
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
“অ্যাই! একদম নাটক করবি না!”
একটা সময় ছিল, অভিনয়ে “নামতে” হতো। সিনেমা কিংবা থ্যাটার দেখা খুবই গর্হিত কাজ ছিল। আবার, নাটকে লোকশিক্ষা হয়। মানুষ একটা ছদ্মের ঘেরাটোপে সত্যের উদ্ভাসন দেখে। দেখেন সহৃদয় সামাজিকরা। গতকাল ছিল বিশ্ব নাট্যদিবস। সংস্কৃত নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলমের নাম বিশ্ববন্দিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের সিলেবাস যে পাঠ্যটি ছাড়া ভাবা যায় না, সেটি ওই দুষ্যন্ত শকুন্তলার নাটক।
সংস্কৃত ভাষার সাহিত্যে দশরকম রূপকের মধ্যে নাটক অন্যতম। রূপের আরোপ করা হয় অভি-নী ধাতু থেকে নিষ্পন্ন অভিনয়ে, নিখুঁত শিল্পনৈপুণ্যে, দক্ষতায় সামনে নিয়ে আসা হয় তাকেই, যা নয়, হয়নি, হতে পারে না, যা আকাঙ্ক্ষার অলিন্দে বা যা অতীতের বা ভাবীকালের বা বর্তমানের অন্দরে কন্দরে থাকা কিছু, কিন্তু নিত্যদিনের রোজনামচা নয়, যেখানে অসঙ্গতি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত আছে, প্রীতিবন্ধন আছে। রূপের আরোপ হয় বলেই নাম রূপক। আবার একটি কাহিনীর দৃশ্যায়ন ঘটে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে, তাই এগুলি দৃশ্যকাব্য-ও বটে।
একটা সময় ছিল, অভিনয়ে “নামতে” হতো। সিনেমা কিংবা থ্যাটার দেখা খুবই গর্হিত কাজ ছিল। আবার, নাটকে লোকশিক্ষা হয়। মানুষ একটা ছদ্মের ঘেরাটোপে সত্যের উদ্ভাসন দেখে। দেখেন সহৃদয় সামাজিকরা। গতকাল ছিল বিশ্ব নাট্যদিবস। সংস্কৃত নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলমের নাম বিশ্ববন্দিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের সিলেবাস যে পাঠ্যটি ছাড়া ভাবা যায় না, সেটি ওই দুষ্যন্ত শকুন্তলার নাটক।
সংস্কৃত ভাষার সাহিত্যে দশরকম রূপকের মধ্যে নাটক অন্যতম। রূপের আরোপ করা হয় অভি-নী ধাতু থেকে নিষ্পন্ন অভিনয়ে, নিখুঁত শিল্পনৈপুণ্যে, দক্ষতায় সামনে নিয়ে আসা হয় তাকেই, যা নয়, হয়নি, হতে পারে না, যা আকাঙ্ক্ষার অলিন্দে বা যা অতীতের বা ভাবীকালের বা বর্তমানের অন্দরে কন্দরে থাকা কিছু, কিন্তু নিত্যদিনের রোজনামচা নয়, যেখানে অসঙ্গতি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত আছে, প্রীতিবন্ধন আছে। রূপের আরোপ হয় বলেই নাম রূপক। আবার একটি কাহিনীর দৃশ্যায়ন ঘটে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে, তাই এগুলি দৃশ্যকাব্য-ও বটে।
