রবি ঠাকুরের ছড়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় সেই ছোটবেলা থাকে। সুন্দরবন আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ সারা বিশ্বের কাছে হয়ে গিয়েছে সমার্থক, অবিচ্ছেদ্য।
রবি ঠাকুরের ছড়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় সেই ছোটবেলা থাকে। সুন্দরবন আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ সারা বিশ্বের কাছে হয়ে গিয়েছে সমার্থক, অবিচ্ছেদ্য।
এক সময় অসমের রাজধানী ছিল শৈল শহর শিলং। এই শহর ও চেরাপুঞ্জী যে কবির রচনায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল তা আমরা জানি। তাঁর লেখায় বরাক উপত্যকার শিলচর শহরের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। অসমের সঙ্গে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক ছিল বটে, তাই তো তিনি তিনবার অসম ভ্রমণে গিয়েছিলেন। প্রথম বার ১৯১৯ সালে, তার পর ১৯২৩ এবং ১৯২৭ সালে। আজ রবিঠাকুরের অসম ভ্রমণের টুকরো টুকরো গল্পই আমরা করব এ পর্বে। গল্পই বটে। সেই সময়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা তো আর আজকের মত এত উন্নত ছিল না। কলকাতা থেকে হাওড়া যেতে হত নৌকা সেতু দিয়ে, যাকে বলা হয় পন্টুন ব্রিজ। বড়...
সমস্ত পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করে পরিকল্পনার সাফল্য। এজন্য সরকারের অর্থ সংস্থানের পাশাপাশি সৎ ও দক্ষ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং দলনিরপেক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা রূপায়ণের প্রতিটি স্তরে সুন্দরবনের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুন্দরবনের নদীতে দিনে দু’বার জোয়ার হয় এবং জোয়ারের স্থায়িত্ব হয় প্রায় ছ’ঘণ্টা। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দু’দিন পর জোয়ার জল সবচেয়ে বাড়ে। আবার জোয়ারের স্রোতও ভাটার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়। ফলে দ্বীপে যে জোয়ার বা ঢেউয়ের ধাক্কা আসে তা অনেকটাই প্রশমিত হয়ে যায় ম্যানগ্রোভ প্রাচীরে।
পশ্চিমে গঙ্গা আর পুবে মেঘনা—এই দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থানে আজ থেকে প্রায় ছ’কোটি বছর আগে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনাবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে গড়ে উঠেছিল বিশ্বের বিস্ময়, আমাদের গর্বের ধন সুন্দরবন। তারপর লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তার আকার, আয়তন ও রূপের পরিবর্তন হয়েছে।
সুদূর অতীতে হিমালয় এবং ছোটোনাগপুর মালভূমি থেকে উৎপন্ন অনেক নদীর মিষ্টি জলের স্রোত সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিশত। কিন্তু বর্তমানে এমন নদীর সংখ্যা মাত্র চারটি—হুগলি, বলেশ্বর, তেতুলিয়া ও মেঘনা।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় রেল লাইনের কাজ চলাকালীন সময় কাঠের প্রচুর প্রয়োজন পড়ে, তখন হাতির সহায়তায় দূর দূর থেকে কাঠ আনা হয়েছিল, সেই কাঠ বহনকারী হাতিদের পায়ের কাঁদা তৈলাক্ত ছিল এবং তাতে তেলের গন্ধও ছিল, সেই থেকে তেলের সন্ধান শুরু হয়।
সুন্দরবনের কথা উঠলেই সবার মন গর্বে ভরে ওঠে। পশুজগতের রাজা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র স্বাভাবিক আবাস হল এই সুন্দরবন। অতুলনীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ইউনেসকো সুন্দরবনকে সংরক্ষিত প্রাণমন্ডলের শিরোপা দেওয়ায় আমাদের গর্বের সীমা নেই। অনন্য ভৌগোলিক গঠন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও সুন্দরবন আমাদের কাছে গর্বের ধন। এ সবই আমাদের জানা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যে যে আর একটি অনন্য গর্বের সম্পদ রয়েছে সুন্দরবনে তা বেশিরভাগ মানুষেরই কাছে অজানা। কারণ তা নিয়ে চর্চা হয় খুব কম। অথচ এই সম্পদ সুন্দরবন ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও মেলে না, যেমনটি...
অসমের চা শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জায়গায় ব্রিটিশের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। কিন্তু সব ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়নি। তাই কিছু কিছু ঘটনা স্থানীয় মানুষদের স্মৃতিতেই রয়ে গিয়েছে।
অনার্যদের মধ্যে ক্রমশ তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন মহর্ষি কপিল। আশ্রম ঘিরে বাড়তে থাকে তাঁর অনুগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এই সংবাদে শঙ্কিত সূর্যবংশীয় সগর রাজ মনে হয় ষাট হাজার সেনা দিয়ে কপিলমুনির আশ্রম আক্রমণ করেন।
চা বাগানগুলিতে বাইরের কোনও ব্যক্তির প্রবেশ অধিকার ছিল না। তবে পূজারী ব্রাহ্মণ দেওশরন ত্রিপাঠি, কাপড় ব্যবসায়ী গঙ্গাদওয়াল দীক্ষিত, রাম প্রসাদ চৌবে এঁদের জন্য সীমিত অনুমতি ছিল। তাঁরাই চা শ্রমিকদের বাইরের খবর দিতেন।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে —“সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।” কারণ সুপ্রাচীনকাল থেকে সাগরদ্বীপের দুর্গমতা। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সাগরদ্বীপের বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। অতীতে এখানে ছিল সমৃদ্ধ জনপদ।
শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের ছবি কাঠিও ছিল ইরেজ সাহেবদের হাতে। অসাস্থ্যকর ‘কুলি লাইন’ এ চা শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা হল। এই কুলিলাইন শব্দটি বাগান কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করত। শ্রমিকদেরকে শুধু ২৫ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করার জন্য প্রদান করা হত।
হিন্দুরা ছাবালপীর বা খোকা পীর কে বালক কৃষ্ণ বলে মনে করেন। সুন্দরবন এলাকায় যখন ষোড়শ সপ্তদশ শতকে পীরদের দ্বারা ইসলাম ধর্মের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছিল তখন হিন্দুদের বালক কৃষ্ণ মুসলমানদের ছাওয়াল পীরের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়।
‘খুব লড়ি মর্দানি, ওহ তো ঝাঁসি ওয়ালি রানি থি’ না আজ ঝাঁসির রানির গল্প নিয়ে আসিনি। তবে ইতিহাসের পাতাতে তো ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈর মতো আরও অনেক বীরাঙ্গনা রয়েছেন। আজ তাঁদেরই একজনের কথা বলব।