তেতো মুখে নিজের রুমে বসেছিল অঞ্জন। উন্মেষাও তার মুখোমুখি বসে। রুম-সার্ভিসে ব্ল্যাক কফির অর্ডার দিয়েছিল উন্মেষা। কফি দিয়ে গিয়েছে। দুজনের হাতেই ধরা কফিমগ ভর্তি কফি। কিন্তু কেউই তাতে চুমুক দিচ্ছিল না।

তেতো মুখে নিজের রুমে বসেছিল অঞ্জন। উন্মেষাও তার মুখোমুখি বসে। রুম-সার্ভিসে ব্ল্যাক কফির অর্ডার দিয়েছিল উন্মেষা। কফি দিয়ে গিয়েছে। দুজনের হাতেই ধরা কফিমগ ভর্তি কফি। কিন্তু কেউই তাতে চুমুক দিচ্ছিল না।
পাভেলের বিপদ হয়েছে শুনে শাক্য হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। সে বেঁচে আছে কি-না জানা নেই। মনে মনে সে প্রার্থনা করছিল যেন পাভেল অন্তত বেঁচে থাকে। তার সঙ্গে শাক্যর প্রতিনিয়ত খিটিমিটি লাগে, ঝগড়া হয়, কিন্তু তা-ও তাকে নিজের ভাইয়ের মতো, বন্ধুর মতো মনে করে সে।
ভবানীবাবুও এবার একগাল হেসে বললেন, “আপনার মেমারি সাংঘাতিক মশাই। একবার দেখাতে যে-ভাবে নাড়ি-নক্ষত্র মনে রেখেছেন, তা প্রশংসা করার মতো। লোকে পথের আলাপ পথেই ভুলে যায়!”
আর্য ফিরে এসেছে—এই কথাটা চাউর হতে দেরি হয়নি রিসর্টে। রিসেপশনিস্ট তাকে ঢুকতে দেখে জিজ্ঞাসা করেছে, রিসর্টের অন্যান্য কর্মচারীরাও তাকে ঢুকতে দেখে অবাক হয়েছে। বেলার দিকে না-হয়ে আর্য যদি রাতের বেলা কিংবা সন্ধ্যের পরও ফিরে আসত, তাহলে একেবারে হুলুস্থুল পড়ে যেত। কালাদেওর কাণ্ডকারখানার পরে সকলেই তাকে তখন ভূত বলে ভাবত।
সত্যব্রত অপেক্ষা করছিলেন। অভিষেক মালকর এটা-ওটা বলছিলেন, আর হাতে-ধরা মোবাইলে সময় দেখছিলেন। সুদীপ্ত ছেলেটা যে কেন এত দেরি করছে? তিনি সত্যব্রতকে বললেন, “চা খাবেন?” “নাহ্! থানায় আসবার আগেই খেয়েছি। এখন আর খাবো না!” সত্যব্রত সবিনয়ে বললেন।
শাক্য অবাক হয়ে গেল। মেয়েটির কি মাথা খারাপ না কি? তাহলে তো তাকে বিশ্বাস করে তার পিছু পিছু এতদূর আসাটা উচিত হয়নি একদমই! সে নুনিয়াকে ডাকতে যাবে, এমন সময় নুনিয়া নিজেই নেমে এল।
পরীক্ষিৎ মাঝেমধ্যে বুদ্ধিমানের মতো কথা বলে। সুদীপ্ত সায় দিল। তার ড্রেসচেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল। সে হাতে ঘড়ি পরছিল। এই ঘড়ি পরাটা তার কাছে অন্যতম জরুরি একটা কাজ। অথচ কাজের চাপে ঘড়ি দেখার সময়ই পায় না বেশিরভাগ সময়।
রিমিতার এক মুহূর্ত লাগল, পূষণের রসিকতা বুঝতে। তারপর সে দুম দুম করে কিল বসিয়ে দিল তার পিঠে, বলল, “তুমি কি আমাকে বোকা পেয়েছ? বইটার নাম—‘আমার মা সব জানে’, এখানে বউ কোথা থেকে এল?”
গাড়িটা অরক্ষিত অবস্থায় রেখে গিয়েছিল জীবন। আসলে ঘটনার আকস্মিকতায় তার মাথায় আসেনি যে, অরক্ষিত গাড়িতে চাবি ঝুলিয়ে চলে গেলে, যে কোনও সময় যে কেউ গাড়িটা নিয়ে কেটে পড়তে পারত। এখানে এমন আকছার ঘটে। আর একবার গাড়ি চালিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্যে ঢুকে পড়লে আর তাকে ধরে কে?
সামনেই শাক্য দৌড়াচ্ছিল। পাভেল তাকেই অনুসরণ করছিল। তবে শাক্যকে দেখে তার মনে হচ্ছিল সে অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না-করেই দৌড়াচ্ছে। সে অন্তত এ ভাবে পারবে না। তার অত স্পিড নেই। সে স্পটে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করতে পারত। শাক্য তাকে বলেনি অনুসরণ করতে।
অভিষেক মালাকরের গলা শোনা গেল, “বুঝতে পারছি সেই ভোর থেকে যা ধকল গিয়েছে তোমার, তুমি খুব টায়ার্ড। কাল রাতেও তো তোমার ডিউটি ছিল। কিন্তু আমি এমন হতভাগ্য যে তোমাকে একটু বিশ্রামের সুযোগ করে দেবো, সে আমার কপালে নেই। সে জন্য বাধ্য হয়েই…”, কথা শেষ করেন না মালাকর। একটা অসহায়তার আক্ষেপ শোনা যায় তাঁর গলায়।
অঞ্জন অস্থিরভাবে বলল, “সত্যি অরণ্য, আমার আর ভালো লাগছে না। কেমন যেন একটা ধাঁধার মধ্যে ঘুরপাক খেয়েই চলেছি। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার। পুলিশ যা পারে করুক, যাকে অপরাধী হিসেবে পাকড়াও করে করুক, সে যদি আমিই হই, আমাকেই ধরুক। কিন্তু ধরুক। প্রতিমুহূর্তের মানসিক যন্ত্রণার হাত থেকে অন্তত মুক্তি পাব!”
অবাক হয়ে গেল শাক্য। মেয়েটি, যে নিজের অদ্ভুত নাম বলছে, ‘নুনিয়া’, সে জানে যে, শাক্য কোন্ কারণে এখানে এসেছে? এ কী থট রিডিং জানে না কি?
শাক্য চাইছিল যেভাবেই হোক, লোকটা ধরা পড়ুক। তাহলেই জানা যাবে, কী উদ্দেশ্য নিয়ে লোকটা এখানে এসেছিল। সে কি তাদের উপর নজর রাখবার জন্য এসেছিল, না কি নিজের প্রয়োজনেই এসেছিল? এই প্রশ্নের উত্তরের উপর নির্ভর করছে ভাবনার গতি কোন দিকে যাবে, সেই বিষয়টি।
অঞ্জন ক্যান খুলে এক চুমুক খেয়ে বলল, “তোমাকে খুব টেনশড্ লাগছে অরণ্য ! এনিথিং রং?” তাড়াতাড়ি নিজেকে গুটিয়ে নিতে চায় অরণ্য। মুখে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলে, “কিসের টেনশন? কেনই বা টেনিশন করতে যাবো?”