বিচিত্রের বৈচিত্র

‘সেই গানে গানে আমার প্রাণে ঢেউ লেগেছে কত…’ — গানে-কথায় ঠাকুরবাড়ির কবিপ্রণাম

‘সেই গানে গানে আমার প্রাণে ঢেউ লেগেছে কত…’ — গানে-কথায় ঠাকুরবাড়ির কবিপ্রণাম

‘কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে, সে তো আজকে নয়, সে আজকে নয়!...’ আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে চারদিকে সাজো সাজো রব। আপামর বাঙালির বড় প্রাণের উৎসবে আজ। এবছর আরও আনন্দের কারণ দু’বছর পর সকলে আবার আনন্দ উৎসবে শামিল হতে পেরেছে। দ্বারকানাথ ঠাকুর লেন যেখানে রবীন্দ্র সরণীতে মিশেছে, সে পথটার সকালবেলার ছবি আজ অন্যরকম। ‘অশনি’ সংকেত উপেক্ষা করেই ভোরবেলা থেকে দলে দলে রবীন্দ্রানুরাগী মানুষের ঢল নেমেছে এ পথে। বেল জুঁইয়ের গন্ধে ম ম করছে এ পথ। সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবির সাজ চলতে চলতে থমকে...

read more
গায়ক রবীন্দ্রনাথ

গায়ক রবীন্দ্রনাথ

নিজের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ যত গান রেকর্ড করেছিলেন, তার তালিকা দেখলে বোঝা যায়, সেইসব গানের অধিকাংশই আজ বিলুপ্ত। ফলে, যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা রেকর্ডে শুনেছি, তার বাইরেও…

read more
‘কাহার অভিষেকের তরে সোনার ঘটে আলোক ভরে’

‘কাহার অভিষেকের তরে সোনার ঘটে আলোক ভরে’

ছিন্নপত্রাবলীতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন— 'ইচ্ছে করে জীবনের প্রত্যেক সূর্যোদয়কে সজ্ঞানভাবে অভিবাদন করি এবং প্রত্যেক সূর্যাস্তকে পরিচিত বন্ধুর মতো বিদায় দিই।' তাঁর জন্মদিন কাছাকাছি এলেই কবিকথিত এই আপাতসরল আকাঙ্ক্ষার কথাটি মনে পড়ে যায়। তাঁর বহুতর জীবনকথায় এতদিনে আমরা সকলেই জানি, আশি বৎসরের সেই অতুল্যপ্রভ রবিকিরণের দিনগুলির প্রতিটিই শুরু হত সূর্য জাগানিয়া হয়ে। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন সূর্য উঠে গিয়েছে অথচ তিনি ওঠেননি এমনটা কখনও হয়নি। শান্তিনিকেতনের উত্তরায়ণ প্রাঙ্গণে বিচিত্র নান্দনিকতায় নির্মিত তাঁর বাসভবনগুলির...

read more
হে চিরনূতন…

হে চিরনূতন…

‘…সংসার গহনে নির্ভয় নির্ভর নির্জনসজনে সঙ্গে রহো চিরসখা হে, ছেড়ো না মোরে ছেড়ো না…’ ‘চিরসখা’ তো আর সহজে সকলকে বলা যায় না। তাকেই বলতে পারি, যে একাত্ম করে দিতে পারে…

read more
‘মা’ শব্দটির গভীর ব্যঞ্জনা: শুভ মাতৃদিবস

‘মা’ শব্দটির গভীর ব্যঞ্জনা: শুভ মাতৃদিবস

মনে পড়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে প্রবেশ পর্বের কথা। বিভাগে অনেক অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, সকলেই খুব ভালো। সুন্দর পরিবেশ, সঙ্গে শেখার আনন্দ। এগিয়ে চলল দিন। তারপর এল দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের প্রথম ক্লাসের সেই দিনটি—২ জানুয়ারি। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন এক অধ্যাপিকা, আগে তাঁর ক্লাস পাইনি, আমার কাছে একদম নতুন। ব্যক্তিত্বপূর্ণ, গম্ভীর অথচ সাবলীল ভঙ্গিতে সুন্দর পড়ানোর সঙ্গে মিশে থাকা মিষ্টি হাসি। সেইদিনই সম্ভবত আমার কাঁচা মনে একটি দাগ কাটলেন তিনি। যত দিন যায় সেই দাগ একটু একটু করে গাঢ় হতে থাকে। আস্তে আস্তে আমারও সেই কম কথা...

