আলো ফোটেনি তখনও। চলেছি স্টেডিয়ামের পথে। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। বহুদিনের ইচ্ছা ফলপ্রসূ হওয়ার অপেক্ষায়। অমরনাথ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি অনেক। তাই চলছে পুরোদমে।
আলো ফোটেনি তখনও। চলেছি স্টেডিয়ামের পথে। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। বহুদিনের ইচ্ছা ফলপ্রসূ হওয়ার অপেক্ষায়। অমরনাথ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি অনেক। তাই চলছে পুরোদমে।
এখানে একটা বড় অসুবিধা হল গাড়ি। গাড়ি ছাড়া ওই ঠান্ডায় কোথাও যাওয়ায় যাবে না, আবার থাকলে তার জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতেও হবে। মানে বলা যায় এক অপরিহার্য আপদ।
প্রথম বরফ দেখার অভিজ্ঞতা, ঘরে না থেকে বাইরে চলে এলাম। বাইরে তাপমাত্রা যে এমন কিছু কম তা নয়। মানে, গায়ে হালকা একটা শীতবস্ত্র থাকলেই চলবে। বেরোতেই মুখে চোখে বরফের ধুলো এসে পড়তে লাগল। কিন্তু কী অদ্ভুত; গায়ে এসে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তারা গলে যাচ্ছিল, আর শুকনো হওয়ার কারণে একটুও ভিজিয়েও দিচ্ছিল না। রাস্তাতেও একফোঁটা জল বা বরফ নেই। বরফ শুধু বাতাসে উড়ছে, আর কোথাও কিছু হচ্ছে না। আমার তো বেশ মজা লাগল। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরেই বেশ কয়েকবার এদিক থেকে ওদিক পায়চারি করলাম। তারপরে ওই বরফের মধ্যেই হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরে এলাম। প্রায় আধ...
ছুটির প্রথম দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলে তাপমাত্রা দেখলাম চলে গিয়েছে মাইনাস ৪০। ক্রমে বিকেলের দিকে সেটা হল মাইনাস ৪৭।
গোয়া শুধু সৈকতের জন্য পর্যটকদের টানে তা নয়। সেখানকার সংস্কৃতি, ঐতহ্য এবং জীবনশৈলীও বড় আকর্ষণের। গোয়া ঘুরতে যেতে মন চাইলেও সব ব্যবস্থা করা অনেক সময়েই সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়।
উইসকনসিনে (যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমের একটি রাজ্য) আমার বাড়ির দেওয়াল জোড়া জানলা দিয়ে নীচের বরফ ঢাকা রাস্তাগুলো যখনই চোখে পড়ে, আমি বারবার এই কবিতাটার কথাই ভাবি।
রারেনবাক ফিরে এসে আবার দেখা হয়ে গেল সকলের সঙ্গে। অবশ্য আমাদের এই নতুন দলটির প্রত্যেকেই উঠেছেন সামনাসামনি কোনও বড় হোটেলে।
পরের দিন সকাল সকাল জলখাবার খেয়ে আমরা বেরিয়ে গেলাম। নৌকা করে চললাম যেখানে অ্যানাকোন্ডা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মাঝখানে একবার দাঁড়ানো হল ক্যাপিবারাদের একটি কলোনিতে। নদীর দুধারে জায়গায় জায়গায় দল বেঁধে এরা থাকে। একসঙ্গে অতগুলো অত বড় বড় ইঁদুর দেখে বেশ মজা লাগছিল। এরা মানুষের উপস্থিতি সম্পর্কে একেবারেই উদ্বিগ্ন নয়। নিজেদের মতো বসে আছে, রোদ পোহাচ্ছে, খাচ্ছে। আমরা খানিকক্ষণ তাদের ওই দিনগত পাপক্ষয় দেখে চললাম অ্যানাকোন্ডার খোঁজে। প্রায় আধঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে বনি যে জায়গাটায় নৌকোটা ভেড়াল সেটা একটা জলকাদায়...
চুপি চুপি ঘুরতে যাব। একটাও কথা বলবি না কিন্তু। বারে বারে সাবধান করলাম টিনটিনকে। ভারি অবাক হয়ে টিনটিন আমাকে প্রশ্ন করেছিল—বেড়াতে যাব অথচ হইহুল্লোড় করব না! চুপি চুপি যেতে হবে!
