অসমের রাজরিনীতিতে মহিলাদের স্বক্রিয় ভূমিকা আমরা সব সময়ই লক্ষ করে থাকি। স্বরাজ লাভের জন্য অসমের মহিলাদের এগিয়ে আসা এবং দেশের জন্য আত্মবলিদান দিতে তাঁরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।
অসমের রাজরিনীতিতে মহিলাদের স্বক্রিয় ভূমিকা আমরা সব সময়ই লক্ষ করে থাকি। স্বরাজ লাভের জন্য অসমের মহিলাদের এগিয়ে আসা এবং দেশের জন্য আত্মবলিদান দিতে তাঁরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।
সম্রাট জাহাঙ্গীর অবশ্য হাতি আর ধনরত্নের বিনিময়ে রাজ্য ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যশোধরকে। কিন্তু রাজা বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে তীর্থে তীর্থে ঘুরে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন। বৃন্দাবনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় একদিন রাজার মৃত্যু ঘটে। মোগল বাহিনী অবশ্য দীর্ঘদিন উদয়পুরে অবস্থান করেনি।
বিশ শতকের গোড়ায় সারা ভারতে বাঘের সংখ্যা ছিল আনুমানিক চল্লিশ হাজার। ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালু হওয়ার সময় গণনা করে দেখা গিয়েছিল সারাদেশে বাঘের সংখ্যা কমে হয়েছে মাত্র ১৮২৭। বলাবাহুল্য তখন বাঘের পায়ের ছাপ দেখে বাঘ গণনা করা হত।
চঞ্চল শর্মা তাঁর ‘স্মৃতি কথা’য় লিখেছেন, “ফাঁসি কোঠায় কেউ কোনও দিন অসিতকে কালো মুখ করে থাকতে দেখেনি। রোজই গীতা পড়তেন। ফাঁসির আদেশ পাওয়ার পর তাঁর ওজন বেড়ে যায়। ফাঁসির দিন শেষ রাতে উঠে স্নান করে পূজাঅর্চনা এবং গীতাপাঠ করেন। তার পরে তিনি ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।
ত্রিপুরার অপর একজন বীর নৃপতি হলেন অমর মাণিক্য। ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। অমরের রাজত্বকালের প্রায় পুরোটাই ছিল যুদ্ধের উত্তেজনা আর অশান্তিতে পরিপূর্ণ। প্রথম দিকে উপর্যুপরি নানা যুদ্ধে বিজয়ী হলেও শেষে তাঁর করুণ পরিণতি ঘটে।
সুন্দরবনের বাঘ যে অন্য সব বাঘের থেকে স্বভাবে অনন্য তা অনেকেই জানি। কিন্তু কোন কোন ব্যাপারে তারা অন্যদের থেকে আলাদা? আর কেনই বা আলাদা?
কামিনীকুমার চন্দ বলাধন চা বাগানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছিলেন। সেখানকার তিন জন মণিপুরী বাগানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে অভুযুক্ত ছিলেন। কামিনীকুমার তাদের হয়ে কাজ করেছিলেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন সেই মামলার জন্য আর্থিক সাহায্য করেছিলেন।
‘ছেংথুম ফা’র সঙ্গে গৌড়েশ্বরের প্রবল যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধের কারণ হীরাবন্ত খাঁ নামে এক জমিদারের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজার বিরোধ। হীরাবন্তের সঙ্গে খুব দহরম মহরম ছিল গৌড়াধিপতির। হঠাৎ একদিন ত্রিপুরার সৈন্য বাহিনী মেহেরকুল আক্রমণ করে লুঠ করে নিয়ে এল হীরাবন্তের সম্পদ।
আজ পৃথিবীতে যত বাঘ আছে তাদের সবার সাধারণ পূর্বপুরুষ এক লক্ষ আট হাজার থেকে বাহাত্তর হাজার বছর আগে বসবাস করত। তাদেরই কোনও একটি অংশ থেকে সুন্দরবনের বাঘ সৃষ্টি হয়।
দেশ মাতাকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে সমগ্র ভারতের সঙ্গে অসমও স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। যাঁদের আত্মবলিদানে আমরা স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণ করতে পেরেছি তাঁদের আমাদের মনে রাখতে হবে। শুধু ইংরেজরাই তো নয়, আরও অনেক বিদেশি শত্রুরা ভারতকে আক্রমণ করেছে। ইতিহাসের বইয়ে সেই সব পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাছাড়া এক সময় দেশের সব প্রদেশেই ভিন্ন ভিন্ন রাজাদের রাজত্ব ছিল। অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল প্রবল। শত্রুদের হাত থেকে নিজেদের রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য রাজাদের সতর্ক থাকতে হত। দেশ, রাজ্য, নিজের জাতির জন্য...
ত্রিপুরার রাজাগণ চন্দ্র বংশ উদ্ভূত বলে বর্ণিত আছে ‘রাজমালা’য়। চন্দ্র বংশের নৃপতি যযাতি পুত্র দ্রুহ্যকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। মহাবল দ্রুহ্য কিরাত ভূমিতে এসে পরাজিত করেন কিরাত নৃপতিদের। তারপর কোপল নদীর তীরে গড়ে তোলেন ত্রিবেগ নগরী।
রবি ঠাকুরের ছড়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় সেই ছোটবেলা থাকে। সুন্দরবন আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ সারা বিশ্বের কাছে হয়ে গিয়েছে সমার্থক, অবিচ্ছেদ্য।
এক সময় অসমের রাজধানী ছিল শৈল শহর শিলং। এই শহর ও চেরাপুঞ্জী যে কবির রচনায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল তা আমরা জানি। তাঁর লেখায় বরাক উপত্যকার শিলচর শহরের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। অসমের সঙ্গে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক ছিল বটে, তাই তো তিনি তিনবার অসম ভ্রমণে গিয়েছিলেন। প্রথম বার ১৯১৯ সালে, তার পর ১৯২৩ এবং ১৯২৭ সালে। আজ রবিঠাকুরের অসম ভ্রমণের টুকরো টুকরো গল্পই আমরা করব এ পর্বে। গল্পই বটে। সেই সময়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা তো আর আজকের মত এত উন্নত ছিল না। কলকাতা থেকে হাওড়া যেতে হত নৌকা সেতু দিয়ে, যাকে বলা হয় পন্টুন ব্রিজ। বড়...
সমস্ত পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করে পরিকল্পনার সাফল্য। এজন্য সরকারের অর্থ সংস্থানের পাশাপাশি সৎ ও দক্ষ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং দলনিরপেক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা রূপায়ণের প্রতিটি স্তরে সুন্দরবনের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুন্দরবনের নদীতে দিনে দু’বার জোয়ার হয় এবং জোয়ারের স্থায়িত্ব হয় প্রায় ছ’ঘণ্টা। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দু’দিন পর জোয়ার জল সবচেয়ে বাড়ে। আবার জোয়ারের স্রোতও ভাটার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়। ফলে দ্বীপে যে জোয়ার বা ঢেউয়ের ধাক্কা আসে তা অনেকটাই প্রশমিত হয়ে যায় ম্যানগ্রোভ প্রাচীরে।