যদিও অন্যদিন হারেমের এই কক্ষ এখন আলো আর আলো, হাসি আর গান, আতর ও আবেশের মাখামাখিতে খিলখিল করে হাসে, কিন্তু আজ অন্যরকম। কক্ষমধ্যভাগ প্রায় আলোহীন…।
যদিও অন্যদিন হারেমের এই কক্ষ এখন আলো আর আলো, হাসি আর গান, আতর ও আবেশের মাখামাখিতে খিলখিল করে হাসে, কিন্তু আজ অন্যরকম। কক্ষমধ্যভাগ প্রায় আলোহীন…।
দূর দেশের এক ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে চাষীরা অনেক খাটাখাটনি করে প্রচুর ফসল ফলিয়েছে মাঠে। ধান গম আলু পটল নানা ধরনের সবজি। সবুজ ধান আর মাঠ ভরা ফসল দেখে কি আনন্দই না করছে চাষিরা।
আকাশের আলো নিভে গেল। হালকা হতে হতে আস্তে আস্তে হারিয়ে গেল শব্দও। সুজনের শরীর থেকে দুই হাতের বাঁধন আস্তে আস্তে আলগা হচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই সুজনের মুখ নেমে এল এক ঘন চুলের অরণ্যে।
এ এক নতুন জগৎ। চন্দ্রাণী সারাদিন বাক্যালাপে, গান শোনায় ব্যস্ত থাকে। ইউটিউব থেকে নতুন নতুন রেসিপি ট্রাই করে। বিবিসি দেখে দেখে খুশি না হয়ে পারেন না।
ছোট থেকে রুচিরা শান্তিপ্রিয়, নির্বিবাদী, ভীতু প্রকৃতির। নিজের ক্ষেত্রে যে এমন একটা পদক্ষেপ নিতে পারবে কোনওদিন ভাবেনি সে। সদ্যস্নাত রুচিরার চুল দিয়ে জল ঝরছে।
‘এই, প্ল্যানচেট করবি?’ লায়োনার মুখে এ কথা শুনে চমকে উঠলাম। বললাম, ‘কেন? হঠাৎ প্ল্যানচেট করব কেন?’ সে বলল, ‘একটু অভিজ্ঞতা চাই’। ‘ধুর, তোর সবকিছুর অভিজ্ঞতা চাই,’ আমি বিরক্ত হয়ে বললাম।
পাঁচটি মেয়ে ছিল। তাদের পাঁচ জনের পাঁচ রকমের শক্তি ছিল। তৃপ্তির ছিল আগুন শক্তি, শান্তির ছিল জল শক্তি, পৃথার ছিল বাতাস শক্তি, শিখার ছিল বরফ শক্তি আর রেণুর ছিল পাথর শক্তি।
কেদার বদ্রীর নৈসর্গিক সৌন্দর্যর কথা অনেকদিন ধরেই লোক মুখে শুনে আসছি৷ তাই প্রত্যক্ষ দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলাম৷ শেষে প্রায় পঞ্চান্ন বছর বয়সে সময় ও সুযোগ মেলাতে রওনা দিলাম ঋষিকেশের পথে৷
একদিন একটা বুলবুলি পাখি বহু দূর থেকে উড়তে উড়তে এসে আমাদের জারুল গাছে বসল। অচেনা জায়গা, সূর্য ডুবে যাওয়ায় বিকেল শেষের কালসাঁঝি নেমে আসছে। এ সময় তো আর কোথাও যাওয়া চলে না। ছোট্ট বুলবুলি তখন একটা শক্তপোক্ত আশ্রয় খুঁজতে লাগল। একটু দূরেই একটা বড় গাছের থেকে পাখিদের হইহই শুনতে পেয়ে বুঝল, ওটাই সব পাখিদের থাকার জায়গা। বুলবুলি তখন উড়ে গিয়ে ওই গাছেরই একটা মাঝারি ডালে বসল। নতুন পরিবেশে এত বন্ধুদের কিচিরমিচির বেশ লাগছিল বুলবুলির। সন্ধে আর একটু বাড়তেই পাখিরা যে যার বাসায় ঘুমিয়ে পড়ল। বেশিরভাগ পাখি তো রাতে দেখতে পায় না, তাই সূর্য...
বাজারে মাছ-মাংসের দোকানও কম বসে৷ হোটেল রেস্টুরেন্ট সব বন্ধ৷ কুকুরগুলো অনেকদিন কিছু খেতে পায়নি, তাই তারা ক্ষুধার্ত হয়ে পাগলের মতো জ্যাম্ত বিড়ালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে৷
রোজ বিকেলে বড় ব্যালকনিতে মাসিমাকে হুইল চেয়ারে করে এনে বারান্দায় বসিয়ে দেয় লীনা। হঠাৎ স্ট্রোক হয়ে কথা অস্পষ্ট হয়ে গেছে মাসিমার । বড়মেয়ে রোজ বিকেলে ফোন করে। সামনের বাগানটা দেখতে দেখতে মাসিমা মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করতে থাকেন। এসময় চোখে মুখে কী এক আনন্দ ফুটে ওঠে। লীনা ম্যাসাজ করে দিতে দিতে কত গল্প শোনায়। যোগ সেন্টারে ম্যাডাম বলতেন, পেশেন্টের সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করতে। মাসিমার দুই মেয়ে, এক ছেলে। লীনা কিছু একটা কাজ খুঁজে চলছিল স্বামী জীবেশ মারা যাবার পর। ছেলেকে পাড়ার স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছে...
