রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়া লেগেছিল দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরায়। প্রভাব পড়েছিল বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের। গড়ে উঠেছিল অনুশীলন সমিতির শাখাও। একসময় বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল পার্বত্য ত্রিপুরা। বিপ্লবীদের অস্ত্রের মহড়াও চলতো ত্রিপুরার পাহাড়ে। কালক্রমে স্বদেশী তৎপরতা ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যে। আবার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল অসহযোগ আন্দোলন। এদিকে একসময় যুগান্তর পার্টির ভাবাদর্শে ত্রিপুরায় গড়ে উঠেছিল ভ্রাতৃসংঘ। গোপনে চলত তাদের বিপ্লবী তৎপরতা। এই ভাবেই ত্রিপুরা সেদিন কিছুটা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছিল দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ অর্থাৎ মহাবিদ্রোহের ছোঁয়াও লেগেছিল দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরায়। চট্টগ্রামের বিদ্রোহী সিপাহিরা সেদিন ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চলের ভিতর দিয়ে সিলেট হয়ে কাছাড়ের দিকে ধাবিত হয়েছিল। পার্বত্য অঞ্চলের ভেতর দিয়ে যাবার পথে বিদ্রোহী সিপাহিরা সেদিন ত্রিপুরার আদিবাসীদের সাহায্য সহায়তা পেয়েছিল।
নৃপতি শাসিত দেশীয় রাজ্য পার্বত্য ত্রিপুরায় সরাসরি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন না ঘটলেও রাজার জমিদারী চাকলা রোশনাবাদ এলাকায় তা ঘটেছিল। কারণ, চাকলা রোশনাবাদ তথা সমতল ত্রিপুরা ছিল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই ব্রিটিশ বাংলার এই স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়া লেগেছিল দেশীয় রাজ্য পার্বত্য ত্রিপুরায়। সে সময় ধীরে ধীরে ত্রিপুরাতেও অবশ্য রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। ১৯৪২-৪৩ সালে সামন্ততান্ত্রিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে রতনমণির নেতৃত্বে ঘটে যায় রিয়াং আদিবাসী বিদ্রোহ।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫০: দণ্ডকারণ্যে শূর্পনখা—একটি নাটকীয় চমক ও দ্বৈতসত্তায় অনন্য রাম

দোলি হ্যায়!

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৫ : সাথী হারা

ত্রিপুরার রাজাদেরও কেউ কেউ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিও গোপনে গোপনে সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্রিটিশদের প্রবল চাপের মধ্যে থাকায় তারা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নীরব সমর্থক ছিলেন বলেও মনে করা হয়। বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল পার্বত্য ত্রিপুরাতেও। পালিত হয়েছিল প্রতিবাদ দিবস। বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের সময় ত্রিপুরার সিংহাসনে ছিলেন রাধাকিশোর মাণিক্য। সাহিত্য সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক রাধাকিশোরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিবিড় সম্পর্ক ছিল। রাজা স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১২৪: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৫

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৪: ত্রিপুরায় রিয়াং বিদ্রোহ

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ও রাখী বন্ধন উৎসবের প্রভাবে রাজধানী আগরতলায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ বন্দেমাতরম গাইতে গাইতে মিছিল করেছিল। ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসির সংবাদে রাজপরিবারের অনেকেই শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রাজা রাধাকিশোরও এর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ফাঁসির দিন আগরতলার উমাকান্ত অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীরা বন্দেমাতরম গাইতে গাইতে পতাকা হাতে শহরের রাজপথ অতিক্রম করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন ইতিহাসবিদ ড.জগদীশ গণচৌধুরী।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ

স্বদেশী যুগের চারণ কবি মুকুন্দ দাস আগরতলায় এসে গান গেয়ে দেশাত্মবোধে উদ্দীপ্ত করেছিলেন সবাইকে। বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় জন্ম নিয়েছিল অনুশীলন সমিতি। সেই সমিতির সদস্যদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সেদিন পার্বত্য ত্রিপুরার উদয়পুর ও বিলোনীয়ায় দুটি কেন্দ্র স্হাপিত হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখতে এগুলো খামার বাড়ির মতো মনে হলেও তা ছিল বিপ্লবীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। দিনে ছিল চাষবাস আর রাতে নিকটবর্তী জঙ্গলে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হতো তাদের।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

এ সব ক্ষেত্রে যে স্হানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ সহায়তা করতেন তা নিশ্চিত। কারণ স্হানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া গোপনে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চালানো মোটেই সম্ভব হতো না। ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার তাঁর History of Freedom Movement in India গ্ৰন্হে বিলোনিয়া ও উদয়পুরে অনুশীলন সমিতির তৎপরতা সম্পর্কে লিখেছেন—For the purpose of training it’s members, the Anushilan Samiti had two farms at Belonia and Udaipur in Hill Tipperah. These were outwardly,and in part really agricultural farms, but they served mainly as centers for training. During day time the members worked as labourers in the fields but at night they were given training in the use of different kinds of arms,and practiced shooting in the neighboring hills.They had to work hard and lived under strict military discipline. কেউ কেউ এমনটা মনে করেছেন যে,দেশের মুক্তি সংগ্রামের ক্ষেত্রে এটাই ছিল পার্বত্য ত্রিপুরার প্রথম ভূমিকা গ্রহণ। —চলবে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content