শ্রীশ্রী ঠাকুর, শ্রীমা স্বামীজির আবির্ভাব, নতুন কোনও একটি সম্প্রদায়ের জন্য নয়। আবির্ভাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেদের পুনরুত্থান। সনাতন আদর্শকে জাগরিত করা। তিনি বলতেন, “নবাবী আমলের মুদ্রা বাদশাহী আমলে চলে না।”
শ্রীশ্রী ঠাকুর, শ্রীমা স্বামীজির আবির্ভাব, নতুন কোনও একটি সম্প্রদায়ের জন্য নয়। আবির্ভাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেদের পুনরুত্থান। সনাতন আদর্শকে জাগরিত করা। তিনি বলতেন, “নবাবী আমলের মুদ্রা বাদশাহী আমলে চলে না।”
হৃদয় হোক প্রভুর আশ্রয়স্থল। যেখানে প্রভু নিশ্চিন্তে আসতে পারেন, থাকতে পারেন। আর বাসগৃহ মন্দির হোক, যেখানে প্রভু ও প্রভুর ভক্তেরা নিশ্চিন্তে আনাগোনা করতে পারেন, থাকতে পারেন। ভাবনা ও উদ্বেগহীন দিন কাটাতে পারেন। এমনই প্রভুর ইচ্ছা হোক, যা ভক্ত পূরণ করতে পারে।
আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসি, তার সান্নিধ্য অনুভব করার চেষ্টা করি। যেমন আমরা পিতা-মাতা, গুরুর সান্নিধ্য লাভ করি। তেমনই ঈশ্বর উপাসনার মাধ্যমে তার সান্নিধ্য লাভ করা যায়। তিনি আমাদের প্রিয়, প্রিয়ের থেকে প্রিয়। তাঁকে সবকিছু উজাড় করে দেওয়া যায়।
মানুষ চাই, মানুষ চাই, মানুষ চাই, তাহলেই সব কিছু হয়ে যাবে, স্বামীজি অনেক আগেই ঘোষণা করেছিলেন। প্রকৃত কয়েকজন মানুষ হলেই স্বামীজি পৃথিবীকে উল্টে দিতে পারতেন। বলতেন, আশিষ্ট, দ্রঢ়িষ্ঠ, বলিষ্ঠ, মেধাবী মানুষ চাই।
আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি ভোগ্য বিষয় হিসেবে জগতের এত উপকরণ পায় যে আর ভিতরের দিকে তাকানোর সময় থাকে না বা দরকার হয় না। তার সীমার মধ্যে এত ভান্ডার রয়েছে, যা অফুরন্ত।
সংসারীরা কেমন করে সংসার করবেন? শ্রীরামকৃষ্ণ সে কথাসকল অনেকবার বলেছেন। কখনও সরল কথায়, কখনও বা গল্পচ্ছলে। সংসারে থেকে ঈশ্বরলাভ করা কেমন করে সম্ভব? সে কথাই বলছেন এক হাতে সংসার করা এক হাতে ঈশ্বরকে ধরে থাকা।
স্বামীজি বলছেন, “যদি আমরা ঈশ্বরের বিশ্বাস করি তবে মানতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে, যা কিছু আমার বলে মনে করি সব তাঁরই, ঈশ্বরের।
কথায় আছে, কষ্টিপাথরের স্পর্শে ধাতু সোনা হয়ে যায়। অবতার পুরুষরা সেই কষ্টিপাথর, যাঁরা স্পর্শ মাত্রই মানুষের পূর্বস্বভাবের পরিবর্তন করিয়ে নতুন আর এক মানুষে পরিণত করতে পারেন। এমন একজন ব্যক্তি হলেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
শ্রীরামকৃষ্ণদেব গিয়েছেন কলকাতার শ্যামপুকুর পল্লীতে। শ্রী প্রাণকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। এক্সচেঞ্জের বড়বাবু। নিলামের কাজ তদারক করেন। তিনি একটু স্থুলকায় ছিলেন বলে, ঠাকুর তাঁকে ‘মোটা বামুন’ বলে ডাকতেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের পেটের অসুখ অনেক সময় লেগে থাকত। একদিন শম্ভুবাবু এরূপ পেটের অসুখের জন্য তাকে একটু আফিম খেতে পরামর্শ দেন ও রানি রাসমনির বাগানে ফিরবার সময়, তার কাছ থেকে নিয়ে যেতে বলেন। ঠাকুর ও সে-কথাই সম্মত হলেন।
মানবরূপ শ্রীরামকৃষ্ণের লোক ব্যবহার সত্যই অনুধাবনযোগ্য। মুর্হুমুহু সমাধিবান যে পুরুষ তাঁর পক্ষে সমাজে লোকব্যবহার যে স্বাভাবিক হবে অথবা দৃষ্টান্তকরি হতে পারে তা অকল্পনীয়।
রামকৃষ্ণ জীবন আদর্শ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মা ভবতারিণী, বালক শ্রীরামকৃষ্ণের কোন বাসনা অপূর্ণ রাখেননি। তাকে পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন কৃতকৃত্য। পূর্ণস্বরূপ ছিলেন।
শ্রীশ্রীমায়ের জগতে প্রত্যেকটি জীবের প্রতি ছিল সন্তান ভাব। শ্রীমায়ের মমতা যেমন মানুষের প্রতি তেমন ভাবে ইতর জীবজন্তুদের প্রতিও সমান ভাবে কাজ করত।
ভগবান স্বয়ং মনুষ্য লীলা করার জন্য ভক্তের কারণে মানুষ রূপ ধরে অবতীর্ণ হন। ভগবান মধুর রস আস্বাদন করতে চান। প্রতি যুগেই তিনি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সে রস আস্বাদন করেছেন।
সাধক সাধিকার মনে অনন্তের ভাবনা তোলপাড় করে নানা জিজ্ঞাসায়। কেন এই সৃষ্টি? কী কারণেই বা এই শরীর ধারণ? এর অন্ত কোথায়? ঈশ্বর আর তার সৃষ্টির সম্পর্কই বা কী? সত্য সত্যই কি ঈশ্বর দর্শন করা যায়?