স্ক্রিনে চিত্রনাট্য, শিল্প নির্দেশনা প্রভৃতি হাজারো অসুবিধা থাকলেও উত্তমবাবুর উপস্থাপন ভঙ্গিতে তা মুহূর্তেই যেন প্রাণ পেত। দেবী সরস্বতীর এমন এক আশীর্বাদ উনার উপর বিরাজ করতো যে প্রতিটা মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করার একটা দুর্লভ সাহস উনি দেখাতে পারতেন।
স্ক্রিনে চিত্রনাট্য, শিল্প নির্দেশনা প্রভৃতি হাজারো অসুবিধা থাকলেও উত্তমবাবুর উপস্থাপন ভঙ্গিতে তা মুহূর্তেই যেন প্রাণ পেত। দেবী সরস্বতীর এমন এক আশীর্বাদ উনার উপর বিরাজ করতো যে প্রতিটা মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করার একটা দুর্লভ সাহস উনি দেখাতে পারতেন।
‘ইন্দ্রাণী’ ছবি উত্তম-সুচিত্রার আরও একটি ম্যাগনাম ওপাস। যে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ছবিতে তা যেন ফুলে ফলে ভরে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই বছরে তাদের সাফল্যের হার যে মান স্পর্শ করেছিল ‘ইন্দ্রাণী’ ছিল তার জিয়নকাঠি। অনেক ভেবেচিন্তে ছবির কর্তৃপক্ষ, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের একটি কাহিনি উপজীব্য করেছিলেন এ ছবির জন্য।
হিন্দি ফিল্মের ইতিহাসে অমিতাভ বচ্চন যখন গতানুগতিক সিনেমা লাগাতার করে গিয়েছেন তার প্রস্তুতি পর্বে বহু মনে রাখার মতো অভিনয় সমৃদ্ধ ছবি তিনি করেছেন। পরিচালকরা করিয়েছেন। সেগুলোর প্রেক্ষিত মনে রাখলে ‘শিকার’ ছবির নির্মাণ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উত্তম কুমারের অত্যন্ত অনালোচিত এবং দুষ্প্রাপ্য ছবি ‘ডাক্তারবাবু’। কারণ ছবিটির প্রিন্ট আর পাওয়া যায় না। আর নতুন প্রজন্মের কাছে এরকম অদেখা ছবির আকর্ষণ খুব বেশি নেই। কিন্তু সালতামামির নিরিখে ১৯৫৮ সালে উত্তমবাবু যে সব ছবি করেছেন তার মধ্যে এই ছবিটির গুরুত্ব অনেক অংশে দেখা যায়।
ছবিটিতে নায়িকার ভূমিকা সুযোগ পেয়েছিলেন অরুন্ধতী মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়া ছবিটির অন্যান্য অংশে চাঁদেরহাট বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুরুষদের মধ্যে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, জহর রায়, ধীরাজ ভট্টাচার্য, তুলসী চক্রবর্তী এবং প্রেমাংশু রায়—কে ছিলেন না ছবিটিতে!
বাঙালি জনমানসে দীর্ঘ কয়েক বছরের যাত্রা পথে এ ধরনের ঘটনা জল ভাত হয়ে গিয়েছিল। উত্তমকুমারের আগে বা উত্তমকুমারের পরে কোনও মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবির নায়কের কপালে এ জয় টিকা দেখা যায়নি।
ছবিটির পরিচালক হরিদাস ভট্টাচার্যের এক অনবদ্য রূপায়ণ এ ছবির প্রতিটি অংশ। ওস্তাদ জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের সুরে সেই মাদকতা ছিল যা শরৎকাহিনীতে দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিটি পর্বে ফুটে উঠেছে পরেরটিকে ছাপিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা।
উত্তম কুমারের ক্যারিয়ারের সমস্ত ছবি আলোচনা করলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ছবিতেই তার অভিনয় বাকচাতুর্যে ভরা। কিন্তু যে ধরনের চরিত্র পেলে একজন অভিনেতা অভিব্যক্তি দিয়ে তা ফুটিয়ে তুলতে পারেন সে ধরনের চরিত্র সে সময় তাঁকে কেউ দেয়নি।
‘পথে হল দেরী’-র কাহিনি শেখালেন কলকাতার অভিজাত মহল কীভাবে চলাফেরা করতো। তাদের বাস্তবিক জীবন কেমন ছিল সেই চিত্র ফোটাতে পরিচালক যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা, যে কোনও দেশের প্রথম শ্রেণির ছবির সঙ্গে তুলনা করা যায়।
চন্দ্রনাথ ছবিটি চাটুজ্জেদের ছবি। কাহিনি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চিত্রনাট্য নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, পরিচালনা কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, সংগীত পরিচালনা রবীন চট্টোপাধ্যায় এবং রূপায়ণের অন্যতম কাণ্ডারী উত্তমকুমার চট্টোপাধ্যায়।
সময়ের কি অলঙ্ঘ্য বাঁধুনি, যে মাসে ‘হারানো সুর’ রিলিজ করল সেই মাসেই মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে অভয়ের বিয়ে রিলিজ করল ‘অভয়ের বিয়ে’। পরিচালক এক এবং অদ্বিতীয় সুকুমার দাশগুপ্ত।
যে ছবি কথার পিঠে কথা দিয়ে, সুরের পরে সুর দিয়ে দর্শকসমাজে নিবেদিত হয়েছে, তার বিশ্লেষণ ইতিহাসের এক একটি সোপান বটে। তার কথা কয়েক প্রজন্ম একই মেধায় একই মননে সঞ্চিত রাখবে। ছবির নাম ‘হারানো সুর’।
উত্তম কুমার কোনও নির্দিষ্ট ফর্মুলা মেনে চলতেন না কখনও। অভিনেতার মূল কর্তব্যই তো চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে বদলে নেওয়া। সেটাই কাঙ্খিত।
উত্তমবাবুরও ক্যারিশমা বলিহারি! প্রত্যেক ছবিতেই নতুন নতুন কিছু সংযোজন করবেন, যা মানুষকে মশা মারতে ভুলিয়ে রাখবে। প্রতিটা ছবিতে চরিত্র অনুযায়ী তার চিত্রায়ণ অন্যান্য অভিনেতা অভিনেত্রীদের থেকে উত্তমবাবুকে অনেক কদম এগিয়ে দিয়েছিল।
‘তাসের ঘর’ ছবিটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সংগীত পরিচালনায় গানের দিক দিয়ে খুব এগিয়ে ছিল। বিশেষত ‘শূন্যে ডানা মেলে, পাখিরা উড়ে গেলে’ গানটি বাংলার মুখে মুখে ফিরত।