read more
তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে…

তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে…

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। পৃথিবীর যেখানে যত বাঙালি আছেন, তারা সবাই উৎসবমুখর হয়ে বাংলা নববর্ষ পালন করেন। এই দিনটি যেমন আনন্দ উল্লাসের তেমনি পরস্পর কুশল বিনিময় ও কল্যাণ কামনার দিন। সারা বছরের সমস্ত গ্লানি মুছে দিয়ে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব চুকিয়ে প্রতি বছর আসে পয়লা বৈশাখ। নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনেই গ্রামে-গঞ্জে শহরে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে। মেলা চলে বৈশাখ জুড়ে। এই মেলা বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য। পয়লা বৈশাখ ব্যবসায়ী মহলে হালখাতার দিন। 'হাল' শব্দটি সংস্কৃত এবং ফরাসি দু' ভাষাতেই পাওয়া যায়।...

read more
‘আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে…’

‘আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে…’

এই তো মেরেকেটে বছর চল্লিশের ওপারেই এমন হাঁসফাঁসানো সময়কালে কমলাখামে লালচে 'পহেলা বৈশাখ' লেখা নেমন্তন্ন পত্তরগুলো যেন নতুন করে আশা জাগানিয়া হয়ে দেখা দিত। তাবৎ বাঙালিমন—'হে নূতন দ্যাখা দিক আরবার'— রকমে সানাইয়ের পোঁ ধরত নিজ নিজ সাধ্যমতো। সে নেমন্তন্ন পত্তরের বকলমে আসলেই হাতেগরম যা পাওয়া যেত তা হল হালখাতার নামে সান্ধ্য বিনোদনের ছুতো। পয়লা বোশেখের সকালবেলা লুচি ছোলার ডালের পরে পরেই 'পড়তে বোস'—জাতীয় তালকাটানো দুঃখটা হজম করা তো একমাত্র সন্ধেবেলা ওই দোকানে দোকানে ঘুরতে পাব ভেবেই। নতুন ছিটের ফ্রকের কড়কড়ানি অগ্রাহ্য করে...

read more
আবিরাবীর্ম এধি

আবিরাবীর্ম এধি

'নিশি অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত। আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন করিলাম নত।' সৌর বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছরের প্রথম মাস হিসেবে গণ্য করা হয় বৈশাখকে। চক্রাকারে আমাদের ঋতুসমূহের পরিবর্তন হয়। বছরের শেষদিন চড়ক নামই সেই বর্ষশেষ ও বর্ষবরণের ইঙ্গিত দেয়। বৈশাখ আসে নতুনের ডাক নিয়ে। নতুনকে বরণ করার জন্য আমরা সকলেই উদগ্রীব হয়ে থাকি। অনেকেই মনে করেন বাঙালিদের কাছে নববর্ষ মানে শুধুই নতুন আর্থিক বছরের সূচনা, ব্যবসায়িক লেনদেন ও খাওয়াদাওয়া। কিন্তু শুধু কি তাই? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় 'সত্য আলোক ও...

read more
প্রেরণা: জীবনের নাম উপেন্দ্রকিশোর

প্রেরণা: জীবনের নাম উপেন্দ্রকিশোর

রাজার সিন্দুকে টুনটুনির সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার কাহিনি তো সভ্যতার এক প্রাচীন ইতিহাস, কিন্তু সে কাহিনি তেমন করে আর কেই-বা বলতে পারে? পেরেছিলেন একজন। তাকে তোমরা সবাই চেনো। প্রাণীকুলকে মানবজীবনের রূপকে প্রাণদান করতে তাঁর থেকে ভালো আর কেই-বা পারত? তিনি আর কেউই নন, তিনি হলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি। সুকুমার রায়ের পিতা, সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর, যাঁর গুরুত্ব বাংলাসাহিত্য ঠিকমতো অনুধাবন করার আগেই যেন একটা যুগ ভোজবাজির মতো হুশ করে শেষ হয়ে গেল। টুনটুনির জীবনের সত্যিকারের যন্ত্রণাটুকু আর সেভাবে কখনওই বুঝে ওঠা হল না...