চিত্রভাস তার ফটোগ্রাফার বন্ধু অর্পণকে নিয়ে ইটন্ডা পৌঁছায় প্রায় সকাল এগারোটায়। গত কয়েকমাস আগে বোলপুর এসে শুনেছিল ইটন্ডা গ্রামে বিষ্ণুপুরের আদলে নির্মিত টেরাকোটা মন্দিরের কথা। কলকাতায় ওদের বাংলা ম্যাগাজিন 'বাংলার ঐতিহ্য' দু' বছর হল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। চিত্রভাস প্রথম থেকেই এই ম্যাগাজিনের সঙ্গে যুক্ত। ওরা ইটন্ডায় এসেছে টেরাকোটার মন্দিরগুলোর ইতিহাস ও ছবির প্রয়োজনে। চিত্রভাস 'এনসিয়েন্ট হিস্ট্রি'-তে এমএ করার পর 'জার্নালিজম' নিয়ে পড়েছে। লেখালেখির জন্য নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, সঙ্গে বন্ধু অর্পণকেও নেয় ছবি তোলার জন্য।...
সকাল সকাল মায়ের ডাকে টুপুরের ঘুম ভেঙে গেল, কিন্তু মায়ের স্কুল পাঠানোর তো কোনও তাড়াই নেই। বাড়ির বড়রা এত সকাল সকাল টিভি নিয়েই ব্যস্ত। অগত্যা টুপুর নিজেই স্কুলের জামাটা যেই পরতে যাবে অমনি মা চেঁচিয়ে বলে, ‘টুপুর আজ থেকে স্কুলে যাবে না৷’ থতমত টুপুর বলল, ‘কেন মা? আমি তো তোমার সব কথা শুনেছি... বন্ধুদের সাথে দেখা হবে কীভাবে?’ ‘আরে বাবা, শুনছিস না স্কুল তো বন্ধ, কোনও বন্ধুই স্কুলে যাবে না৷’ ‘আমি পার্কেও যাব না?’ ‘না মা, কোথাও যাবে না, একটা অচেনা দৈত্য আমাদেরকে আক্রমণ করেছে, তাই এখন আমাদের বাড়িতেই থাকতে হবে৷’ মন খারাপ করে...
সরকারি আধিকারিক হিসাবে দিন সাতেক হল জঙ্গলের কাছাকাছি নদীর ধারের বাংলোতে উঠেছি। হাতে জম্পেশ একটা কেস। মারাত্মক গোলমাল ছাড়া খামোখা কেনই বা এমন জংলি জায়গায় থাকতে আসব..! মাঘের সন্ধে কাঠের রেলিং ঘেরা ঝুল বারান্দায় কিছুক্ষণ হল বসে আছি। সামনে কুয়াশার চাদর মোড়া অমাবস্যার জঙ্গল। বলে রাখি আমি অতটা শীতকাতুরে নই, কানে আসছে নদীর জলের আওয়াজ, উত্তুরে হাওয়ার দাপটে, শুকনো পাতার খসখস। এসব জায়গায় মন-মেজাজ বেশ ফুরফুরে থাকলেও, মাথার ওপর খাঁড়ার মতো ঝুলছিল সরকারি দায়িত্ব। ক'দিন আগেই বহমান এই জংলি নদীটির স্রোতে এক যুবকের ফুলে ফেঁপে ওঠা,...
অফিস থেকে ফিরে চা আর দুটি মুড়ি গালে ফেলে নাড়াচাড়া করতে করতে মাঝ গঙ্গায় কলার খোলের মতো অতীতে ভাসছিল নিঃসঙ্গ শরদিন্দু। সেই দিনটা— সাদা পা-জামা আর কালচে লাল পাঞ্জাবি পরিহিত শরদিন্দু খাটে আধশোয়া হয়ে তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে টিভির রিমোট হাতে নিয়েছিল। সংসারের রিমোট অনেকদিনই হাতছাড়া। স্ত্রী অরু এবং মেয়ে অন্বেষার উপর ওর কোনও কন্ট্রোল নেই। ওরা নিজেদের মতো চলে। চলছে ২৪ ঘণ্টা চ্যানেল। রিমোট কাজ করছে না। অসহায় হয়ে চেয়ে আছে শরদিন্দু । ইস্, যদি কোনও একটা স্পোর্ট চ্যানেলে ঠেকিয়ে রেখে রিমোটটা অকেজো হয়ে যেত! ও নিউজ চ্যানেল আর সোপ...