কলকাতায় বৃষ্টি
বহুদিন বাদে কলকাতার পুজো। আর পুজো শেষে একটা বাংলা থিয়েটার। ঠিক শুভেচ্ছান্তে বিজয়ার মিষ্টির মতো। মনোজ মিত্রের লেখা নাটক। বহুরূপী প্রযোজনা। কুমার রায় নির্দেশিত এ নাটকের পুনর্মঞ্চায়ন। আমি প্রথমবার দেখছি তাই তুলনার প্রশ্ন ওঠে না। লন্ডন ওয়েস্টএন্ডে সেন্ট মার্টিন থিয়েটারে আগাথা ক্রিস্টির বিশ্বখ্যাত রহস্যকাহিনীতে নির্মিত ‘দ্য মাউস্ট্র্যাপ’ অভিনীত হচ্ছে বিগত ৭৪ বছর ধরে।
আজ ৩০ অক্টোবর যখন এ লেখা লিখছি তখন এই নাটকের ৩০ হাজার ৩৫০তম অভিনয়। ২০২৪ সালে ২৯ হাজার ৬৯৭তম অভিনয় দেখতে পাওয়ার বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল। সে নাটকে ১৯৫২ থেকে আজ অব্দি প্রায় ৪৬০ জন অভিনেতা অভিনেত্রীর বদল ঘটেছে। ১৯৫২ সালের এ নাটকে রিচার্ড এটেনবরো অভিনয় করতেন। অভিনেতা কলাকুশলী বদলে গিয়েছেন। তবু আপন গতিতে চলছে এ নাটক। ২০২৭ সালের জুলাই মাসে এই নাটকের ৭৫ বছর পূর্ণ হবে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: ঘরচিতি

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

বহুরূপীও তাই। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও এগিয়ে চলেছে। মেনে চলেছে প্রাচ্যের “চরৈবেতি”, পাশ্চাত্যের “the show must go on’ । সেটা ছিল উনিশ শতকের সার্কাস কোড, যা কিছুই ঘটে যাক। যে কোনও অঘটন। সার্কাসের ব্যান্ড আর সার্কাসের খেলা চলতে থাকবে। এটা কলাকুশলীদের মধ্যে একটা অলিখিত শৃঙ্খলা। কোনও অবস্থাতেই দল, অনুষ্ঠান এবং দর্শককে বিমুখ করা যাবে না। ১৯৯১ সালে গিটারিস্ট ব্রায়ান মে এই কথাগুলি নিয়েই একটি গান লিখলেন।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১৩ : ত্রিপুরায় আহোম রাজদূতের গুপ্তচর নিয়োগ/১

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত

১৯৪৮ সালে আত্মপ্রকাশ করে বহুরূপী নাট্যদল। আটাত্তর বছরের পুরনো এই দলটি ৮০-র চৌকাঠে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধেয় নাট্যব্যক্তিত্ব কুমার রায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁরই নির্দেশিত মনোজ মিত্রের লেখা এই বিখ্যাত নাটকটির আবার প্রযোজনা করলেন। ভাঙা-গড়ার যে লড়াই বহুরূপীকে সহ্য করতে হয়েছে কিনু কাহারের থেটারেও সেই একই সংকট।
কলকাতায় বৃষ্টি
শহুরে শিক্ষিত থিয়েটারওয়ালাদের সঙ্গে গ্রামের অন্ত্যজ থিয়েটারের মোশানমাস্টার কিনু কাহারের মিল এখানেই। নিজেদের জীবনের কথায় তাদের পালাগানের বিষয় মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। সেখানেই কিনু গোয়ালার গলির একতলায় থাকা হরিপদ কেরানির সঙ্গে আকবর বাদশার এত মিল। একেবারে নিরাভরণ ভাবেই নাটকের মঞ্চায়ন করা হয়েছে। ব্যাকস্টেজে রঞ্জন সিকদারকৃত, সুবিশাল পটচিত্র এই নাটক নিয়ে অনেক কথা বলে দেয়। নাচে-গানে রঙ্গে-ব্যঙ্গে মজাদার সংলাপে ভরপুর এই নাটক।
আরও পড়ুন:

দশমী

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট

অসিত বরণ সরকারের কিনু এবং শ্রীজাতা ভট্টাচার্যের জগদম্বা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। পার্শ্বচরিত্রে সর্বানী চট্টোপাধ্যায়, গৌতম চক্রবর্তী, হিমাংশু দে, প্রবাল মুখোপাধ্যায়, রোহন চট্টোপাধ্যায়, তাপস মণ্ডল, সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবেন হালদার চরিত্র অনুসারে যথাযথ।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

৩৮ বছর আগে ১৯৮৮ সালে দোসরা মে প্রথম অভিনয়ে বিমান ভট্টাচার্যকৃত গানের সুর অবিকৃত আছে। মূল সুরকেই আশ্রয় করে গৌতম চক্রবর্তী, তপন নট্ট, সুবীর সান্যাল, সৌদীপ চক্রবর্তীর সংগীত আয়োজন মনোগ্রাহী। পোশাক, আলো বা রূপসজ্জা এই নাটকের প্রয়োজনের দাবি মেটায়। শ্রদ্ধেয় নাট্যগুরু কুমার রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে পরিচালক সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় সঞ্চালক হিসাবেই প্রকাশিত হয়েছেন। হালের শব্দের প্রাবল্য ও আলোর আতিশয্যের প্রভাব কাটিয়ে নিরাভরণ প্রযোজনাকে বেছে নেবার সাহস প্রচেষ্টা ও নিরলস প্রয়াসের জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানাই।
কলকাতায় বৃষ্টি
গ্রামীণ নাটকের উপকরণ এবং পরিবেশনার আঙ্গিক বজায় রাখা হলেও প্রসেনিয়ামে নাটক দেখতে বসে দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরের মধ্যবর্তী সময় যেন একটু দীর্ঘায়িত মনে হয়েছে। ঠিক একসপ্তাহ পরে ৭ নভেম্বর বাড়িতে ১৪ প্রদীপ ১৪ শাকের উদযাপন সেরে মধুসূদন মঞ্চে দেখে ফেলুন বহুরূপীর নাটক কিনু কাহারের থেটার। অপরের পাপ কাঁধে বয়ে বেড়ানোর অনেক আধুনিক অনুসঙ্গের মিল খুঁজে পেতেও পারেন।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content