কালিদাস সেই কবি, যিনি প্রমাণ করেছেন হাজার বিধিবিধান মেনে নিয়েও প্রতিভা তার সত্য স্বর শোনাতে পারে।—বুদ্ধদেব বসু।
কালিদাস সেই কবি, যিনি প্রমাণ করেছেন হাজার বিধিবিধান মেনে নিয়েও প্রতিভা তার সত্য স্বর শোনাতে পারে।—বুদ্ধদেব বসু।
বোধিসত্ত্ব সেবার এক গৃহস্থের ঘরে জন্ম নিয়েছেন। যথাকালে প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাঁর বিবাহ হল সুজাতার সঙ্গে। না, এই সুজাতা তাঁকে পায়সভক্ষণ করাননি। কিন্তু তিনি সুজাতা, সুকুলোদ্ভবা। রূপ-লাবণ্যে ও চরিত্রবলে তিনি শ্বশুরালয়ে সকলের মন জয় করেছিলেন। বোধিসত্ত্ব তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আনন্দে কালযাপন করছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের এক পুঁজিপতির মেয়ে ক্যাথরিন। বাবা শুধু সম্পত্তি বাড়ানোর পিছনে ছুটেছেন সারাজীবন। ক্যাথেরিনের মতে তার বাবা “the richest man in New zealand and the meanest”. বাবার ভালোবাসার অভাব ছোট থেকে তাকে নিঃস্ব করেছে। শুধু ভালোবাসা নয়, আর্থিক কোনও সহায়তা এবং জোটেনি অতি দুর্দিনে।
বাল্যবয়সে পিতার মৃত্যুর পর কুমারদাস তাঁর মাতুলালয়ে প্রতিপালিত হতে লাগলেন। দুই মাতুলই একাধারে বীর অন্যদিকে পণ্ডিত, সাহিত্যচর্চার আটঘাট জানতেন। তাঁদের উৎসাহে কুমারদাসের বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি শুরু হল সাহিত্য রচনার নিরন্তর অভ্যাস। ফল মিলল। কুমার রচনা করলেন আদিকাব্য রামায়ণ অনুসারী পঁচিশটি সর্গবিশিষ্ট বিখ্যাত মহাকাব্য ‘জানকীহরণ’।
রাজার ঘোড়াশালে এক মঙ্গলাশ্ব ছিল, নাম তার পাণ্ডব। তার সহিস ছিল খঞ্জ। তার নাম গিরিদন্ত। স্বভাবতঃই তার চলত্শক্তি অবাধ ছিল না। কিন্তু অশ্বটির রজ্জু ধরে সহিস যখন চলাফেরা করত, তখন অশ্বটি ভাবতো তাকে বুঝি এ ভাবেই চলতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হতে বলে কেন? কথা আগে নাকি কাজ? কথা সকলের কাছে বশ মানে না, এ সত্য বটে। কথা, সার্থক বাকের প্রয়োগ নিয়ে শাস্ত্রে বহু উপদেশ, অনুশাসন। বাক্ আর বাণ একবার প্রযুক্ত হলে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া অসম্ভব, তবু বিশ্বজুড়ে বাকের অপ্রতিহত গতি।
এ বার একটা বানরের গল্প জাতকমালা থেকে। সেবার বোধিসত্ত্ব রাজার অমাত্য হয়ে জন্মেছেন এবং প্রভুকে ধর্ম ও অর্থবিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তাঁর সর্বার্থসিদ্ধি করেন। একবার প্রান্তদেশীয় জনগণ বিদ্রোহী হল, সেই সংবাদ রাজার কাছে পৌঁছল।
১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে লিওনার্ড ভার্জিনিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন মাস ছয়েক তিনি ভার্জিনিয়ার বোনের বাড়ির ওপর তলায় থাকতেন। প্রেমের তীব্র আকর্ষণে সে সময় তিনি ভার্জিনিয়াকে ছেড়ে শ্রীলঙ্কায় চাকরিতে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছিলেন না। ছুটি চাইলেন চাকরি স্থল থেকে। ছুটি নামঞ্জুর হল। ভালো চাকরিটি ছেড়ে দিলেন।
