ভক্তি ও ভক্ত নিয়ে বিস্তর ভাবনা-চিন্তা করা হয়। সরল বিশ্বাস না থাকলে ভগবান লাভ হয় না। অনন্ত শক্তি মহামায়া কারও কারও মধ্যে কৃপা করে সে শক্তি প্রদান করেন, যাতে তাঁকে লাভ করা যায়। অনন্তের খেলা কে বুঝবে!
ভক্তি ও ভক্ত নিয়ে বিস্তর ভাবনা-চিন্তা করা হয়। সরল বিশ্বাস না থাকলে ভগবান লাভ হয় না। অনন্ত শক্তি মহামায়া কারও কারও মধ্যে কৃপা করে সে শক্তি প্রদান করেন, যাতে তাঁকে লাভ করা যায়। অনন্তের খেলা কে বুঝবে!
ভক্তির পথ—কর্ম, জ্ঞান ও যোগের থেকেও অধিকতর শ্রেষ্ঠ। ভক্তি, কর্ম, জ্ঞান ও যোগ সকল পথ সেই এক লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়।
শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, “দেখো মেয়েরা পুতুল খেলা কত করে যতদিন না বিবাহ হয়। আর যতদিন না স্বামী সহবাস করে। বিবাহ হলে পুতুলগুলি পেটরায় তুলে ফেলে। ঈশ্বর লাভ হলে আর প্রতিমা পুজোর কি দরকার?”
শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, “মদের নেশা কমাবার জন্য একটু একটু চালুনির জল খেতে হয়। তাহলে ক্রমে ক্রমে নেশা ছুটতে থাকে।”
ভিজে দেশলাই যেমন জ্বালানোর জন্য অনেকবার ঘষতে হয়, তেমন আবার শুকনো দেশলায় একবার ঘষলেই জ্বলে ওঠে। তেমন ভক্ত ভগবত প্রসঙ্গ হওয়া মাত্র প্রেমাগ্নিতে জ্বলে ওঠে কিন্তু বিষয়ীর সাথে হাজার ভগবত প্রসঙ্গ করও কিছুতেই কিছু হয় না।
শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীমা ও স্বামীজির তিন রূপে এক সত্ত্বা সেই এক অনন্তের। যাদের সহজ সরল জীবন অথচ মহাভাবের ঘনীভূত রূপ। সাধারণের মতো দিন যাপন করছেন অথচ গভীর ভগবত প্রেম সম্পন্ন। রূপ ঢেঁকে অরূপের আবির্ভাব।
তিনি সাংসারিকতা থেকে দূরে। যেখানে হিংসা, বিদ্বেষ, রাগ, অস্মিতা ইত্যাদি সকল রয়েছে তিনি তখন দূরেই থাকেন। তিনি কারও বশ নন। তিনি প্রেমের বশ।
শ্রীরামকৃষ্ণের প্রেমে পড়তে শুরু করেছেন মাস্টার। নিজেও অনুভব করছেন কোন এক অদৃশ্য শক্তি তাকে আবার টেনে নিয়ে এসেছে। ভক্ত ভগবানের সম্পর্ক তাই-ই। ভক্ত ছোট চুম্বক ভগবান বড় চুম্বক।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বলছেন, “পাঁজিতে বিশ আড়া জল লেখা আছে, কিন্তু পাঁজি নিংড়লে জল পড়ে না। সিদ্ধি সিদ্ধি বললে নেশা হয় না। বেটে খেতে হবে। তবে নেশা হবে।”
আমরা চাই, অনন্ত সুখ, চাই অনন্ত মুক্তি। প্রকৃতপক্ষে আমরা অনন্তকে চাই। আমরা প্রত্যেকে অনন্তকে বুঝি বা না বুঝি, ওই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি। পূর্ণ স্বরূপ কে জানি না বলে আমরা ছোট ‘আমি’ তে বদ্ধ হয়ে পড়ি।
‘প্রথমে সাধু সঙ্গ করতে হয়। সৎসঙ্গ করলে ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা হয়, শ্রদ্ধার পথ নিষ্ঠা। নিষ্ঠায় ঈশ্বর কথা বই আর কিছু শুনতে ভালো লাগে না। স্ত্রীর যেমন স্বামীতে নিষ্ঠা, এই নিষ্ঠা যদি ঈশ্বরেতে হয় তবেই ভক্তি হয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ এও বলছেন, ভগবান শ্রীনারায়ণ প্রহ্লাদকে বললেন, ‘তুমি বড় লও।’ প্রহ্লাদ বলেন, ‘আপনার দর্শন পেয়েছি। আমার আর কিছু দরকার নাই।’
ভগবানে মন রেখে সমস্ত কর্ম করা, তা ঈশ্বরের কৃপায় সম্ভব। তার কৃপায় বৈরাগ্য আসে, মানুষের রোগ লেগেই আছে তার উপর আসক্তি। জগতের প্রতি বিরাগ ও ঈশ্বরের অনুরাগ।
বাড়ি প্রস্তুত করতে হলে প্রথমে ভাড়া বাঁধতে হয়। কিন্তু বাড়ি প্রস্তুত হয়ে গেলে আর ভাড়া দরকার থাকে না। মূর্তি পূজাও সেই রূপ প্রথমে দরকার শেষে আর প্রয়োজন থাকে না।
অহল্যা বলেছিলেন, “হে রাম ! যদি শুকর যোনিতেও জন্ম হয় সেও শিকার। কিন্তু যেন তোমার শ্রীপাদপদ্মে শুদ্ধা ভক্তি থাকে আর আমি কিছুই চাই না।”