পরবর্তীকালে অনেক নামী চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেও উত্তম কুমারকে নিয়ে ছবি তৈরি তাঁদের পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। তার মানে এই নয় যে, এ বছরে তাঁদের তৈরি ছবিগুলো চূড়ান্তভাবে মার খেয়েছিল।
পরবর্তীকালে অনেক নামী চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেও উত্তম কুমারকে নিয়ে ছবি তৈরি তাঁদের পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। তার মানে এই নয় যে, এ বছরে তাঁদের তৈরি ছবিগুলো চূড়ান্তভাবে মার খেয়েছিল।
‘শাপমোচন’- এর জনপ্রিয়তা এমন অংশে পৌঁছল যে আগের এবং পরের ছবিগুলির ভাগ্যরেখা অনেকাংশে বদলে গেল। অনেক পরিচালকের-প্রযোজকের মুখের রেখা তখন কালো হয়ে গিয়েছিল।
আমরা এ ছবির নায়কের কণ্ঠের গান নিয়ে মাতামাতি করি, যার সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। এই গানগুলির পারস্পরিক দক্ষতা খুব একটা আলোচনার জায়গা রাখে না। কারণ সংগীত পরিচালক নিজেই এ গানগুলির কণ্ঠদানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উত্তম কুমারের মতো একজন প্রতিশ্রুতিমান ফিল্মি অভিনয়ের উত্থান পরবর্তীকালের বাংলা ছবিকে অনেক অংশে সাবালক করে দিয়েছিল।
ধীরে ধীরে মুক্তি পেল ‘রাইকমল’ ছবি। অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশনের সঙ্গে পরিচালক সুবোধ মিত্রের এবং উত্তম কুমারের প্রথম ছবি।
সুচিত্রা সেন সে দিক দিয়ে ব্যতিক্রমী ছিলেন। ক্যামেরা ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমেই নিজেকে তিনি খরচ করেননি। তাই সেলুলয়েডে তাঁকে দেখতে দর্শক বিনা কারণে সমাগম ঘটাতেন।
‘সাঁঝের প্রদীপ’ ছবির পরিচালক ছিলেন সুধাংশু মুখোপাধ্যায়ের আগে ১৯৪৯ সালে মাত্র একটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন: ‘হের ফের’ আর এই ছবিটি ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ছবি।
চিত্রনাট্যের প্রতিটি বাঁকেই ছিল মূহুর্মূহু চ্যালেঞ্জ। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে অভিনয় করার সুবাদে উত্তমবাবু জানতেন কোন অস্ত্রে দর্শককে ঘায়েল করা যায়। কিন্তু সন্ধ্যারানির চেহারা, সে ধরনের ছিল না।
ত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন সেই সীমারেখাকে অতিক্রম করে দেখাতে পেরেছিলেন। আমরা বলি না এটা অগ্রদূত-র ছবি। এটাই চিত্র জগতের বড় প্রাপ্তি।
‘বকুল’ ছবির আলোচনা যেটা সবচেয়ে প্রধান বিষয় সেটা হল নিউ থিয়েটার্স-র ব্যানারে ছবি তৈরি হচ্ছে। পরিচালক ভোলানাথ মিত্র। এর আগে মাত্র একটা ছবি তৈরি করেছেন সে ছবিটাও নিউ থিয়েটার্সের ব্যানারে।
শুধু গানের কথা নিয়ে গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের সঙ্গে ২২ বার পরিচালক কাটাকুটি খেলা করেছিলেন। যেটা সে সময় বেশ একটা সাড়া জাগানো ঘটনা।
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সারাজীবনের সালতামামিতে ১৯৫৪ সাল স্মরণীয় বছর। প্রাক ‘অগ্নিপরীক্ষা’ যুগের উত্তম তাঁর কাছে আলেয়ার মতো মিলিয়ে গিয়েছিল। আর এই অংশেই অভিভাবকেরা তাদের রোজগেরে মেয়ের পাশে এসে দাঁড়াননি।
উত্তমের তাকানোর উত্তরে সুচিত্রা যেন সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠেন। দু’জনের চারচোখ কোন অদৃশ্যত বাঁধনে বাঁধা হয়ে আছে তা, ওরা নিজেরাও বোঝে না।
একমাত্র ছেলে গৌতমকে শৈশবকে সঙ্গ দিতে না পারার বেদনা, যেমন উত্তমকে কুরে কুরে খেত, অন্যশদিকে ছেলেকে কেন্দ্র করে মায়ের ইচ্ছাপূরণে ঘাটতি হলেই গৌরীর অবুঝপনা শুরু হতো।
সংগীত পরিচালনায় অনুপম ঘটক শাস্ত্রীয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সত্যন কিন্তু মনলোভা বা চিত্তজয়ী নির্মাণ যা, একটা ছবির সাফল্যয়কে অনেক বাড়িয়ে দেয় সেখানে অনেক খামতি ছিল এ ছবিতে।