সংস্কৃতসাহিত্যে অধিকাংশ রূপকেই মিলনান্তক পরিণতি ঘটবে, ভারতীয় দর্শন যে পরম তত্ত্বে বিশ্বাস করে এসেছে যুগে যুগে, তাকে লালন করবে দৃশ্যকাব্য অতি যত্নে। গ্রীক নাটকে ট্রাজেডির ধারণা পাওয়া যাবে। নাট্যকার ভাস প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে বিয়োগান্তক ঊরুভঙ্গম্ লিখবেন। ভারতীয় নাট্যতত্ত্বের দিকনির্দেশ করবে ভরতের নাট্যশাস্ত্র, ধারণা আসবে রসের অস্তিত্বের। বলা হবে দেবরাজ ইন্দ্রের রাজসভায় অভিনীত কোনও এক নাটকের স্টেজ ডিরেকশন দিয়েছিলেন স্বয়ং ভরতমুনি। তবে এ সব অনেক কালের কথা। তারপর কালে কালে সবকিছুই ‘নাটক’ হয়ে গিয়েছে। নাটকের জনপ্রিয়তা বেশি ছিল, কিংবা প্রথিতযশা কবিদের লেখনী দিয়ে প্রসিদ্ধ নাটকগুলো জন্ম নিয়েছে কিংবা অন্যতর কোনও কারণে মানুষ স্টেজে উঠে অভিনয়ের যে পদ্ধতি, তাকেই নাটক বলতে থাকল। তাতে মৃচ্ছকটিকের তাত্ত্বিক নাম “প্রকরণ” হোক, কিংবা হোক না শেক্সপীয়রের কোনও নাট্যকৃতি, তাতে কিছু বাধা থাকল না। সবই নাটক বলে চলতে থাকল।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-২২: নন্দিবিলাস-জাতক: রূঢ়ভাষে কষ্ট কারও করিও না মন

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯o: মা সারদার কথায় ‘ঈশ্বর হলেন বালকস্বভাব’
ক্রমশ কবিরা বললেন জগৎ-টাই নাকি রঙ্গমঞ্চ। উপরের অদৃশ্য এক শক্তির ডিরেকশনে তাসের দেশের কুশীলবদের দল নেচে গেয়ে, আমোদ কিংবা প্রেম করে, কাঠি দিয়ে, উঠছে নামছে চলছে ফিরছে। ভারতভূমির নাট্যে এক “নিয়ম মতে চলার” পথে সীমার মাঝেই অসীমের আবাহন চলেছে।
শিব্রাম চক্কোত্তি তাঁর “মস্কো থেকে পণ্ডিচেরি”তে মস্করা করেই হয়তো বা বলেছিলেন যে, আজকাল অভিনেতারা রাজনীতির মাঠে আর নেতারা নাট্যমঞ্চে। সে যাই হোক, ক্রমে মানুষ বুঝলো যে, জগৎ সংসারে অভিনয় বিষয়টার একটা কদর আছে। ক্রমে অভিনয় উঠেছে, যাঁরা এককালে অভিনয়ে নামতেন, তাঁরা আজকাল ওঠেন। শুধু তাই নয়, আমার-আপনার সামনের পিছনের পাশের মানুষটি, এবং সেই মানুষটির পিছনের সামনের পাশের আমি আপনি নিয়মিত যাকে যাপন করছেন তাকে নিজের মুখে স্বীকার না করলেও সকলে বলে দিচ্ছে, “অ্যাই! নাটক কোরো না তো!”
শিব্রাম চক্কোত্তি তাঁর “মস্কো থেকে পণ্ডিচেরি”তে মস্করা করেই হয়তো বা বলেছিলেন যে, আজকাল অভিনেতারা রাজনীতির মাঠে আর নেতারা নাট্যমঞ্চে। সে যাই হোক, ক্রমে মানুষ বুঝলো যে, জগৎ সংসারে অভিনয় বিষয়টার একটা কদর আছে। ক্রমে অভিনয় উঠেছে, যাঁরা এককালে অভিনয়ে নামতেন, তাঁরা আজকাল ওঠেন। শুধু তাই নয়, আমার-আপনার সামনের পিছনের পাশের মানুষটি, এবং সেই মানুষটির পিছনের সামনের পাশের আমি আপনি নিয়মিত যাকে যাপন করছেন তাকে নিজের মুখে স্বীকার না করলেও সকলে বলে দিচ্ছে, “অ্যাই! নাটক কোরো না তো!”
