বোধিসত্ত্ব সেই জন্মে বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তের রাজপুরোহিত। তিনি দানধ্যানে অতুলনীয়, পঞ্চশীলের পালনে একাগ্রচিত্ত। তাঁর গুণমুগ্ধ রাজা অন্যান্য ব্রাহ্মণদের তুলনায় তাঁকে অধিক সম্মান, মর্যাদা প্রদর্শন দেখাতেন।
বোধিসত্ত্ব সেই জন্মে বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তের রাজপুরোহিত। তিনি দানধ্যানে অতুলনীয়, পঞ্চশীলের পালনে একাগ্রচিত্ত। তাঁর গুণমুগ্ধ রাজা অন্যান্য ব্রাহ্মণদের তুলনায় তাঁকে অধিক সম্মান, মর্যাদা প্রদর্শন দেখাতেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রজনীকান্ত সেনের পরিচয়, আলাপ, পত্র-বিনিময়, সাহিত্যকেন্দ্রিক ও সাঙ্গীতিক আলোচনা বহু চর্চিত। কিন্তু চর্চার আড়ালে রয়ে গেছে তাঁদের গানে একে-অপরের সুরের আনুগত্যর কথা, যে আনুগত্যের ছায়া পড়েছে তাঁদের সঙ্গীত ভাবনাতে, এমনকি তাঁদের গানে কথার মালা গাঁথাতেও!
দেখেই চিনেছি। হাতে নোটবুক আর পেন্সিল। একমনে কী যেন লিখছেন দাঁড়িয়ে, আমাদের পটলডাঙার মোড়ে।
শুধোলাম, “হ্যাল্লো! বস! আপনিই সেই তিনি না? সুকুবাবুর পদ্যে… আচ্ছা, মশাই, ফড়িংয়ের কটা ঠ্যাং, আর আরশোলা কী কী খায় এসব জেনে আর জানিয়ে লাভ কিছু পেয়েছেন?”
ব্যক্তিমানুষের সমাজজীবন কিংবা রাষ্ট্রজীবনে যে কর্তব্য সমীচীন, যা উত্তীর্ণ করে, সার্থক করে সেই কর্তব্যের ইঙ্গিত থাকে গল্পগুলিতে। মানুষের জন্য রচিত গল্পের কেন্দ্রে থাকে মানবচরিত্রগুলিই। সেই এক বৃ্দ্ধ পিতা তার পুত্রদের শিক্ষা দেবেন বলে অনেক লাঠি একসঙ্গে ভাঙতে দিলেন, লাঠি তো ভাঙলো না, কিন্তু একটা লাঠি অনায়াসেই ভেঙে গেল। জাতকমালার আজকের কাহিনির কেন্দ্রে আছেন দেবতারা, শিক্ষাটা মানুষের জন্যই, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
বোধিসত্ত্ব সেই জন্মে বানররূপী, গায়ে তাঁর হাতির বল। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আকারে-প্রকারে ও শক্তিতে তিনি অসাধারণ হলেন। তখন তিনি বাস করতেন এক নদীর তীরে। সেই নদীর মধ্যস্থলে একটি আম-কাঁঠালের গাছে ঘেরা একটি দ্বীপ ছিল, আর সেই নদীতীর এবং দ্বীপের ঠিক মধ্যস্থ ছিল নদীগর্ভস্থ এক পর্বত। বোধিসত্ত্ব প্রতিদিন নদীতীর থেকে একলাফে পর্বতে, সেখান থেকে আরেক লাফে দ্বীপে এসে নামতেন। সেখানে সারাদিন পেটভরে ফলাদি খেয়ে সন্ধ্যায় একই পদ্ধতিতে নদীতীরে ফিরে যেতেন।