এবার বনির দেখাদেখি আমিও বেশ উত্তেজিত। আমার সামনেও যদি একটি ওরকম ভেসে ওঠে তাহলে বেশ মজার ব্যাপার হবে। অতএব আমিও নামতে চাইলাম।
তবে জঙ্গলে পায়ে হেঁটে ঘোরার চাইতে প্যাম্পাসে নৌকা করে ঘোরা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি আরামপ্রদ। তাছাড়া নদীর একদম ধারে বলে সেখানে বিবিধ প্রাণীর প্রচুর আনাগোনা। প্রসঙ্গত বলে রাখি যে, এই প্যাম্পাস কিন্তু আমাজন নদী নয়। এই নদীর নাম বেনি, আমাজনের একটি উপনদী বলা যেতে পারে। আমরা সেই বেনি নদীর প্যাম্পাস ধরে চললাম আমাজন-অরণ্যের গভীরে। কিছুদূর যেতে না যেতেই এখানকার বিপুল প্রাণীসম্পদের একটি একটি করে চোখে পড়তে শুরু করল। সে এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় পড়া জীবন বিজ্ঞানের বই আর বিবিধ চলচ্চিত্র সত্যি হয়ে উঠছে। অনেক সময় যেসব প্রাণীকে...
হস্টেলে পৌঁছে আবার দেখা হল অন্যান্যদের সঙ্গে। কিন্তু মার্টিন চলে গেছে অন্য কোনও গ্রামে তার তথ্যচিত্র বানানোর উদ্যেশ্যে; কবে ফিরবে কোনও ঠিক নেই। তাই তার সঙ্গে আর দেখা হল না। কাজেই তাকে আর ধন্যবাদ জানানো হল না এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য। সেদিন রাতেই নৌকাবিহারের জোগাড় করে ফেললাম। হস্টেলের মালিককে জিজ্ঞাসা করতেই সে একটা ঠিকানা দিয়ে দিল। সেখানে গিয়ে পরের দিনের জন্য নৌকাবিহারের বন্দোবস্ত হয়ে গেল। এটা অনেকটাই সাধারণ ট্যুর বুকিংয়ের মতো। ওখানে বেশ কিছু আঞ্চলিক সংস্থা আছে যাদের ওই নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার এবং ব্যবসা...
জংলি ম্যাকাওরা মূলত বলে স্কারলেট ম্যাকাও প্রজাতির। তাদের উজ্জ্বল রঙের জন্যই এই নাম। এদের প্রত্যেকের শরীরই উজ্জ্বল লাল রঙের পালকে ঢাকা।
আবার যাত্রা শুরু করার আগে আবিলো আর বাদিয়া দুজনেই স্মরণ করে নিল 'পচামামা'-কে। বলভিয়ান উপজাতীয় ভাষায় ‘পচামামা’-র অর্থ ধরিত্রী মাতা। জীবন জীবিকা সূত্রে জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল প্রতিটি মানুষই অন্তর থেকে বিশ্বাস করে এবং ভক্তি করে পচামামা অর্থাৎ ধরিত্রী মাতাকে। আবিলো এর আগে আমাদের কাছে গল্পও করেছে সে কথা। সে নাকি তার ছোটবেলায় একবার ওই জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেলেছিল। তখন সে মন থেকে পচামামাকে স্মরণ করে ধ্যানে বসেছিল। এবং সেই ধ্যানের মধ্যেই পচামামা তাকে পথ দেখায় এবং সেই পথ মাথায় রেখেই সে ফিরতে পেরেছিল তার গ্রামে। আমরাও আবিলো আর...
এরপর সারাদিনই হেঁটে চলেছি জঙ্গলের রাস্তা ধরে। আর তেমন কিছুই শিহরন জাগানো চোখে পড়ছে না। পথ চলতে চলতে দেখলাম নানাবিধ গাছ। খেলাম পৃথিবীর সবচাইতে ছোট নারকেল। তার আয়তন বড়জোর ওই পিংপং বলের (টেবিল টেনিস খেলার বল) মতো। কিন্তু দেখতে এবং খেতে অবিকল নারকেল। তাছাড়া দেখলাম এক অদ্ভুত বিশাল উঁচু গাছ যার পুরো গুঁড়িটাই কাঁটা দিয়ে ঢাকা। গোলাপ গাছের ছোট ডালে কাঁটা দেখে বড় হওয়া আমি তো দেখেই থ। ওরকম একটা উঁচু গাছ যার মাথা ওপরে কোথায় শেষ হয়েছে দেখাই যাচ্ছে না তার গুঁড়ির পুরোটাই কাঁটায় ঢাকা! বাদিয়া বলল এর কারণ আছে। এই গাছগুলোর গুঁড়িটা...