read more
আজ সবার রঙে রং মেলাতে হবে

আজ সবার রঙে রং মেলাতে হবে

বসন্ত সমাগত। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনবার্তা আকাশে বাতাসে। ষড়ঋতুর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বসন্তই পারে মনের জীর্ণ পুরাতন আবর্জনা সরিয়ে এক নতুন প্রাণসঞ্চার ঘটাতে। তাই এই সময়ে প্রায় সমস্ত দেশের মানুষ মেতে ওঠেন বসন্ত বা রঙের উৎসবে। দোল বা হোলি উৎসব হিন্দুদের পবিত্র উৎসব হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন অন্য জাতি উপজাতিরাও। শুধু ভারতেই নয় তার বাইরেও রঙের উৎসব পালিত হয়। যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি মহাশয় তার 'পূজাপার্বণ' গ্রন্থে বলেছেন, 'কেহ কেহ দোলযাত্রাকে বসন্তোৎসব মনে করিয়াছেন কিন্তু বসন্তোৎসব নামে কোন উৎসব পাঁজিতে নাই, স্মৃতিতে...

read more
‘ছন্দ তাহার রইবে বেঁচে কিশলয়ের নবীন নাচে নেচে নেচে…’

‘ছন্দ তাহার রইবে বেঁচে কিশলয়ের নবীন নাচে নেচে নেচে…’

বাতাসে বারুদের গন্ধ। দীর্ঘসূত্রী অ-সুখ আর অসূয়া-কালনাগিনীর বিষশ্বাসে বিশ্ব টলোমলো। এর মধ্যেই তিথির পরে তিথির নাটে এসে উপস্থিত বসন্তপূর্ণিমার চাঁদের তরণীখানি, মন বলে চলো যাই শান্তিনিকেতন— তবে আজকের যে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব তার স্রষ্টা কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নন। কবির কনিষ্ঠ পুত্র ছোট্ট শমীন্দ্রনাথই সেই বসন্ত উৎসবের স্রষ্টা। বসন্তের শ্রীপঞ্চমীর দিন শমী সৃষ্টি করলেন প্রকৃতিবন্দনার এই অভাবনীয় উৎসব। কবি তখন বাইরে। শমী তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে পালন করলেন এই উৎসব, শান্তিনিকেতনে। শমী ওই দিন গেয়েছিলেন, 'এ কি লাবণ্যে পূর্ণ...

read more
বরণীয়া বর্ণিনী মাতৃভাষা-মা আমার!

বরণীয়া বর্ণিনী মাতৃভাষা-মা আমার!

আমাদের মফস্বলি ছেলেবেলায় একুশে ফেব্রুয়ারির মাতামাতি ছিল না কোথাও। হ্যাঁ, সচেতনেই উচ্চারণে আনলাম শব্দটা— 'মাতামাতি'! এখন তো জামায়-শাড়িতে, বিশেষ বিজ্ঞাপনী দেখনদারিতে ভাষাদিবস চাকচিক্যে ঠাসা।সে চকমকির কোথায় যে আগুন, তা জানে হাতেগোনা কয়জনা, জানা নেই, তবে এও একরকমে বেশ ! অন্তত বছরে একবার করে মায়ের ভাষার মর্যাদার কথাটা মনে পড়ে তো আমাদের অধিকাংশ উত্তর প্রজন্মের। যা বলছিলাম,—ভাষার জন্য, বিশেষত নিজের মাতৃভাষাকে সম্মান 'দেখানোর' জন্য কখনও গোটা একটা দিন সরিয়ে রাখা যায়, সে দিনটাতে অশ্রুরুদ্ধ পুষ্পস্তবক হয়ে ওঠা যায় বুকের...

read more
‘ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে…’

‘ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে…’

সারাবছর যে আমরা আপন ভাষা, মাতৃভাষা কিংবা অন্য ভাষা নিয়েও খুব ভাবি তা নয়। একটা একুশে ফেব্রুয়ারি এসে পড়লেই আমরা আলোচনায় আসি, তর্কে জড়াই আর পার্বণী উদযাপনে মাতি। একটা রক্তস্নাত আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে মুখের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠা দেবার যে উদ্দীপনা, তাকে আমরা শুধু আজ বুঝি শুধু কিছু অনুষ্ঠান উদযাপনের পরিসরেই সীমাবদ্ধ রাখি। গৌরবের অনুভবে তাকে নিত্যদিনের জীবনচর্যায় লালন পালন আর করা হয়ে ওঠে কই! পৃথিবীতে প্রায় ২০ কোটির ওপর মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ভাষা ব্যবহারের নিরিখে বিশ্বে বাংলার স্থান সপ্তম। আর ভারতে বাংলায় কথা...

read more

 

 

Skip to content