পড়ার ঘরটায় জানালার ওপাশে মাধবীলতার ঝাড় ঘন হয়ে আছে, জানলায় এখন খানিকটা রোদ জমাট বাঁধছে। চিরাগের এখন ক্লাস নাইন, অনুযোগের সুরে বলে, “স্যর, আজকেও পড়তে হবে, এগারোটা থেকে ম্যাচ ছিল।” তপনের হাসি পায়, সকলেই আজ মাঠে নামবে নাকি। গম্ভীর হয়ে চশমাটা সোজা করে নিয়ে বলে, “তুমি তো অল্টারনেটিভ ডেটের কথা জানাওনি আগে থেকে, জানালেও অবশ্য আমি সময় করতে পারতাম কীনা বলতে পারি না। আজ ছুটির দিন, বাড়িতে বসে পড়াশোনার অনেক সময় পাবে।”
সেবার গান্ধারদেশের তক্ষশিলায় বোধিসত্ত্ব এক প্রসিদ্ধ আচার্য হয়েছেন। পাঁচশত শিষ্য তাঁর আশ্রয়ে বিদ্যালাভ করতো। একদিন তিনি শিষ্যদের শুষ্ক কাঠ আনতে পাঠালেন অরণ্যে। সেই কাঠে আশ্রমের রন্ধনাদি কাজ হতো। সকলে বনে গিয়ে কাঠ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তাদের দলে একটি শিষ্য অত্যন্ত অলস ছিল।এই আলস্য নিয়ে শাস্ত্রে বহু উপদেশ দেওয়া হয়েছে। রাজা থেকে প্রজা, আলস্যে আক্রান্ত হলে তারা নিজেদের ক্ষতিই করে থাকে। তাই বলা হয়, উদ্যোগী মানুষ-ই জয়লাভ করে। অবশ্য, কচ্ছপ আর খরগোশের সেই বিশ্রুত গল্পটিতে কচ্ছপ শেষমেষ জয়ী হয়েছিল। কিন্তু,...
সেবার বোধিসত্ত্ব কপিজন্ম লাভ করেছেন। অরণ্যে আশি হাজার বানরের দলপতি হয়ে একটি গভীর ও বিস্তৃত অরণ্যে বসবাস করতেন। এই অরণ্যে এক সরোবরে একটি জলরাক্ষস বাস করতো।
জাতকের গল্প গুলি আমাদের ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শ থেকে উচ্চতর জীবনবোধে উত্তীর্ণ করে। দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম, ব্যক্তিগত ধ্যান-ধারণায় জারিত আপাত সত্য, মিথ্যা, ভ্রান্তি, বিচ্যুতি, দ্বেষ কিংবা সংঘর্ষের পরেও যে শাশ্বত অনুভূতি ও উপলব্ধির ক্ষেত্রটি থাকে, জাতকমালার কাহিনীগুলি তার কাছেই পৌঁছে দিতে চায় তার পাঠক কিংবা শ্রোতাকে। জাতকের এই জগৎ তাত্ত্বিক নয়, প্রায়োগিক।
বড়মামা সিগারেট খেতেন না। সেটের মধ্যে উত্তমকুমার তাঁর দামি ঘড়ি ৫৫৫-এর প্যাকেট বড়মামার হাতের ধরিয়ে দিতেন। অগ্নীশ্বর ছবিতে প্রথমদিকে যে বাংলো দেখানো হয়েছিল সেই বাড়ির খুব সুন্দর সাজানোবাগান, মানুষের ভিড়ের চাপে ছারখার হয়ে গিয়েছিল। উত্তমকুমার নিজে বাড়ির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলেন। মালিক বলেছিলেন, এটাই তাঁর জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
