মাত্র সতের বছর বয়সে বিয়ে হয়ে আরুকুট্টি থেকে থোপ্পুমপাড়িতে এসেছিলেন। তখনও জানতেন না স্বামী, পুত্র, সংসারের পাশাপাশি গাড়িই হয়ে উঠবে তাঁর জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
মাত্র সতের বছর বয়সে বিয়ে হয়ে আরুকুট্টি থেকে থোপ্পুমপাড়িতে এসেছিলেন। তখনও জানতেন না স্বামী, পুত্র, সংসারের পাশাপাশি গাড়িই হয়ে উঠবে তাঁর জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
রক্ষণশীল বাড়ির বউ তিনি, নানা নিগড়ে বদ্ধ ছিল তাঁর সংসার। কখনও ভাবেননি শ্বশুরবাড়ির মানুষদের সাহায্য পাবেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেন তাঁর শাশুড়ি মা।
১৯৫৭ সালে মুক্তি পেল ‘প্যায়াসা’, ঠিক তার দু’বছর আগে ‘দেবদাস’-এ প্রথম তাঁর গলায় শোনা গিয়েছিল কীর্তনাঙ্গের ‘আন মিল আন মিল শ্যাম সাঁবরে’, তারই যেন সঠিক অনুরণন হল ‘প্যায়াসা’তে।
দশ ভাইবোনের পঞ্চম তিনি আর তাদের ঘেঁষাঘেঁষির সংসার। বাঙালি হাই স্কুলে পড়তে শুরু করলেও পড়ায় মন ছিল না, মন ছিল গানে। মীনা কুমারীর মতো ধ্বস্ত শৈশব তাঁর না হলেও খানিক ধ্বস্ত কৈশোরের সাক্ষী ছিলেন তিনি।
এ ললিতা অকাল বৈধব্যকে সঙ্গে করে শিশুকে নিয়ে এক বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন। বাবার অভাব যাকে বুঝতে দেননি, সেই শ্যামলা মায়ের স্মরণে বলেছিলেন, তাঁর মা সেই সময়ের অন্যতম খোলা মনের মানুষ ছিলেন।
ফ্যাশন শো বলতে রুমা বুঝতেন স্বল্পবাসের নারী পুরুষদের স্টেজে উঠে যাতায়াত। কিন্তু ২০১৬ সালে তাঁর সেই ধারণা বদলে যায়। সাহস আর সততাকে সম্বল করে তিনি রাজস্থান হেরিটেজ উইকে ফর্ম ভরে দেন।
যোধপুরের সেন্ট অস্টিন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার জয় নারায়ণ ব্যাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইন পাশ করেন। তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি তাঁর পরিবারকে দিয়েছেন।
চিন্ময়ী রেখা সবসময় অনন্যা — সিস্টেমের মধ্যে থেকে সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করে সসম্মানে উত্তীর্ণা তিনি। তিনি আর কেউ নন, তিনি মুম্বই রেল পুলিশের (সিআরপিএফ) সাব-ইন্সপেক্টর মধ্য তিরিশের রেখা মিশ্র।
গানের আবার জাত বিচার— অভীলিপ্সা পাণ্ডা পর ফরমানী নাজ, তাঁর তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বরের জাদুতে দেশকে আবার শম্ভু, শম্ভু, শিব মহাদেব শম্ভু, শুনতে বলতে বাধ্য করেছেন।
অধ্যবসায়ের অন্য নাম অধ্যাপিকা সি সন্থাম্মা — অনভ্যাসে বিষং শাস্ত্রম্ অর্থাৎ অভ্যাসহীন জ্ঞান মানুষের জীবনে বিষের মতো কাজ করে। কিন্তু সি সন্থাম্মা অর্থাৎ চিলুকুরি সন্থাম্মার জীবন সবসময় এই সংস্কৃত প্রবাদের বিপরীতে গিয়েছে।
রাধা প্রথমে একটা সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু তাতে তাঁর সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে পড়ছিল। ওই রোজগারে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে অসুবিধায় পড়েন তিনি। তাই অন্যকোনও কাজের সন্ধান করছিলেন তিনি।
নাম মলি। বয়স ৬১ বছর। থাকেন কেরলের এর্নাকুলামে। বাজারে সব্জি বিক্রি করেন। তাঁর জীবনের দর্শনই হল, কাজ করো, টাকা জমাও আর পৃথিবী ঘুরে দেখো।
কণিকা টেকরিওয়ালের বয়েস মাত্র ২২ বছর। এই বয়সেই তাঁর মাথায় চাপে বসে ব্যবসার ঝোঁক। আর যেই না ঝোঁক চাপা তেমনি সটান কাজে নেমে পড়া।
‘আমি ভয় করব না ভয় করব না দুবেলা মরার আগে মরব না ভাই মরব না।’ রবিঠাকুরের এই পংক্তিগুলির মর্মার্থকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করে দেখিয়েছেন গুজরাতের ইন্দুবেনে। কোনও প্রতিকূলতাই তাঁকে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানো থেকে আটকে রাখতে পারেনি। তাই তো কেবল মনোবলই আজ তাঁকে করে তুলেছে সর্বজয়া। তিনি ইন্দুবেন রাজপুত।
ক্ষমতায়নের নিয়মই হল তার বিপরীতে থাকা মানুষটিকে বা শ্রেণিসমূহকে সবসময় অবদমিত করে রাখা। সেই প্রবণতা থেকেই হয়তো ভারতীয় মহিলাদের পড়াশোনা না শেখানোর সিদ্ধান্তটা আধিপত্যকামী পিতৃতন্ত্র যেনতেন প্রকারে বহুযুগ ধরে বাস্তবায়িত করে এসেছে। উনিশ শতকের ইউরোপীয় শিক্ষার সংস্পর্শে আসার পরে নারীদের পড়াশোনা শেখানোর একটা প্রয়োজন অনুভূত হলেও সেই প্রয়োজনের গুরুত্বও নির্ধারিত হয়েছিল পুরুষের প্রয়োজনের নিরিখেই। একজন পুরুষের যোগ্য সহধর্মিণী হয়ে ওঠার জন্য, দিনান্তে তার মনোরঞ্জনের জন্য, যতটুক প্রয়োজন ততটুকুই পড়াশোনার মেয়াদ বরাদ্দ ছিল...