দেওয়ালি মেলাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার উদয়পুরের ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির সেজে উঠেছে এখন। শুধু ত্রিপুরা কেন, গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলেরই এক উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় পর্যটন ক্ষেত্র হচ্ছে মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির প্রাঙ্গণ। তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস,পুরাণ আর কিংবদন্তী! একান্ন পীঠভূমির এক পীঠভূমি হচ্ছে উদয়পুর। সারা বছর রাজ্য ও বহির্রাজ্যের পুণ্যার্থী মানুষ ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির দর্শনে উদয়পুর আসেন।
শেয়াল কখনও কোনও গল্পে বীরের মর্যাদা পেয়েছে? গল্পসাহিত্যের প্রকল্প বা প্লটে সিংহ উদারচেতা পশুরাজ, কখনও বা অবিমৃষ্যকারী, অপরিণামদর্শী। আর শেয়াল? “আমাকে দেখুন” টাইপের ঔদ্ধত্য নিয়ে নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গে তার জুড়ি মেলা ভার। এই যেমন আজকের গল্পেও একটা শেয়াল আছে, সিংহ-ও আছে।
ভার্জিনিয়ার মানসিক অসুস্থতার শিকড় তার শৈশবে। সৎ ভাই জর্জ ডাকওয়ার্থ-এর যৌন হেনস্থার শিকার হন মাত্র ছ’ বছর বয়সে। তারপর আবার মায়ের মৃত্যুর পর সমবেদনা জানানোর অছিলায় ভার্জিনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন জর্জ। পরবর্তীকালে তার জীবনীকার এই মনোবেদনার কথা লিখেছেন।
সিংহ পশুরাজ। তার কাজকর্মে রজোগুণের উৎসাহ, উৎসাহের চোটে কখনও নির্বোধের মতো কাজ করলেও খারাপ কাজ তার নীতিবিরুদ্ধ। শেয়াল অবশ্য তেমনটা নয়, প্রাংশুলভ্যে ফলে লোভ দেওয়া থেকে ছলচাতুরি করে অপ্রাপ্যকে হাতানোর প্রতারণাকৌশল তার নখদর্পণে। সিংহমামা আর শেয়ালমামার এই ফারাকটুকু বুঝে নিয়ে গল্পে এগোনো যাক।
হে বীর, তোমার যা কর্ম, তার যথাযথ সম্পাদন তোমার কর্তব্য। সেই কর্তব্যের হানি জীবনে দুঃখকেই জাগিয়ে তোলে কেবল। কর্মের সম্পাদনের মধ্যে দিয়ে নিজেকে যোগ্য থেকে যোগ্যতর করে তোলাই পার্থিব জীবনের লক্ষ্য। কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা অন্তর্লোকে আসক্তিকেই পুষ্ট করে ক্রমাগত। আসক্ত জীবন মুক্তচিত্তে বিরাটের অনুধ্যান ও তাকে উপলব্ধি করতে সমর্থ হয় না। স্যার বুকুকে বললেন, "কী ব্যাপার বল তো? আজ চারদিন হল, তুই পড়াটা তৈরি করে উঠতে পারছিস না, তুই কি আদৌ বুঝেছিস কি বলতে চেয়েছে ওখানে? অন্ধের মতো মুখস্থ করে আজকাল আর কিছু হয় না, সে তো তোর...
বোধিসত্ত্ব সেবার এক বণিক হয়ে জন্মেছেন। এমনিতেই বলা হয় বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী, আর বাণিজ্যের নিয়মনীতি, কৌশল নানারকম, তার মধ্যে একটা হল প্রতারণা। বণিকমাত্রেই এমন করবেন সেটা না হলেও, জটিল কৌশল আর মানুষের মন বুঝে তাকে নিজের জিনিসটা গছানোর একটা চেষ্টা কিংবা দায় থাকে। মহানগর চলচ্চিত্রে নায়িকা সেলসের চাকরি পেয়ে এই বাণিজ্যনীতির মুখোমুখি হয়েছিল।
গোপন খবর অনুযায়ী ওই বছরই ব্যস্ত কলকাতার ১৪ জুন সকালে টাউনসেন্ড রোড ও হাজরা রোডের মোড়ে একটি বাড়িতে অভিযান চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। খবর ছিল ওই বাড়ির দোতলায় লুকিয়ে আছেন যতীন দাস। খবর মিলে যায়। জেপি স্যান্ডার্সকে হত্যার অপরাধ ও ইংরেজ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্যতম অভিযোগী হিসেবে গ্রেফতার হন ২৪ বছরের তরুণ বিপ্লবী যতীন দাস।