কদিন ধরে শিবানী লক্ষ্য করে তার বট গাছটির প্রায় গায়ে আর একটি বট গাছ জন্ম নিয়েছে। সারাটা দিন কাজের পর ক্লান্ত শরীরে বটের নীচে বসে ছেলের বিয়ের স্বপ্ন দেখে শিবানী।
কদিন ধরে শিবানী লক্ষ্য করে তার বট গাছটির প্রায় গায়ে আর একটি বট গাছ জন্ম নিয়েছে। সারাটা দিন কাজের পর ক্লান্ত শরীরে বটের নীচে বসে ছেলের বিয়ের স্বপ্ন দেখে শিবানী।
পুরুষোত্তম নরোত্তম ঝা মৈথিলী ব্রাহ্মণ পরিবারের মানুষ। তবে গত তিন প্রজন্ম ধরে তাঁদের হুগলি জেলার তারকেশ্বরে বসবাস। দাদা দেবোত্তম ও তারকেশ্বর শিবমন্দিরের পুরোহিত হয়েছিলেন।
হারিয়ে যাওয়া শিশুর মতো আমাদের নীলরঙা বিগ-শপারকে পিছনে ফেলে রেখে আমরা গেটের মধ্যে অদৃশ্য হলাম। এয়ারপোর্টের বাইরে গাড়ি যাচ্ছে আসছে। আর ‘ব্যাগ অ্যালোন’-এর মতো একা রাস্তায় পড়ে রয়েছে আমাদের সেই নীলরঙা বিগ-শপার।
অনুষ্ঠান শেষ হতেই ছাত্র-ছাত্রীরা ঘিরে ধরল তাদের বিশিষ্ট অতিথিকে। তাদের ভিড় সামলে মহুয়ার খোঁজ করতেই জানতে পারলো শারীরিক অসুস্থতার কারণে মিনিট পাঁচেক আগে সে বেরিয়ে গেছে বাড়ির উদ্দেশ্যে।
জিয়া সব শুনল। জানতে চাইল ডঃ রেজা কী বলেছেন। তারপর জিজ্ঞেস করল তিয়াস কী চায়? তিয়াস জানাল, তিয়াস কী চায় সেটা বড় কথা নয়, এই শিশুকে গর্ভে ধারণ করতে নানান ওষুধপত্রে নিজেকে তৈরি করেছে জিয়া।
কালীপুজোর দিন সকালে জিনিস আনতে গিয়ে দেখি সিকিউরিটিরা কী একটা ব্যাপারে খুব ব্যস্ত। তাঁদের কাছে চার-চারটে মিষ্টির প্যাকেট এসেছে। ডেলিভারি এড্রেস-এ লেখা আছে, ‘সিকিউরিটি স্টাফ’ আমাদের কমপ্লেক্স এর নাম।
পাঁচুর মা ভাবছে মহাদেবের কৃপা। কৃপা তো বটেই। ভূত-প্রেত এরা তো ভোলা মহেশ্বরেরই চেলাচামুণ্ড। মা’তো জানে না ছেলে পাঁচুর অনুরোধেই দা’ঠাকুর এমন ব্যবস্থা করেছেন।
আচ্ছা দাঠাকুর এখন তো আমরা ইচ্ছে করলেই কাউকে একটা বলতে পারি কি নিজেই ওই পরান উকিলের ঘাড়ে চেপে তার মুণ্ডুটা মটকে দিতে পারি!
লালপাড় সাদাশাড়ি ঘোমটায় পুরো মুখটা ঢাকা। শাড়ির ভেতর থেকে দু হাতের কঙ্কাল হাড়টা বেরিয়ে আছে। হাড়ের হাতে শাঁখাপলা নোয়া ও সোনার দুটো চুড়ি পরানো। শাঁকচুন্নি কথা বলতে বলতেই হাসছে।
ম্যামের নীরবতা তরুণকে কিছু বলতে যেন নির্দেশ দিল। ও বলল, ‘ম্যাম, ভাবছিলাম আপনার আবার কিছু হল না তো? দেরি হচ্ছে বলে। খুব চিন্তা হচ্ছিল।’ ‘আমার জন্য চিন্তা হয় তোমার তরুণ?’
তোমরা চুপ করে দেখ কথা বলো না কেমন। তোমদের আত্মাকে আমি তোমাদের দেহ থেকে মুক্ত করে দিলাম। তোমরাও এখন হাওয়ার মধ্যে ভাসতে পারবে। অদৃশ্য বা অবয়বে থাকতে পারবে।
নিজের ঠাট্টা শুনে পাঁচু হেসে লুটোপুটি। গাছের তলায় হাসতে হাসতে শুয়ে পড়ল। চোখের ওপর খোলা আকাশ গাছের তলায় ঠান্ডা বাতাস। মনের কষ্ট যেন একটু একটু করে পিদিমের তেলের মত ফুরিয়ে গেল।
কানাঘুষো পাঁচুর কানে এল কানাই কোবরেজ জোর করে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে দোজবরে। পাত্র জ্যাঠার বয়সী কেলো নটবর। কানাই মেয়েকে গোয়ালঘরে আটকে রেখেছে।
পাঁচু তিন সেলের টর্চলাইট ব্যবহার করে। কেরোসিনের থেকে সস্তা পড়ে। অবিশ্যি পাঁচুর মতো টর্চের ব্যাটারিতে জোর নেই। টিমটিমে আলো। সামনে পা-ফেলার জমিটুকুতে আলো পড়ে- দূরে আলো ফেলা যায় না।
গত শীতে বাবাও হারিয়ে গেলো। হ্যাঁ, হারিয়েই তো গেলো। আর কিই বা বলতে পারে? দু’দিন আগেও বিকেলের মরে আসা আলোয় দাওয়ায় চেয়ার দু’খানা টেনে নিয়ে বসে গল্প করতে করতে চা খাচ্ছিলো দু’জনাতে।