্ডডিভিশনের দুঃখ নয়, লাগোয়া বাড়ির সেই ছেলেটির ফার্স্ট ডিভিশনের দুঃখে বুক ফেটে সারা রাত কেঁদেছিল অমলেন্দু।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৯: গুগলি/১৪

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৯: গুগলি/১৪

মৃদুলের উপস্থিতি সত্বেও কৃষ্ণেন্দুর মধ্যে কোনও বিকার নেই! সে বম্বেতে চেষ্টা করল! খুব কষ্ট করে ছটা মাস চালানোর পর আবার কলকাতায় ফিরে আসতে বাধ্য হল। অভিনেতা অভিনেত্রী হিসেবে বোম্বেতে সুযোগটা পেলেও টেকনিশিয়ান হিসেবে বম্বেতে ঢুকতে পারা খুবই শক্ত। কৃষ্ণেন্দু পারলো না কলকাতায় ফিরে আসতে বাধ্য হল! শ্রেয়সীর সঙ্গে মৃদুলের সম্পর্কের কথা তার কানে এসেছে! কিন্তু কৃষ্ণেন্দু একেবারে অন্যধরনের মানুষ।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৭: গুগলি/১৩

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৭: গুগলি/১৩

শ্রেয়সী গুপ্ত নামি মাল্টিন্যাশানালের দামি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার! যোগাযোগ করার আগে শ্রেয়সী গুপ্তর সোশ্যাল মিডিয়া স্টক করতে হল। চালাকচতুর মহিলা। পড়াশোনার ইতিহাস বেশ ভালো। কলকাতা ভালো স্কুল ভালো কলেজের থেকে গ্র্যাজুয়েশন। দিল্লি থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন। বিদেশের একটি ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্টের ডিপ্লোমা। ৩-৪টি নামী কোম্পানির সিঁড়ি পেরিয়ে এখন আপাতত এই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে রয়েছেন।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৭: গুগলি/১২

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৭: গুগলি/১২

ধৃতিমান কোন উত্তর দিল না। সে জানে পুলিশের নামে শবনম যথেষ্ট ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাই সে এখন আপার হ্যান্ড নিতে চাইছে। পিছনের সিটে বসে ধৃতিমান মনে মনে ভাবছিল কত বয়স হবে মেয়েটার উনিশ কুড়ি বা বড় জোর বাইশ বছর? এই বয়সে রাত করে পার্টি করছে মদ খাচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছে! এই অনিয়ম এই ইন্দ্রিয়সর্বস্ব জীবনে কী পাবে এই মেয়েটি।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৬: গুগলি/১১

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৬: গুগলি/১১

শুনেছি বায়োকেমিক ওষুধ ঠিক মতো ডায়াগনেসিস হলে রোগীর ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। ধৃতিমানের মেসেজটাতেও ঠিক সেরকম কাজ হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে না হলেও ঘণ্টা চারেক পরে একটা মেসেজ এসেছিল ইংরেজিতে। ‘Out of Town will call back soon’. তারপর কল আর আসে না… দিন ছয়েক বাদে হঠাৎ ভরসন্ধে বেলায় একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৫: গুগলি/১০

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৫: গুগলি/১০

‘অবসেশন’ কথাটার শুদ্ধ বাংলা হল আবেশ! কেউ কারও প্রতি আবিষ্ট থাকতে পারে। এই যেমন বুবু আমার একমাত্র সহবাসী প্রাণী। মানে আমার কাকাতুয়া যে আমায় শুধু বিশ্বাস করে, পছন্দ করে, ভালোবাসে তেমনটা নয়, বুবু আমার প্রতি একটা অধিকারবোধ অনুভব করে। মোটামুটি বাড়িতে আমি একা থাকলে বুবু খাঁচার বাইরে থাকে।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৪: গুগলি/৯

হ্যালো বাবু! পর্ব-৭৪: গুগলি/৯

লিলি মৃদুলকে ভুলতে পারেনি। বরং মৃদুলের প্রত্যাখান এখনও লিলিকে কষ্ট দেয়। প্রেমিকার মানসিক কষ্ট নয়, ছুঁড়ে ফেলার রাগ। লিলি চেয়েছিল মৃদুলের সঙ্গে যা চলছে যেমন চলছে চলুক আর পেশাদারি কারণে তাকে যাঁদের যাঁদের সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ বজায় রাখতে হয়। সে সেটা চালিয়ে যাবে। কিন্তু মৃদুল একেবারে বেদ উপনিষদ মেনেচলা খেলোয়াড় ঋকবেদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণের ‘চরৈবেতি’ শব্দটাকে সে একেবারে আত্মস্থ করে নিয়েছে। মৃদুল সাহারা থেমে থাকতে জানে না!

Skip to content