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৯: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫১: রোজই দেখি আলাস্কা পর্বতশৃঙ্গের বাঁ দিকের চূড়া থেকে সূর্য উঠতে
তার মানে, নাটক হল মিথ্যার উপস্থাপনা। যা নয় তাকেই সত্য করে তোলা, অল্প সময়ের জন্য হলেও। তাকে দেখেই কান্না হাসি, তাকেই মিথ্যা জেনেও যথার্থ মনে করার বাসনা। নাটকে তাই হরির হরিশ্চন্দ্র হতে বাধা নেই, বাধা নেই হারুর হারুন-অল-রশিদ হতে। কামিনীকান্ত দিব্যি নাটকে কামিনী হয়ে মোহমায়া ছড়ান। পাশের দোকানের রেমো রামচন্দ্র হয়ে বনে যখন যান, বেহালার সুরটা আপনার বুকেও হয়তো কখন যেন মোচড় দেয়, দেয় না কি?
তবে এখানেই নাটকের অপ্রতিহত গতি থেমে থাকে না। ধরা যাক, পাঁচুর মা বাসে উঠেছে। ধরা যাক, বাসে বাদুড় ঝোলা ভিড়। কোনওরকমে ভিতরে একটু গলে আসা গেল। পাশেই নন্দাবৌদি দাঁড়িয়ে। নন্দাবৌদিকে পাঁচুর মা চেনে না। বাস দুদ্দাড়িয়ে যাচ্ছে। আচমকাই ঘ্যাঁচ করে ব্রেক চাপতে নন্দার হাইহিল পাঁচুর মায়ের পায়ের পাতায়। বিপদ বুঝে বৌদিমণি “ও মাগো গেল গো, পা টা আজ ভেঙেই গেল গো” বলে কান্নাকাটি জুড়তে কেউ যেন হাঁ হাঁ করে সিট ছেড়ে দিল। সেখানে বসে নন্দাদেবী একটু সমবেদনা সংগ্রহ করে মোবাইলে মনোনিবেশ করলেন, ঠোঁটে একটু লিপস্টিক বুলিয়ে সেটা ফ্রণ্ট ক্যামে চেক করে নিলেন। পাঁচুর মা আঁক করে উঠেছিল ব্যথায়। “ওরে বাবারে, গেলোরে” বলেছিল, কিন্তু তার কথা শোনার সময় তখন ছিল না। অগত্যা, একপায়ে আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার অভিনয় করতে হল। মদনপুর স্টপেজে নেমে খানিক উষ্মা নিয়ে কটা কটু কথা বলে হাঁটা দেয় পাঁচুর মা। কণ্ডাক্টর “বেশি ডায়লগ মেরো না” বলে বাস ছেড়ে দেয়।
তবে এখানেই নাটকের অপ্রতিহত গতি থেমে থাকে না। ধরা যাক, পাঁচুর মা বাসে উঠেছে। ধরা যাক, বাসে বাদুড় ঝোলা ভিড়। কোনওরকমে ভিতরে একটু গলে আসা গেল। পাশেই নন্দাবৌদি দাঁড়িয়ে। নন্দাবৌদিকে পাঁচুর মা চেনে না। বাস দুদ্দাড়িয়ে যাচ্ছে। আচমকাই ঘ্যাঁচ করে ব্রেক চাপতে নন্দার হাইহিল পাঁচুর মায়ের পায়ের পাতায়। বিপদ বুঝে বৌদিমণি “ও মাগো গেল গো, পা টা আজ ভেঙেই গেল গো” বলে কান্নাকাটি জুড়তে কেউ যেন হাঁ হাঁ করে সিট ছেড়ে দিল। সেখানে বসে নন্দাদেবী একটু সমবেদনা সংগ্রহ করে মোবাইলে মনোনিবেশ করলেন, ঠোঁটে একটু লিপস্টিক বুলিয়ে সেটা ফ্রণ্ট ক্যামে চেক করে নিলেন। পাঁচুর মা আঁক করে উঠেছিল ব্যথায়। “ওরে বাবারে, গেলোরে” বলেছিল, কিন্তু তার কথা শোনার সময় তখন ছিল না। অগত্যা, একপায়ে আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার অভিনয় করতে হল। মদনপুর স্টপেজে নেমে খানিক উষ্মা নিয়ে কটা কটু কথা বলে হাঁটা দেয় পাঁচুর মা। কণ্ডাক্টর “বেশি ডায়লগ মেরো না” বলে বাস ছেড়ে দেয়।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৩: সাত-সহেলি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১০৭: লুকাবো বলি, লুকাবো কোথায়?
