বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে সত্যনারায়ণ ও সত্যপীর একই উপাস্য। অনেক ঐতিহাসিকের মতে গৌড়েশ্বর হুসেন শাহ তাঁর রাজ্যে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সমণ্বয়ের জন্য হিন্দুদের সংস্কৃত শব্দ ‘সত্য’ ও মুসলমানদের আরবি শব্দ ‘পীর’ জুড়ে সত্যপীর উপাসনা প্রবর্তন করেন।
বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে সত্যনারায়ণ ও সত্যপীর একই উপাস্য। অনেক ঐতিহাসিকের মতে গৌড়েশ্বর হুসেন শাহ তাঁর রাজ্যে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সমণ্বয়ের জন্য হিন্দুদের সংস্কৃত শব্দ ‘সত্য’ ও মুসলমানদের আরবি শব্দ ‘পীর’ জুড়ে সত্যপীর উপাসনা প্রবর্তন করেন।
অসম নামের উৎস শব্দটি নিয়ে ভিন্ন মত আছে। তবে আজকের দিনে আসাম নয়, রাজ্যটির নাম ‘অসম’ বলেই আমরা জানি। ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে ইংরেজিতে ‘আসাম’ বানানে একটি ‘S’ ব্যবহার করা হতো।
মানিক পীরের মূর্তি আজকাল প্রায় দেখাই যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর সমাধি বা স্তূপ পূজা-হাজোত করা হয়। মানিক পীরের মূর্তি খুব সুন্দর। গায়ের রং ফর্সা। মাথায় বাবরি করা চুল ও গালে দাড়ি।
অসম বলতেই মনে হয় সবুজের অসম, গাছের অসম, বিহুর অসম, বৃষ্টির অসম। আমার অসম।
বসন্ত রায়—নামটা শুনলে ইনি যে কোনও দেবতা হতে পারেন তা মনে আসে না। কারণ দেবতাদের নামের শেষে কোনও পদবি থাকতে দেখা যায় না। কিন্তু ব্যতিক্রম সুন্দরবনের লৌকিক দেবতা দক্ষিণ রায়, কালু রায় বা বসন্ত রায়।
মুন্সি বয়নুদ্দিন রচিত মুসলমানি কেচ্ছা ‘বনবিবি জহুরানামা’ (১৮৭৮) থেকে জানা যায় মক্কা থেকে বনবিবি খোদাতাল্লার হুকুমে এসেছিলেন ভাটির দেশে অর্থাৎ সুন্দরবনে।
অনার্য আদিম প্রাচীন সুন্দরবনবাসী, তাই পৃথিবীর অন্যান্য আদিম সংস্কৃতির মতো ভয়ঙ্কর সেই সব জীবজন্তুর হাত থেকে বাঁচতে তাদের মধ্যে দেবত্ব আরোপ করে তাদের পুজো শুরু করে।
কালীপুজো বাঙালির কাছে দুর্গাপুজোর পর দ্বিতীয় বড়ো উৎসব। কিন্তু আজ থেকে অর্ধ শতক আগে সুন্দরবন অঞ্চলে দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর বাড়তি কিছু গুরুত্ব ছিল না।
বর্তমান সুন্দরবনে লৌকিক দেবদেবীদের গুরুত্ব ক্রমশ কমলেও একমাত্র যে দেবীর গুরুত্ব একটুও কমেনি, বরং ক্রমবর্ধমান তিনি হলেন সর্পদেবী মনসা। সুন্দরবন হল সাপসঙ্কুল এলাকা।
বজ্রযান বৌদ্ধতন্ত্রে ‘হারিতী’ নামে এক দেবী আছেন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে ওই বৌদ্ধ দেবী হারিতী থেকে শীতলার উদ্ভব। বৌদ্ধ মতে হারিতী হলেন সন্তানের জন্মদাত্রী ও শিশু রক্ষাকারী দেবী।
বিশালাক্ষী দেবী যে অনার্য সমাজ থেকে সোজাসুজি হিন্দু সমাজে আসেননি তার প্রমাণ পাওয়া গেছে নেপাল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি চর্যাপদ থেকে। অধ্যাপক-গবেষক ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত এই চর্যাপদগুলি আবিষ্কার করেন।
কেবল শীতলার সঙ্গেই নয়, কোথাও কোথাও পঞ্চানন্দ, ধর্মঠাকুর, আটেশ্বর, দক্ষিণ রায়, পাঁচুঠাকুর, বসন্ত রায় প্রভৃতি লৌকিক দেবতাদের সাথেও জ্বরাসুরকে পূজিত হতে দেখা যায়।
দেখতে কেমন পাঁচু ঠাকুর? তাঁর প্রচলিত চেহারা কিন্তু অতি ভয়াবহ, আদিম দেবতাদের সঙ্গে অনেক মিল দেখা যায়। তাঁর গায়ের রং কালো। হুতোম প্যাঁচার মতো বড় বড় গোলাকার চোখ এবং চোখের রং লাল। মাথায় ঝাঁকড়া কোঁচকানো চুল।
পঞ্চানন্দ দেখতে কিছুটা শিবের মতো হলেও পার্থক্যই বেশি। পঞ্চানন্দের দেহের রং টকটকে লাল। বিরাট গোলাকার তিনটে রক্তচক্ষু দেখে ভীতিসঞ্চার হওয়া স্বাভাবিক। টিকালো নাক।
‘ওলাবিবি’ শব্দটির সঙ্গে আমার পরিচিতি আশৈশব। কারণ প্রায় অর্ধশতক আগে দারিদ্র্যপীড়িত সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে এক বিভীষিকাময় রোগ ছিল বিসূচিকা বা কলেরা। তখন গ্রামে সরকারি নলকূপের সংখ্যা ছিল খুব কম বা কোথাও আদৌ নেই। অধিকাংশ সাধারণ মানুষ পানীয় জল হিসেবে পুকুরের জল খেতে বাধ্য হত। ছিল না কোনও স্থায়ী শৌচাগার। ফলে সমস্ত মানুষ খোলা মাঠে মল ত্যাগ করত আর শৌচকর্ম করত পুকুরে। আবার সেই পুকুরের জল রান্নার কাজে বা পানীয় জল হিসেবে ব্যবহৃত হত। তাছাড়া স্নান এবং জামাকাপড় ধোয়াও হত সেই পুকুরে। কখনও একটা বড়ো পুকুর পাড়ার অনেক পরিবারও...