খুব স্বাভাবিক একটা সাধারণ দিনও তুষারঝড়ে খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে কোন সময় ছাড়াই। সেই রকমই একটা ঘটনা ঘটেছিল আমাদের সঙ্গেও। আমাদের বলতে, আমি আর আর সহধর্মিনী। গত দু’ তিন দিন ধরেই আবহাওয়ার খবরে বলছে যে, একটা তুষার ঝড় আসছে।

খুব স্বাভাবিক একটা সাধারণ দিনও তুষারঝড়ে খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে কোন সময় ছাড়াই। সেই রকমই একটা ঘটনা ঘটেছিল আমাদের সঙ্গেও। আমাদের বলতে, আমি আর আর সহধর্মিনী। গত দু’ তিন দিন ধরেই আবহাওয়ার খবরে বলছে যে, একটা তুষার ঝড় আসছে।
পার্মাফ্রস্টের ঝামেলাও কম নয়। আলাস্কার বেশকিছু জায়গায় রাস্তা চলে গিয়েছে পার্মাফ্রস্টের ওপর দিয়ে। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের তলায় স্তরে স্তরে মাটি এবং শক্ত বরফ। রেইনবো-কেক যেরকম দেখতে হয়, সেইরম অনেকটা।
এই সব অঞ্চল দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় মনে হয় যেন গিরিখাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওই বরফ এতো বেশি হয় যে স্তুপ গুলোর নিচেটা রাস্তার মধ্যেও অনেকটা দখল করে নেয়। কোনওরকমে রাস্তার দুদিক থেকে দুটো গাড়ি যেতে পারবে।
আমাকে আবার প্রায় এক মাইল পথ পেরিয়ে আমার বিভাগে পৌঁছতে হবে গরম জায়গায় ঢুকতে গেলে। আর এই একবার জমে যাওয়া অবস্থায় অতটা পথ পেরোতে গেলে আমার গলায় যে কি হবে আমি নিজেও জানি না।
মুখের শীতের মাস্কটা একটু ভালো করে নিঃশাস নেওয়ার জন্য এক মিনিটের জন্য খুলে রেখেছি। তার পরে সেটা পরতে গিয়ে দেখি সেটাও পুরো জমে কাঠ। মুখের নিঃশ্বাসে যে ভাপ বেরোচ্ছে সেটা ওই মাস্কের একদিকে জমে বরফ হয়ে গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা প্রায় ১০.৫ কোটি, যেখানে আলাস্কার জনসংখ্যা মাত্র ৭.৫ লক্ষ। অর্থাৎ আলাস্কা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় পরিমাপের নিরিখে প্রায় ৫ গুণ বড় অন্যদিকে আলাস্কার জনসংখ্যা পশ্চিমবঙ্গের ১৪২ ভাগের চেয়েও কম।
গোটা ফেয়ারব্যাঙ্কস শহরের জনঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র তিনশকুড়ি যেখানে কলকাতায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে চব্বিশহাজারেরও বেশি লোক বসবাস করে। অর্থাৎ ফেয়ারব্যাঙ্কসের তুলনাল কলকাতার জনঘনত্ব প্রায় ৮০ গুণ বেশি।
এই পর্বে শীতকালের সেই প্রতিরাতের কথাই বলবো। তীব্র শীত, মাসের পর মাস শুধু অন্ধকার, তার মধ্যে কেমন ভাবে চলে এখানকার আমাদের জীবন সেসব কথাই বলবো এই পর্বে।
জানুয়ারির ১৭-১৮ নাগাদ থেকে ঠান্ডা কমে গিয়েছে অনেকটাই। তাপমাত্রা মাইনাস ২০-এর ওপরে থাকছে প্রায় সবসময়েই। মানে উইসকনসিনের মতোই আর কী।
মুঠোফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে মজার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আসার দু’দিন পর একদিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছি। নতুন এসেছি বলে তেমন কিছুই চিনি না। গুগল ম্যাপ ধরে চালাচ্ছি। যেখানে থামছি ছবি তুলছি।
প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছি। কখনও বাড়িতে ইন্টারনেটের বন্দোবস্ত করার জন্য, কখনও কিছু জিনিস কেনার জন্য বা বিভিন্ন রকম কাজে। সমস্ত রকম সতর্কবাণী উপেক্ষা করেই বেরিয়েছি।
মনে মনে ভাবলাম যে তুমি আমার ঈশ্বরের দূত। তার নাম ডেল। সে বিমানবন্দরে কাজ করে। এই পথে বাড়ি ফেরে। সে এসে আমার চাকার চারিদিক দেখে বলল যে, আর পরিষ্কার করার কিছু নেই।
ইষ্টনাম জপে দিলাম এক্সেলেরেটরে চাপ। কিন্তু প্রকৃতির ক্রিয়া কলাপে ইষ্টেরও হাত থাকে না। এতো কিছুর পরেও যে কে সেই। অর্থাৎ চাকা বনবন ঘুরে যাচ্ছে আর এগোনো বা পিছন যাচ্ছে না এতটুকুও।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাস্তা যদি একেবারে সমতল হয়, বরফ জমে যাচ্ছে একদম মসৃণ হয়ে। সে এমন মসৃণ যে তাতে পাশাপাশি গাছের প্রতিফলন দেখা যায়।
যাই হোক, মনস্থির করে ফেললাম যখন বেরোবো, তখন আর দেরি করে লাভ নেই। ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে ঠিক পৌঁছে যাবো, এরকম ভেবেই আবার বাইরে বেরোনোর জন্য প্রস্তুত হলাম।