দুষ্যন্ত সে যুগে ডায়লগ দিয়ে শকুন্তলার মন জয় করেছিলেন। আর এযুগে দূত এসে খবর দেবে, দুটো পুঁইশাকের চচ্চড়ি আর কুমড়োর ছেঁচকি দিয়ে ভাত খেয়ে খেয়ে উঠতে না উঠতেই সে দেখে রাবণ রথে চড়ে আসছে। এদিকে, রামচন্দ্র রাজস্বপ্ন দেখেছেন রাবণ ব্যাটা মরে গেছে। মরে গিয়েছে মানে একদম মরে গ্যাছে। ব্যাস! কিন্তু রাবণের রথের ঘোর মনে মনে গজিয়ে ওঠা সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল।
ভবেশবাবু ইতিহাস পরীক্ষায় গার্ড দিতে গিয়ে কোনও ছাত্রের পকেট থেকে অবাঞ্ছিত চিরকুট পেলেন। সেখানে ধানের শিষে ওয়ার্ল্ড ম্যাপ আঁকার দক্ষতায় মহাবিপ্লবী ঘনশ্যাম গড়গড়ির জীবনী টোকা। পরীক্ষায় সেটা এসেও গেছে। ধরা পড়ে ছেলেটা বলেছিল “মাইরি বলছি স্যর, আমি টুকিনি।”
মিলিয়ে দেখা গেল শুধু ঘনশ্যামের জীবনী নয়, ইতিহাসপ্রসিদ্ধ বীর যোদ্ধা বোকারাম টুকির জীবনীও ওই মহাটুকলিতে উঁকি দিচ্ছে। কী সব্বোনাশ! সেটাও তো এবারে প্রশ্নে এসেছে। ছেলেটা টোকার নেশায় পাশের খাতার রোল রেজিস্ট্রেশন হুবহু টুকে দিয়েছে। এতবড় নটবরের দিকে হাঁ করে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে ভবেশবাবু হেঁকে ওঠেন, আর কী কী আছে বের করো চটপট। ছেলেটি জানিয়ে দেয়, আর কিছুই নেই স্যর। চাইলে দেখে নিতে পারেন। তা দেখাও হল, জামা জুতো টেনেটুনে যতটা দেখা যায়। কিছুই নেই। কিন্তু আধাঘণ্টা যেতে না যেতেই আবারও টুকলি উঁকি দেয়।
এ বার মহান রাজা গম্ভীর সিংয়ের করব্যবস্থা খাতায় নেমে এসেছে টুকলি বেয়ে। আর কি আছে বল চটপট? ছেলেটি জানিয়ে দেয় চটপট, আর কিছুই নেই স্যর। চাইলে দেখে নিতে পারেন। এ বার আর ভবেশবাবু ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন না, বেশি নাটক কোরো না বুঝলে! কিন্তু ফাইনাল বেল বেজে ওঠে। খাতা জমা পড়ে যায়। ছেলেটা হাসতে হাসতে বলে, স্যারের যতো ডায়লগবাজি, আমাকে ধরা অতোই সোজা বুঝি! এই ছেলেটি আর কেউ নয়, সেই গদা আজকের এখন নামজাদা লোক, গণেশ দাম, ক্রিকেট খেলে না কবিতা লিখে খুব নাম কামিয়েছে।
ভবেশবাবু ইতিহাস পরীক্ষায় গার্ড দিতে গিয়ে কোনও ছাত্রের পকেট থেকে অবাঞ্ছিত চিরকুট পেলেন। সেখানে ধানের শিষে ওয়ার্ল্ড ম্যাপ আঁকার দক্ষতায় মহাবিপ্লবী ঘনশ্যাম গড়গড়ির জীবনী টোকা। পরীক্ষায় সেটা এসেও গেছে। ধরা পড়ে ছেলেটা বলেছিল “মাইরি বলছি স্যর, আমি টুকিনি।”