প্রতিবেদনের শুরুতে এমন একজন কালজয়ী অভিনেতা মায় কালচারাল আইকনকে নিয়ে এহেন বেমানান শব্দের চয়ন, মনকে বেসুরো করে দেয় বৈকি! কিন্তু নির্মম সত্য হল অরুণ চট্টোপাধ্যায়কে একা একাই উত্তমকুমার-এ পৌঁছতে হয়েছিল। যে ২৪ জুলাই নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ভাবে ৪৩ বছর ধরে মাতামাতি চলছে তারও নির্মাতা একলা উত্তমই।‘এ বঙ্গের সমতলে তৃণলতা গুল্মদলে’ আর একজন শক্তিমান অভিনেতার মৃত্যুদিন ওই ২৪ জুলাই; কিন্তু একমাত্র পেটেন্ট বোধহয় তাঁরই নেওয়া। লেখার মুখড়াটা এ ভাবে সারলেও অন্তরা সঞ্চারীতে আছে তত্ত্বের আলোছায়া।
আজকের কাহিনিটি গল্পসাহিত্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ। লোভী, অসত্ কিন্তু মুখোশপরা জীবের সঙ্গে যথার্থ শক্তিমান, প্রাজ্ঞের দ্বন্দ্বে অশুভের জয়ই তো মানুষ বরাবর চেয়েছে। বাস্তব যাই হোক, মনের অবচেতনায় সেই আকাঙ্ক্ষাটি হয়তো সমাজমানসে থেকে যায়। তার প্রতিফলন পড়ে তার সাহিত্যে, নৈতিক আদর্শের ভাবলোকটিতেও। জাতকমালার আজকের কাহিনিটিতে আছে এক বকধার্মিক, তার প্রতারণার শিকার হয় কারা আর কেই বা সেই জাল ছিন্ন করে, শত্রুকেও নিধন করে চিরাচরিত “শান্তির ললিতবাণী”র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সফল হয়?
একদিন পাকশালায় মত্স্য-মাংসের ব্যঞ্জন প্রস্তুত হচ্ছে। কাকটি মনে মনে ভাবল, এইসব খাদ্য তার চাই। এইসময় পায়রা তাকে এসে বলল “চল যাই, ঘুরে এসে খানিক।” কাক বলল “ভাই, আজ অজীর্ণ হয়েছে বড়। তুমি যাও, ঘুরে এসো।” পায়রা চলে গেলে কাক ভাবল, “এখন আমার পথ নিষ্কণ্টক। আমি শত্রুমুক্ত। এখন আমি ইচ্ছেমতোই স্বাদু মত্স্য-মাংস খাব।”
পৌরাণিক ভূবর্ণনায় মেরুপর্বতের উল্লেখ আছে। মেরুপর্বত আকারে বিপুল। এর আকার প্রকারের বর্ণনা উচ্চকিত, পৃথিবীর ঠিক মাঝখানটিতে অবস্থান করে ভূ-ভারের সাম্য নাকি বজায় রাখে এই পর্বত। সংস্কৃত কাব্যে অত্যুচ্চ, অতিমানবিক বিষয়ের প্রসঙ্গ আসলে মেরুপর্বতের অনুষঙ্গ টানা হয়। প্রবল চরিত্রগুণ, অমানুষিক বল কিংবা দেবতুল্য মহিমার আধার যাঁরা তাঁরা একমাত্র তুলনীয় হতে পারেন এই পর্বতের সঙ্গে।
আজ জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। এদিন মূর্তি রথে চড়েন। পথ দিয়ে রথ টেনে নিয়ে যায় ভক্তের দল। কবি বলেছেন, ওই মূর্তি কিংবা রথ অথবা পথটাই নাকি নিজেকে দেবতা ভেবে খানিক আত্মতুষ্টি পায়, অন্তর্যামী আড়াল থেকে হাসেন। দেবতা এদিন রথে নাকি অগণিত ভক্তকুলের মাঝে নাকি এসব থেকে নিরাপদ দূরে অন্তরতর হয়ে থাকেন বলা কঠিন, তবে রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, তার একটি সাংস্কৃতিক রূপ আছে, তার নেপথ্যে আছে দার্শনিক তাত্পর্য ও তাত্ত্বিক পরিসর, কেবল দেবতার আরাধনাতেই তার শেষ নয়, দেবতাও এখানে ততটা প্রকট নন, যতটা তাঁর রথ।