সুদীপ্ত শাক্যর দিকে তাকাল। শাক্য তাকিয়ে আছে উন্মেষার দিকে। একসময় নিজেই নীরবতা ভঙ্গ করে বলল, “উন্মেষা, আপনি কি কোনও কারণে আপসেট? কাঁদছিলেন?”
সুদীপ্ত শাক্যর দিকে তাকাল। শাক্য তাকিয়ে আছে উন্মেষার দিকে। একসময় নিজেই নীরবতা ভঙ্গ করে বলল, “উন্মেষা, আপনি কি কোনও কারণে আপসেট? কাঁদছিলেন?”
মঙ্গল মাহাতোর দিকে তাকালেন সত্যব্রত। লোকটার বয়স হয়েছে। পাকানো দড়ির মতো চেহারা। দেখেই মনে হয় গাঁজা-মদে সুযোগ পেলেই চুর হয়ে পড়ে থাকে। চেহারা অমার্জিত, গুটকা খাচ্ছে।
পাতি গোয়েন্দার স্পর্ধা দেখে অবাক হয়ে গেল অঞ্জন। নাহ্, এখান থেকে বেরিয়েই তার ল-ইয়ারকে ফোন করতে হবে। এখন সেই চেষ্টাই করছিল অঞ্জন।
অচেনা লোকটি কিছুক্ষণ আগে বলে গেছে, সে অপেক্ষা করবে। এখানে চারিদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো। চার্চে এত সুরক্ষার ব্যবথা কেন, তা সত্যব্রত বুঝলেন না।
অরণ্যের অবস্থা দেখে তৃধা নিজেই দরজা বন্ধ করেছিল। তারপর অরণ্যের কাছে এসে তার থরথর করে কাঁপতে থাকা দেহকে নিজের আলিঙ্গনে টেনে কিছুক্ষণ জড়িয়ে থাকার পরে জিজ্ঞাসা করেছিল, “কী বলছিলে? কী হয়েছে অনিলের?”
ফাদার আন্তোনিওর মুখ গম্ভীর দেখাচ্ছিল। একটু আগেও কিন্তু তিনি বেশ হাসিখুশিই ছিলেন। বেশ উষ্ণ অভ্যর্থনা করেছিলেন সত্যব্রতকে।
সুদীপ্ত ঘরের মধ্যে ঢুকে দেখল, শাক্য সিংহ নামের অফিসারটি একমনে তাঁর নোটপ্যাডে কিছু লিখছেন। সে দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে তার জন্য নির্দিষ্ট চেয়ারে গিয়ে বসলো।
অনিলের বডিটা উপুড় হয়ে পড়েছে। পিছন থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে বডির যেমন পজিশন হওয়ার কথা তেমন কিন্তু নয়। সেক্ষেত্রে মৃত্যুর আগে যে স্পাজম্ হবে, তার দরুণ বডির পজিশন যেমনটি হওয়ার কথা তেমন নয়।
রিমিতা তাড়াতাড়ি একটা চাদর জড়িয়ে নিয়েছিল। ব্রা-প্যান্টিতে সে বসে বসে সৌন্দর্যচর্চা করছে, এটা সবাইকে দেখানোর বিষয় নয়। পূষণ দরজা খুলে দিল তারপর। ততক্ষণে রিমিতা নিজেকে ঢেকে নিয়েছে মোটের উপর।
সত্যব্রতকে চার্চের অনেকেই চেনে। হেলথ্ সেন্টারের ইনচার্জ ‘ডক্টরবাবু’ বলেই লোকে বেশি করে চেনে। কখনও কখনও কেউ চার্চে দেখাতে অপারগ হলে কিংবা চার্চের চিকিৎসায় রোগ-অসুখ না সারলে হেলথ্ সেন্টারে দেখাতে আসে।
শাক্য বিরক্ত হচ্ছিল। এই অফিসার সম্পর্কে সে খোঁজখবর নিয়েছে, একেবারে নিষ্কর্মা। বসে বসে ছাইভস্ম কবিতাচর্চা করেন। আর কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে সেকেন্ড অফিসারকেই পাঠিয়ে দেন বেশিরভাগ সময়।
অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব আর মেলানকলিক এক সম্মোহিনী শক্তি তার চারদিকে একটা অদৃশ্য বলয় তৈরি করে রাখে। আগুনের মতো। মনে হয়, সেই বলয় পার হওয়া অসম্ভব।
অভিষেক অবাক হলেন। এই আজকালকার ছেলে-ছোকরারা যারা এই লাইনে আসছে, তারা সবাই নিজেদের ব্যোমকেশ বক্সী, কিরীটী রায় কিংবা ফেলুদা বলে মনে করে। কাজে বেলায় অষ্টরম্ভা।
অজয় বাবু গম্ভীর মুখে বললেন, “যদি না, কেউ আগেই ওনার স্কাল ভারি কিছুর আঘাতে চুরমার করে দিয়ে ওপর থেকে নীচে ছুঁড়ে ফেলে। তবেই এভাবে স্কাল গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাওয়া পসিবল!”
শাক্য বলল, “গণেশ দাঁ। স্থানীয় ব্যবসায়ী। মশলার আড়ত আছে। কলকাতা থেকে মাল কিনে ফিরছিলেন। সঙ্গে অনেক টাকা ছিল। প্রায় হাজার চল্লিশের মতো।