‘অগ্রগামী’ পরিচালক গোষ্ঠী একেবারে না হলেও অনেকটা সংযত প্রেমের দৃশ্য রূপায়ণে সফল হয়েছেন। প্রেমের দৃশ্যগুলোকেই মূলধন করা হয়েছে যদিও এ ছবিতে তবুও তার রূপটা আগেকার মতো উগ্র নেই।
‘অগ্রগামী’ পরিচালক গোষ্ঠী একেবারে না হলেও অনেকটা সংযত প্রেমের দৃশ্য রূপায়ণে সফল হয়েছেন। প্রেমের দৃশ্যগুলোকেই মূলধন করা হয়েছে যদিও এ ছবিতে তবুও তার রূপটা আগেকার মতো উগ্র নেই।
ইতিহাস প্রমাণ করেছে, বম্বে থেকে মালা সিনহা যতই জাতীয় মুকুট মাথায় দিয়ে টলিউডের উত্তমকুমারের নায়িকা হোন না কেন, সুচিত্রা সেনের জায়গা আগের মতোই একই থাকবে।
১৯৫৬ সালে অনুভা-র আবেদন বাংলা ছবির বুকে অন্যরকম। তখন ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ছবিতে অনুভাকে উত্তমের সহ-নায়িকা হিসাবে মেনে নেওয়া দর্শকদের কাছে বেশ অসন্তোষের কারণ ছিল।
এ এমন এক ছবি নিয়ে আলোচনা, যার পরতে পরতে ইতিহাসের হাতছানি। উত্তম কুমার যে খড়কুটো ধরে মানুষের কাছে হালে পানি পেয়েছিলেন এ ছবির কাহিনি সে দিক দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার।
কয়েরিয়ারের একদম শেষ দিকে, ‘সূর্যসাক্ষী’ নামে একটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন যেটা ছিল তার বয়স এবং ভাবমূর্তির একেবারে বিপরীত মেরুতে।
ছবির কাহিনি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সুশোভন আর তার স্ত্রী অনিতা, অন্যদিকে ব্রজেশ্বর ও তার স্ত্রী শান্তনা। এই দু’ জোড়া মানুষের মধ্যে বা দুটি পরিবারের দম্পতিদের মধ্যে মানসিক টানাপোড়েন ছিল কাহিনির মূল।
দেবকীবাবু প্রায় ১৮-১৯টা ছবি তৈরির পর ‘চিরকুমার সভা’-তে হাত দিয়েছেন। তৎকালীন বাংলা ছবির বাঘা বাঘা অভিনেতাদের তিনি এ ছবিতে মনোনয়ন করেছিলেন সেখানে উত্তম কুমার ছিলেন কালকের যোগীর মতো নবাগত।
উত্তম ম্যাজিক শুরু হয়েছিল পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি। ১৯৫৬ সালের মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো থেকে আগামী দিনে আমরা অনেক স্মরণীয় ছবি দেখতে পাবো বহু নামী পরিচালকের তত্ত্বাবধানে।
উত্তম কুমারের অভিনয়গুণে সে অসাধ্যসাধন হয়েছিল যে সমস্ত চলচ্চিত্র বোদ্ধারা উত্তম কুমারকে মেনস্ট্রিম বাণিজ্যিক ছবির বাইরে ভাবতে চান না বা পেরে উঠেন না।
উত্তম-সুচিত্রা যুগ চলছে। ‘সবার উপরে’ ব্লকবাস্টার হিট। এরকম একটা প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে ‘সাগরিকা’ বাজারে মুক্তি পেল, যা আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে চলল।
উত্তম ছাড়া আরও যে সব সহ অভিনেতা অভিনেত্রী ছিলেন তাঁদেরও চেষ্টাও কোনও অংশে ত্রুটি ছিল না। ছবি বিশ্বাসের মুখে ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর’ ডায়লগটি, অনেকাংশে ফিল্ম্মোচিত হয়নি।
উত্তম কুমারের ভাগ্য এতটাই ভালো যে এ ছবিতে একাধারে তিনি বাঘা বাঘা সিনিয়র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কো- আর্টিস্ট হিসাবে সঙ্গে পেয়েছেন।
একই বছরে ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তি পাবে আর কিছুদিনের মধ্যে ঋত্বিক ঘটক তখনও তার এলোমেলো চিন্তার রূপায়ণ পূর্ণ করতে পারেননি সে সময় মৃণাল সেন হাত পাকাচ্ছেন ছবির জগতে।
‘কঙ্কাবতীর ঘাট’ উত্তমের ফিল্মি কেরিয়ারে ‘শাপমোচন’ উত্তর এবং ‘সবার উপরে’-র আগে একটি স্মরণীয় ছবি যেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তম কুমার নামক ফিল্মস্টারের ভাগ্য অনেকটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।
‘উপহার’ ছিল সে ধরনের একটি মাইলস্টোন যেখানে উত্তম আগামী দিনে পরিণত অভিনেতা হবার সব রকমের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন।