অপারকৌতূহলে জিজ্ঞাসু রামচন্দ্র জানতে চাইলেন, কোন রাজবংশীয় রাজা রাজত্ব করছেন ওই বিশাল নগরীতে? আমার যে ভীষণ কৌতূহল, আমি শুনতে চাই তার কথা।

অপারকৌতূহলে জিজ্ঞাসু রামচন্দ্র জানতে চাইলেন, কোন রাজবংশীয় রাজা রাজত্ব করছেন ওই বিশাল নগরীতে? আমার যে ভীষণ কৌতূহল, আমি শুনতে চাই তার কথা।
মহাভারতের কাহিনি বর্ণনা প্রসঙ্গে কথকঠাকুর সৌতি উগ্রশ্রবা গুরুর প্রতি শিষ্যের আনুগত্য, নিঃশর্ত বিনয় এবং প্রশ্নাতীত সৌজন্যের উদাহরণ হিসেবে তিনজন শিষ্যের বৃত্তান্ত উপস্থাপিত করেছেন।
সগররাজা সিদ্ধান্ত নিলেন, পুত্রদের সফল প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় যজ্ঞকর্তা তিনি এবং পৌত্র অংশুমান সেখানেই অবস্থান করবেন। অশ্ব অনুসন্ধানে যাত্রা শুরু করলেন সগরপুত্ররা।
কুরুপাণ্ডবদের আর এক পিতামহ, যিনি জন্মমাত্রই ঋষিত্ব বরণ করেছেন, গৃহের বন্ধনে ধরা দেননি। কিন্তু গৃহকোণের স্নেহের মায়াডোরটুকু ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারেননি।
হিমালয় এবং মেরুদুহিতা মেনার দুই কন্যা। জ্যেষ্ঠা গঙ্গা এবং কনিষ্ঠা পার্বতী। দেবতারা তাঁদের কোন অভীষ্ট কার্যসিদ্ধির জন্যে পর্বতশ্রেষ্ঠ হিমালয়ের কাছে ত্রিপথগামিনী জ্যেষ্ঠা কন্যা গঙ্গাকে চাইলেন।
মহাভারতের পিতামহ দুজন। একজন — দ্রষ্টা, স্রষ্টা, ধর্মোপদেষ্টা, কবি, ক্রান্তদর্শী, তিনি হলেন মহর্ষি বেদব্যাস। আর একজন প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, যিনি গৃহী হয়েও ষড়রিপুর অন্যতম কামকে জয় করে সংযতেন্দ্রিয় তিনি পিতামহ ভীষ্ম।
অরণ্য, পাহাড়, ভূমি, নদীর মতোই সত্য যে চিরন্তন।তাই নদীর মতোই যুগে যুগে তার পথপরিক্রমা। বিশ্বামিত্রের। সিদ্ধাশ্রমে গমনের কারণ হল যজ্ঞানুষ্ঠানে সিদ্ধিলাভ। সেই কাজে তিনি সফল।
রুগৃহের অস্ত্রাচার্য্য মহান ঋষি, ভরদ্বাজপুত্র দ্রোণাচার্য্য শৈশবে ঋষি ভরদ্বাজের স্নেহচ্ছায়ায় অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অভাব বোধ করেননি। পিতার অভিভাবকত্বে তাঁর যথাযথ শিক্ষাও সম্পন্ন হয়েছিল।
শরজালে তাড়কাকে অবরুদ্ধ করে রামচন্দ্র তার হৃদয় বিদ্ধ করলেন। তাড়কানিধন সম্পন্ন হল। নির্বিঘ্নে রাত্রি অতিবাহিত হল সেই আশ্রমে।
জনমেজয়ের কৌতূহলনিবৃত্তির জন্যে বৈশম্পায়ন পূর্বপুরুষদের জন্মবৃত্তান্ত বর্ণনা করতে লাগলেন। পাণ্ডবদের পর এবার কৌরবদের চিত্তাকর্ষক জন্মকাহিনি।
ঋষি বিশ্বামিত্রের তত্ত্বাবধানে রাক্ষসদের বিরুদ্ধে রামচন্দ্রের অস্ত্র ধারণ ছিল মহাযুদ্ধে রাক্ষসদের বিরুদ্ধে যেন একটি প্রশিক্ষণ। কীভাবে তা সহায়ক হয়ে উঠেছিল ভাবীকালে রামের রাক্ষসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ই তার প্রমাণ।
মহর্ষি শৌনকের অনুরোধে সৌতি উগ্রশ্রবা, জনমেজয়ের সর্পসত্রে বৈশম্পায়নকথিত মহাভারতের কুরুপাণ্ডব বংশধরদের উৎপত্তি বিষয়ে বলতে আরম্ভ করলেন।
অযোধ্যার রাজা দশরথের মনে শান্তি নেই। তিনি অপরিমিত চতুরঙ্গ সেনা বলের অধিকারী, জনপ্রিয়, কুবেরতুল্য ধনবান, শত্রুহীন, ধার্মিক ও জিতেন্দ্রিয়। ইন্দ্রপ্রতিম রাজা সেই অমরাবতীর মতো সার্থকনামা অযোধ্যা নগরীতে রাজত্ব করেন।
কুরুপাণ্ডবের যুদ্ধ বিধ্বস্ত হস্তিনাপুরে কৃষ্ণের বরে জীবিত একমাত্র শিবরাত্রির সলতে ছিলেন উত্তরা এবং যুদ্ধে নিহত অভিমন্যুর পুত্র পরীক্ষিত।
রামচন্দ্রের প্রশাসনকালে ছিল রামরাজত্ব। দশরথের শাসনাধীন অযোধ্যার থেকে তা ব্যতিক্রমী নয়। অযোধ্যাবাসীরা এখন হৃষ্ট, তুষ্ট ও পুষ্ট। সুখী, পরিতৃপ্ত নাগরিকজীবন সেখানে।