পশ্চিমে গঙ্গা আর পুবে মেঘনা—এই দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থানে আজ থেকে প্রায় ছ’কোটি বছর আগে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনাবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে গড়ে উঠেছিল বিশ্বের বিস্ময়, আমাদের গর্বের ধন সুন্দরবন। তারপর লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তার আকার, আয়তন ও রূপের পরিবর্তন হয়েছে।
পশ্চিমে গঙ্গা আর পুবে মেঘনা—এই দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থানে আজ থেকে প্রায় ছ’কোটি বছর আগে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনাবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে গড়ে উঠেছিল বিশ্বের বিস্ময়, আমাদের গর্বের ধন সুন্দরবন। তারপর লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তার আকার, আয়তন ও রূপের পরিবর্তন হয়েছে।
সুদূর অতীতে হিমালয় এবং ছোটোনাগপুর মালভূমি থেকে উৎপন্ন অনেক নদীর মিষ্টি জলের স্রোত সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিশত। কিন্তু বর্তমানে এমন নদীর সংখ্যা মাত্র চারটি—হুগলি, বলেশ্বর, তেতুলিয়া ও মেঘনা।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় রেল লাইনের কাজ চলাকালীন সময় কাঠের প্রচুর প্রয়োজন পড়ে, তখন হাতির সহায়তায় দূর দূর থেকে কাঠ আনা হয়েছিল, সেই কাঠ বহনকারী হাতিদের পায়ের কাঁদা তৈলাক্ত ছিল এবং তাতে তেলের গন্ধও ছিল, সেই থেকে তেলের সন্ধান শুরু হয়।
সুন্দরবনের কথা উঠলেই সবার মন গর্বে ভরে ওঠে। পশুজগতের রাজা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র স্বাভাবিক আবাস হল এই সুন্দরবন। অতুলনীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ইউনেসকো সুন্দরবনকে সংরক্ষিত প্রাণমন্ডলের শিরোপা দেওয়ায় আমাদের গর্বের সীমা নেই। অনন্য ভৌগোলিক গঠন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও সুন্দরবন আমাদের কাছে গর্বের ধন। এ সবই আমাদের জানা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যে যে আর একটি অনন্য গর্বের সম্পদ রয়েছে সুন্দরবনে তা বেশিরভাগ মানুষেরই কাছে অজানা। কারণ তা নিয়ে চর্চা হয় খুব কম। অথচ এই সম্পদ সুন্দরবন ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও মেলে না, যেমনটি...
অসমের চা শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জায়গায় ব্রিটিশের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। কিন্তু সব ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়নি। তাই কিছু কিছু ঘটনা স্থানীয় মানুষদের স্মৃতিতেই রয়ে গিয়েছে।
অনার্যদের মধ্যে ক্রমশ তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন মহর্ষি কপিল। আশ্রম ঘিরে বাড়তে থাকে তাঁর অনুগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এই সংবাদে শঙ্কিত সূর্যবংশীয় সগর রাজ মনে হয় ষাট হাজার সেনা দিয়ে কপিলমুনির আশ্রম আক্রমণ করেন।
চা বাগানগুলিতে বাইরের কোনও ব্যক্তির প্রবেশ অধিকার ছিল না। তবে পূজারী ব্রাহ্মণ দেওশরন ত্রিপাঠি, কাপড় ব্যবসায়ী গঙ্গাদওয়াল দীক্ষিত, রাম প্রসাদ চৌবে এঁদের জন্য সীমিত অনুমতি ছিল। তাঁরাই চা শ্রমিকদের বাইরের খবর দিতেন।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে —“সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।” কারণ সুপ্রাচীনকাল থেকে সাগরদ্বীপের দুর্গমতা। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সাগরদ্বীপের বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। অতীতে এখানে ছিল সমৃদ্ধ জনপদ।
শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের ছবি কাঠিও ছিল ইরেজ সাহেবদের হাতে। অসাস্থ্যকর ‘কুলি লাইন’ এ চা শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা হল। এই কুলিলাইন শব্দটি বাগান কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করত। শ্রমিকদেরকে শুধু ২৫ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করার জন্য প্রদান করা হত।
হিন্দুরা ছাবালপীর বা খোকা পীর কে বালক কৃষ্ণ বলে মনে করেন। সুন্দরবন এলাকায় যখন ষোড়শ সপ্তদশ শতকে পীরদের দ্বারা ইসলাম ধর্মের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছিল তখন হিন্দুদের বালক কৃষ্ণ মুসলমানদের ছাওয়াল পীরের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়।
‘খুব লড়ি মর্দানি, ওহ তো ঝাঁসি ওয়ালি রানি থি’ না আজ ঝাঁসির রানির গল্প নিয়ে আসিনি। তবে ইতিহাসের পাতাতে তো ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈর মতো আরও অনেক বীরাঙ্গনা রয়েছেন। আজ তাঁদেরই একজনের কথা বলব।
চন্দ্রকেতুগড় স্থানটির কথা আজ অনেকের কাছে সুপরিচিত। উত্তর ২৪ পরগনার বেড়াচাঁপায় রয়েছে রাজা চন্দ্রকেতুর গড় বা দুর্গের ভগ্নাবশেষ। চন্দ্রকেতুর কথা যতটুকু জানা যায় তা লোকমুখে প্রচারিত অলৌকিক নানা কাহিনি।
ডিমাসা, বাঙালি, মণিপুরি আরও অনেক ভাষা ও সংস্কৃতির লোকদেরকে একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে দেখা যায় এই বরাক পাড়ে। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বরাক উপত্যকা তার নিজস্বতা বহন করছে।
লোকগবেষকদের মতে, সুন্দরবনের লৌকিক দেবতা রক্তবর্ণের পঞ্চানন্দ থেকে রক্তান গাজীর উদ্ভব। সুন্দরবন অঞ্চলে যখন ইসলাম ধর্ম প্রভাব বিস্তার করছিল এবং তার ফলে অনেক হিন্দু ইসলাম ধর্মগ্রহণে বাধ্য হচ্ছিল তখন এই রূপান্তর ঘটে।
ইতিহাস বড় মজার বিষয়। ইতিহাস শুধু নাম আর তারিখের তালিকাই ধরে রাখে না, সেই সঙ্গে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে কত বীরদের অমর গাথা। আমাদের বরাক ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে এমন অনেক ক্ষণজন্মা জন্মেছেন যাঁরা আমাদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।