রবীন্দ্রনাথের পত্র পাবার আগেই বীরচন্দ্র ‘মুকুট’ ও ‘রাজর্ষি’ পড়ে ফেলেছিলেন বলে তাঁর পত্র সূত্রে জানা যায়। ইতিহাস-আশ্রিত গল্প ‘মুকুট’ রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন’রাজর্ষি’র আগে। পরবর্তী সময়ে তিনি তার নাট্যরূপ দেন।
রবীন্দ্রনাথের পত্র পাবার আগেই বীরচন্দ্র ‘মুকুট’ ও ‘রাজর্ষি’ পড়ে ফেলেছিলেন বলে তাঁর পত্র সূত্রে জানা যায়। ইতিহাস-আশ্রিত গল্প ‘মুকুট’ রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন’রাজর্ষি’র আগে। পরবর্তী সময়ে তিনি তার নাট্যরূপ দেন।
ফিঙেরা উঁচু জায়গায় বসে থেকে চারদিকে লক্ষ্য-নজর রাখে। ফলে কোথাও কোনও পাতার আড়ালে শিকার ধরার অপেক্ষায় শিকরে বাজ বা চিল চুপচাপ বসে থাকলে কিংবা আকাশে উড়তে দেখলে ফিঙের নজর এড়ায় না। আর তৎক্ষনাৎ সে অবিকল শিকরে বাজের মতো ‘কিক-কি কিক-কি’ করে ডাকতে শুরু করে। আসলে এটা অন্য পাখিদের সতর্কীকরণের ডাক।
এমনিতে স্ত্রী ও পুরুষ কুবো একইরকম দেখতে হলেও প্রজননের সময় আচরণ দেখে বোঝা যায় কোনটা পুরুষ, আর কোনটা স্ত্রী। পুরুষ কুবো স্ত্রী কুবোকে দেখিয়ে দেখিয়ে তার লম্বা পুচ্ছকে পিঠের কাছে তোলে আর নামায়। সেইসঙ্গে দুটো ডানাকে নীচের দিকে নামিয়ে কিছুটা ছড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে দোলাতে থাকে।
‘রাজর্ষি’র গোবিন্দ মাণিক্যের রাজর্ষি রূপটি এবং তাঁর সেদিনকার রাজধানী উদয়পুর, ভুবনেশ্বরী মন্দির কিংবা দোর্দণ্ডপ্রতাপ চন্তাই রঘুপতি যেন আমাদের হৃদয়ে এক স্হায়ী আসন লাভ করে নিয়েছে। তাই সকলের হৃদয়ে আজ ‘রাজর্ষি’র গোবিন্দ মাণিক্যই উজ্জ্বল।
আহা, কী রঙের ছটা মাছরাঙার! চোখ জুড়ানো, মন মাতানো বাহারি রং। আমি আমাদের পুকুরপাড়ে দু’রকমের মাছরাঙা দেখতাম। বেশি দেখতাম সাদা গলা মাছরাঙা। এর সাইজ কিছুটা বড়, প্রায় শালিক পাখির মতো। ছোট সাইজের আর একটা মাছরাঙা দেখতাম, তবে বেশ কম। বাবার কাছে নাম জেনেছিলাম এর – পাতি মাছরাঙা। এদের পিঠ তুঁতেরঙা। পেটের রঙ কমলা।
১২৮৯ বঙ্গাব্দ। মহারাজা বীরচন্দ্র তাঁর প্রিয়তমা রানি ভানুমতীর অকাল মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান। শোকাকুল হৃদয়ে রাজা কবিতা লিখে শোকভার লাগবে সচেষ্ট। ঠিক এমনই একটা সময়ে মহারাজা বীরচন্দ্রের হাতে আসে তরুণ কবি রবীন্দ্রনাথের ‘ভগ্ন হৃদয়’।
যেহেতু এটি সুন্দরবন এলাকার মধ্যে এবং একসময় নোনা জলের জোয়ার-ভাটা খেলত তাই এখন মিষ্টি জলের জলাশয়ে রূপান্তরিত হলেও অতীতের গেঁওয়া ও হরগোজা গাছ প্রচুর জন্মে রয়েছে এই ঝিলের ধারে। এই ঝিলের মালিকানা এখন আমাদের স্কুলের হাতে। স্বচ্ছ জল। মাঝে মাঝে দ্বীপের মতো কচুরিপানার দল। জলে নানা ধরনের যথেষ্ট মাছ আছে। মাঝে মাঝে বেশ লাফায়। পানকৌড়িকে দল বেঁধে ডুব দিতে দেখি।
মানবিক মূল্যবোধের উপন্যাস ‘রাজর্ষি’কে ত্রিপুরার ঐতিহাসিক উপাদানে পুষ্ট করতে চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি সে জন্য মহারাজা বীরচন্দ্রের কাছে গোবিন্দ মাণিক্যের রাজত্বকালীন ইতিহাস চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে শেষপর্যন্ত কতটুকু ইতিহাস রক্ষিত হয়েছে? ‘রাজর্ষি’ অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন ‘বিসর্জন’ নাটক।