মিলিয়ে দেখা গেল শুধু ঘনশ্যামের জীবনী নয়, ইতিহাসপ্রসিদ্ধ বীর যোদ্ধা বোকারাম টুকির জীবনীও ওই মহাটুকলিতে উঁকি দিচ্ছে। কী সব্বোনাশ! সেটাও তো এবারে প্রশ্নে এসেছে। ছেলেটা টোকার নেশায় পাশের খাতার রোল রেজিস্ট্রেশন হুবহু টুকে দিয়েছে। এতবড় নটবরের দিকে হাঁ করে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে ভবেশবাবু হেঁকে ওঠেন, আর কী কী আছে বের করো চটপট। ছেলেটি জানিয়ে দেয়, আর কিছুই নেই স্যর। চাইলে দেখে নিতে পারেন। তা দেখাও হল, জামা জুতো টেনেটুনে যতটা দেখা যায়। কিছুই নেই। কিন্তু আধাঘণ্টা যেতে না যেতেই আবারও টুকলি উঁকি দেয়।
এ বার মহান রাজা গম্ভীর সিংয়ের করব্যবস্থা খাতায় নেমে এসেছে টুকলি বেয়ে। আর কি আছে বল চটপট? ছেলেটি জানিয়ে দেয় চটপট, আর কিছুই নেই স্যর। চাইলে দেখে নিতে পারেন। এ বার আর ভবেশবাবু ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন না, বেশি নাটক কোরো না বুঝলে! কিন্তু ফাইনাল বেল বেজে ওঠে। খাতা জমা পড়ে যায়। ছেলেটা হাসতে হাসতে বলে, স্যারের যতো ডায়লগবাজি, আমাকে ধরা অতোই সোজা বুঝি! এই ছেলেটি আর কেউ নয়, সেই গদা আজকের এখন নামজাদা লোক, গণেশ দাম, ক্রিকেট খেলে না কবিতা লিখে খুব নাম কামিয়েছে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১০৭: সুভদ্রাপুত্র অভিমন্যু ও দ্রৌপদীর পঞ্চ পুত্র, কে বা কারা রইলেন পাদপ্রদীপের আলোয়?

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭০: বিচারক
দ্বন্দ্ব নাটকের প্রাণ, আর তার প্রতিষ্ঠা হয় নাটকীয় সংলাপে। নাটক ব্যাপ্ত হয় জগত্-চরাচর। নাটক সমাজদর্শন, সমাজদর্পণ যে! থিয়েটারের মঞ্চে, পাড়ার মোড় থেকে রান্নাঘরে নাটক চলছে, চলছে গরম গরম ডায়লগ। কেউ রেগে যাচ্ছে, কেউ হাত পা ছুড়ে কাঁদছে, কেউ হাততালি দিচ্ছে, কেউ সিটি বাজাচ্ছে, কেউ মারবে বলে আস্তিন গোটাচ্ছে, কেউ বলছে “ওঃ! ডায়লগ, ডায়লগ!” এর মাঝেই ওই সত্তা ছেড়ে বেরিয়ে এসে বাইরে দাঁড়ানোর, দাঁড়িয়ে খোলা আকাশটাকে দেখা, দেখানোর নাটকগুলো জিতে যাচ্ছে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।