চড়াই পাখি বিভিন্ন রকমের শস্য তো খায় অবশ্যই, তা ছাড়াও বিভিন্ন পোকামাকড়, ফুলের মধু, ছোটখাট পাকা ফল, এমনকি রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া আবর্জনা থেকেও এটা-সেটা বেছে খায়। হ্যাঁ, একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি, ছোটোবেলা দেখতাম রেশন আর মুদি দোকানে চড়াই পাখিদের সংখ্যা সব সময় বেশি দেখা যায়। এই দুই দোকানের আশপাশ চড়াই পাখির কিচিমিচিতে সবসময় সরগরম হয়ে থাকত। অবশ্য এখন আর এদের দেখতে পাই না।
বীরচন্দ্র থেকে বীরবিক্রম-ত্রিপুরার চার মাণিক্য রাজার সঙ্গেই ছিল কবির সম্পর্ক। এক রাজবংশের চারজন রাজার সঙ্গে কবির এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিঃসন্দেহে এক আশ্চর্য ঘটনা। প্রথম যোগাযোগের সময় বীরচন্দ্র প্রৌঢ়, কবি তরুণ বয়স্ক। আর শেষ বেলায় বীরবিক্রম যখন যুবক রাজা কবি তখন প্রৌঢ়। বীরবিক্রমের সঙ্গে কবির বার কয়েক সাক্ষাৎ ঘটেছে। ত্রিপুরার পুরাতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণে কবি রাজাকে পরামর্শ দিয়েছেন।
বাবা টিয়াপাখিটার নাম দিয়েছে পিটু। কী সুন্দর মখমলের মতো নরম সবুজ পালক। ঠোঁটটা টুকটুকে লাল। আমাদের মাটির বাড়ির দালানে পিটুর স্থান হয়েছে। আমাদের সুন্দরবন এলাকায় টিয়াপাখি ছোট থেকেই আমি দেখে আসছি। ঝাঁক ঝাঁক টিয়া ধান পাকলে মাঠে এসে ধান খায়। গাছে পেয়ারা পাকলে ঠুকরে ঠুকরে পাকা পেয়ারা খায়।
ত্রিপুরার রাজা এবং রাজপরিবারের লোকেরা নিজেরাও সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা করেছেন। পঞ্চদশ শতকে মহারাজা ধর্ম মাণিক্য ‘রাজমালা’ রচনা করান। বলা যায়, এর মাধ্যমেই ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাদের সাহিত্য পৃষ্ঠপোষকতার সূচনা ঘটে। ত্রিপুরায় সঙ্গীত চর্চার প্রসারে পরবর্তী রাজা ধন্য মাণিক্য মিথিলা থেকে রাজ্যে কয়েকজন সঙ্গীতজ্ঞ আনিয়েছিলেন।
স্কুলের তিনতলায় পশ্চিম দিকের শেষ রুমে পরীক্ষার নজরদারি করছিলাম। স্কুলের পেছন দিকে আকাশমণি ও জারুল গাছের মাথা তিন তলার জানালা সমান উঁচু। হঠাৎই ‘চ্যা চ্যা কোয়াক’ শব্দে জানালা দিয়ে দৃষ্টি গেল গাছের দিকে। কিছুই দেখা গেল না। পর মুহুর্তেই আবার ‘চ্যা চ্যা কোয়াক’। স্পষ্ট দেখলাম একটা হলদে বিদ্যুৎ যেন ঝলসে গেল জানালার এপার থেকে ওপারে। উৎসুক হয়ে গেলাম জানালার কাছে।
হুচরি অসমের একটি জনপ্রিয় লোক উৎসব। বৈশাখ মাসের বিহু অর্থাৎ রঙ্গালি বিহুতে পালিত হয়। এই অনুষ্ঠান সংক্রান্তির দিন থেকে টানা সাতদিন ধরে চলে। এই অনুষ্ঠানে শুধু পুরুষরাই অংশ নিতে পারে। হরিনামের গুনগান দিয়েই এই উৎসবের শুরু এবং শেষ হয়।
বীরবিক্রম তাঁর রাজত্বকালে ত্রিপুরায় শিক্ষা সম্প্রসারণেও বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠা, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্হাপনের উদ্যোগ, শিক্ষায় উৎসাহদানের জন্য নানা রকম স্কলারশিপ-স্টাইপেন্ড ইত্যাদির প্রবর্তনে রকম বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছিলেন রাজা। শিক্ষাকে আরও ব্যাপক ও অর্থবহ করার জন্যও সচেষ্ট ছিলেন তিনি।